সম্পাদকীয় মানবজাতির সত্যিকার মোক্ষম অস্ত্র একটিই, সেটি হলো হাসি। -মার্ক টোয়েন।

ইউনিয়নে উপশহর

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৬-২০১৯ ইং ০১:৩৪:২৯ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত

উপশহর গড়ে উঠছে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে। এটা হচ্ছে সরকারের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা। গ্রামকে শহরে পরিণত করার যে ঘোষণা দিয়েছে সরকার, তারই অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে উঠবে একটি করে উপশহর। এটা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সরকার আশা করছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং তাদের জীবনমান উন্নত হবে। দেশের ৮৭ হাজার তিন শ’ ১৬টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ইউনিয়নের সংখ্যা চার হাজার পাঁচ শ’ ৫৪টি। এই সব ইউনিয়নের প্রতিটি হেড কোয়ার্টারে গড়ে উঠবে উপশহর। যেখানে থাকবে সরকারী বিভিন্ন ধরণের সেবাপ্রাপ্তীর সুবিধা, বিপণী বিতান ইত্যাদি। অর্থাৎ যেসব কাজে মানুষ শহরে যেতে বাধ্য হয় সেইসব সুবিধা যাতে তারা ইউনিয়নেই পেয়ে যায় সেই ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী জন¯্রােত ঠেকানোর পাশাপাশি গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষে ইউনিয়ন উপশহর গড়ে তোলা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে বিজ্ঞ মহলের অভিমত। তবে তারা বলছেন এই উপশহর হতে হবে সুপরিকল্পিত। তাদের মতে, একটি মডেল উপশহরে থাকবে একটি ভূমি অফিস, সেখানে একজন সহকারী কমিশনার বা সাবরেজিস্ট্রার থাকবে জমিজমা সংক্রান্ত সব কাজ করার জন্য।
এছাড়া, মডেল উপশহরে আরও যেসব সুবিধা থাকা জরুরী তা হলো-সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করার জন্য সাব অফিস, একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টার, ধর্মীয় উপাসনালয়, খেলার মাঠ, পশু চিকিৎসাকেন্দ্র, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট, বাজার সংস্কার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান স্থাপন, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। দেশের ছয়শ’ ৮৩ টি ইউনিয়ন শহর অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এগুলো রয়েছে প্রকল্পের বাইরে। বাকি তিন হাজার আটশ’ ৭১টি ইউনিয়নে উপশহর গড়ে তুলতে ব্যয় হবে ৩৮ হাজার সাতশ’ দশ কোটি টাকা। সরকার আশা করছে আগামী চার বছরে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
গ্রাম প্রধান এই দেশের গ্রামীণ জীবন ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। অবকাঠামো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সার্বিক উন্নয়নে এখন অনেক এলাকাই শহরের চেয়ে পিছিয়ে নেই। আবার অনগ্রসর অঞ্চলের পরিমাণও কম নয়। কিন্তু যতোই অগ্রগতি হোক, মানুষের নাগরিক সুবিধা বাড়েনি বলে তাদের শহর মুখী ¯্রােত থামে নি। মূলত সেই প্রেক্ষাপটেই সরকার গ্রামকে শহরে ‘রূপান্তরিত’ করা কিংবা ইউনিয়নে উপশহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। আর এটা সত্যি যে, সুষ্ঠু উন্নয়ন পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে গ্রামের চিত্র। একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশে গ্রাম-শহরের পার্থক্য ঘুচে যাবে, মানুষ শান্তিতে স্বস্তিতে নিজ নিজ এলাকায় বসবাস করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT