ধর্ম ও জীবন

 ইয়াতিমের খেদমতের অশেষ মহিমা

আব্দুল হান্নান তুরুকখলী প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৬-২০১৯ ইং ০১:৪১:৪৩ | সংবাদটি ২০০ বার পঠিত

‘ইয়াতিম’ আরবি শব্দ। এর মানে পিতামাতাহীন ছেলেমেয়ে, অসহায়, অনাথ। পিতামাতা মারা গেলে ছেলেমেয়েরা অভিভাবকহীন হয়ে যান, অসহায় হয়ে যান। এই অসহায় ছেলেমেয়েদের সেবা করার এবং তাদের সহায় সম্পদের সংরক্ষণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআন-হাদিসে ইয়াতিমের সেবা করার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইয়াতিমের সম্পদের সংরক্ষণ এবং তাদের সেবা করার ও তাদের প্রতি সর্বদা সদ্ব্যবহার করার গুরুত্বারোপ করে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছেÑ
১. লোকে তোমাকে ইয়াতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বল, তাদের সুব্যবস্থা করা উত্তম। তোমরা যদি তাদের সাথে একত্রে থাক তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ জানেন কে হিতকারী এবং কে অনিষ্টকারী। আল্লাহ ইচ্ছা করলে এ বিষয়ে তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতে পারতেন। বস্তুত আল্লাহ প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২০)
২. যখন তাকে পরীক্ষা করেন তার রিযিক সংকোচিত করে, তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক আমাকে হীন করেছেন। না, কখনই নহে। বস্তুত তোমরা ইয়াতিমকে সম্মান করনা এবং তোমরা অভাবগ্রস্তদেরকে খাদ্য দানে পরস্পরকে উৎসাহিত করনা এবং তোমরা উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পদ সম্পূর্ণরূপে ভক্ষণ করে ফেল এবং তোমরা ধন-সম্পদকে অতিশয় ভালোবাসো। (সূরা : ফজর, আয়াত : ১৬-২০)
৩. তুমি কি জানÑ বন্ধুর গিরিপথ কী? ইহা হচ্ছেÑ দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার্য দান ইয়াতিম আত্মীয়কে, অথবা দারিদ্র্য নিষ্পেষিত নিঃস্বকে। (সুরা : বালাদ, আয়াত : ১২-১৬)
৪. তিনি কি তোমাকে ইয়াতিম অবস্থায় পান নাই আর তোমাকে আশ্রয় দান করেন নাই? (সূরা : দুহা, আয়াত : ৬)। ৫. সুতরাং তুমি ইয়াতিমের প্রতি কঠোর হইওনা এবং প্রার্থীকে ভৎর্সনা করিওনা। (সূরা : দুহা, আয়াত : ৯-১০)। ৬. স্মরণ কর, যখন ইসরাঈল সন্তানদের থেকে অঙ্গিকার নিয়ে ছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো ইবাদত করবে না, মাতাপিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম ও দরিদ্রদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে এবং মানুষের সাথে সদালাপ করবে, সালাত কায়েম করবে ও যাকাত দেবে। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক লোক ব্যতিত তোমার বিরুদ্ধাভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলে। (সূরা : বাকারা, আয়াত : ৮৩)। ৭. পুণ্য আছে কেহ আল্লাহ, পরকাল ফেরেস্তাগণ, সমস্ত কিতাব এবং নবীগণে ঈমান আনয়ক করলে এবং আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, অভাবগ্রস্ত, পর্যটক, সাহায্য প্রার্থীগণকে এবং দাসমুক্তির জন্য অর্থদান করলে, সালাত কায়েম করলে ও যাকাত প্রদান করলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূর্ণ করলে, অর্থ-সংকটে, দুঃখ-ক্লেশে, সংগ্রাম-সংকটে ধৈর্য ধারণ করলে। ইহারাই তারা যারা সত্যপরায়ণ এবং ইহারই মুত্তাকী। (সূরা : বাকার, আয়াত : ১১৭)। ৮. লোকে কী ব্যয় করবে সে সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে বল, যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় করবে তা পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরদের জন্য। উত্তম কাজের যা কিছু তোমরা করনা কেন আল্লাহ সে সম্বন্ধে অবহিত। (সূরা : বাকারা, আয়াত : ২১৫)। ৯. ইয়াতিমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ সমর্পন করবে এবং ভালোর সাথে মন্দ বদল করবে না (ইয়াতিমের ভালো মাল তোমার মন্দ মালের বিনিময়ে গ্রহণ করবে না)। তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদ মিশিয়ে গ্রাস করো না; ইহা মহাপাপ। (সূরা : নিসা, আয়াত : ২)। ১০. তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতিম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে। ইহাতে পক্ষপাতিত্ব না করার অধিকতর সম্ভাবনা, অর্থাৎ অন্ধকার যুগে ইয়াতিম মেয়েদের বিবাহ ও মহর ইত্যাদির ওয়ালী (যেমন চাচাত ভাই) অবিচার করতো। ইয়াতিমের সম্পর্কে ইনসাফের জোর তাগিদ নাজিল হওয়ায় সাহাবায়ে কেরামগণ ইয়াতিমের ব্যাপারে বিব্রত বোধ করলে এই আয়াত নাজিল করে বলা হলো যে, ইয়াতিম মেয়ের ব্যাপারে ইনসাফ করতে পারবে না। এই আশঙ্কা থাকলে ইনসাফের ভিত্তিতে অন্য মেয়েদেরকে অনুর্ধ চার পর্যন্ত বিবাহ করতে পার। (সূরা : নিসা, আয়াত : ৩)। ১১. ইয়াতিমদেরকে যাচাই করবে, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয় এবং তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দেবে। তারা বড় হয়ে যাবে বলে অন্যায়ভাবে উহা তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলিওনা। যা অভাব মুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণে ভোগ করে। তোমরা যখন তাদেরকে তাদের সম্পদ সমর্পন করবে তখন সাফী রাখিও। হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬)। ১২. সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয় (যারা উত্তরাধিকারী নয় এমন আত্মীয়), ইয়াতিম এবং অভাবগ্রস্ত লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে উহা হতে কিছু দেবে এবং তাদের সাথে সদালাপ করবে। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮)। ১৩. তারা যেন ভয় করে যে, ইয়াতিম সন্তান পিছনে ছেড়ে গেলে তারাও তাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হতো। সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঙ্গত কথা বলে, অর্থাৎ ইয়াতিমের তত্ত্বাবধায়কদেরকে সতর্ক করা হচ্ছেÑতোমার মৃত্যুর পর তোমার সন্তান অসহায় অবস্থায় পড়লে তুমি কেমন উদ্বিগ্ন হতে। তা ভেবে দেখ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৯)। ১৪. আর ঐ প্রাচীরটি ইহা ছিলো নগরবাসী দুই পিতৃহীন কিশোরের, ইহার নি¤œদেশে আছে তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিলো সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং তোমার প্রতিপালক দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং তারা তাদের ধনভান্ডার উদ্ধার করুক। (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৮২)। ১৫. ইয়াতিম বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুপায়ে ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হইওনা এবং প্রতিশ্রুতি পালন করিও; প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে। (সুরা : বনী ইসরাইল, আয়াত : ৩৪)।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT