ধর্ম ও জীবন

বেকারদের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা

মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৬-২০১৯ ইং ০১:৪২:৫৭ | সংবাদটি ১৮৫ বার পঠিত

ইসলাম কর্মক্ষমদের বারবার কর্মের প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। কর্মের উদ্দীপনা জুগিয়েছে। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেনÑ‘যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে, তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ, আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করতেন।’ (বোখারি)
বাংলাদেশের পরিসংখ্যানে দেশের শিক্ষিত যুব-বেকারত্বের সংখ্যাটাই প্রকট। আর তরুণ-যুবকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কম হওয়ায় বর্তমান চাকরির বাজারে তাদের চাহিদাও কম। ফলে অধিকাংশ নিম্নবিত্ত পরিবারের যুবকের হাতে বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি না থাকায় এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের অভাবে তারা এক ধরনের সংকটে ভোগে। নিজেদের গতর খেটে পেট চালাতে হয় বলে তাদের মানসিক শক্তিও থাকে কম। ইসলাম এসব কর্মক্ষম যুবককে হীনম্মন্যতা থেকে তাদের মুক্তি দিয়েছে। সোচ্চার কণ্ঠে ইসলামের ঘোষণা হলোÑআবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেনÑ‘শ্রমজীবীর উপার্জনই উৎকৃষ্টতর, যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়।’ (আহমাদ, মাজমাউজ জাওয়ায়িদ)।
গতর খেটে উপার্জন করা কোনো সম্মানহীনতার কিছু নয়। এটি কোনো লজ্জাজনক কিছুও নয়। বরং হালালভাবে উপার্জন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজগুলোর একটি। ইসলামের দ্বিতীয় স্তরের ফরজও এটি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে একবার জিজ্ঞেস করা হলোÑ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? জবাবে তিনি বললেনÑনিজের শ্রমলব্ধ উপার্জন।’ (আহমাদ, তাবারানি, মাজমাউজ জাওয়ায়িদ)।
এমন অসংখ্য জায়গা থেকে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি উদ্ধৃত করা যাবে। ইসলাম কর্মক্ষমদের বারবার কর্মের প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। কর্মের উদ্দীপনা জুগিয়েছে। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেনÑ‘যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে, তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ, আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করতেন।’ (বোখারি)।
ইসলাম শুধু হালাল-হারামের সীমানা স্থির করে দিয়েছে। তারপর এই বলে সুস্থ-সবল পুরুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। রাসুলুল্লাহু (সা.) বলেছেনÑ‘হালাল রিজিক অন্বেষণ দ্বীনের (প্রথম স্তরের) ফরজগুলোর পর অন্যতম ফরজ।’ (মনজুর নুমানি, আলফিয়াতুল হাদিস, বাইহাকি সূত্রে, হাদিস : ৬৬৮; কানজুল উম্মুল, হাদিস : ৯২৩১)।
এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি মূলনীতি বলে দিয়েছেন। কিছু বিষয় আছে, যা ইসলামের প্রথম স্তরের ফরজ ও অবশ্য পালনীয় বিষয়। যেমনÑনামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। এগুলোকে আমরা ইসলামের রুকন ও ভিত্তি বলি। প্রিয় নবী (সা.) এ হাদিসে বলেছেন, প্রথম শ্রেণির এই ফরজগুলোর পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তরের ফরজ হলোÑহালাল রিজিক অন্বেষণ করা। হাদিসটির শব্দ সংক্ষিপ্ত হলেও বাণী গভীর ও ব্যাপক।
‘ফরজ’ কথাটি ইসলামের একটি নিজস্ব পরিভাষা। যার অর্থÑধর্মের আইনে যা অবশ্য পালনীয়। এর অর্থ হলোÑহালাল রিজিক উপার্জনের জন্য আমরা যেসব কাজকর্ম করে থাকি, যেমন ব্যবসাবাণিজ্য, কৃষিখামার, চাকরিবাকরিÑএসবই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বীনের দাবিতে পালনীয়। তাই কেউ যদি দ্বীনের প্রথম স্তরের ফরজগুলো আদায় করার পর জীবিকার প্রয়োজন সত্ত্বেও হালাল রিজিক অন্বেষণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, তাহলে সে ইসলামের ‘ফরজ বিধান’ উপেক্ষা করার অপরাধে অপরাধী হবে। ইসলাম মূলত এ মূলনীতির মাধ্যমে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হতে উৎসাহিত করেছে। অথবা বলা যায়, পরনির্ভরতার লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ‘যে ব্যক্তি নিজের হাতে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তার সব পাপ মোচন করে দেওয়া হয়।’ (আল-মুজামুল আওসাত : খ. ৭, পৃ. ২৮৯)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও এরশাদ করেছেনÑ‘যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে, এ পৃথিবীতে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ গ্রহণ করে না।’ (আল-মুজামুল কাবির : খ. ২০, পৃ. ২৬৭)।
অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ‘কেউ রশি নিয়ে পাহাড়ে এসে কাঠ সংগ্রহ করে, নিজ কাঁধে বহন করে নিয়ে বিক্রি করল, এর দ্বারা সে অমুখাপেক্ষিতা অর্জন করল, এ কাজ তার জন্য উত্তম মানুষের কাছে ভিক্ষা করার চেয়ে। ভিক্ষা করলে মানুষ তাকে কিছু দিত বা দিত না।’ (আল-আদাব লিলবায়হাকি, পৃ. ৩১৫)।
আবু সাঈদ খদুরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ‘যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন দ্বারা নিজে কিংবা আল্লাহর যে কোনো সৃষ্টজীবনকে খাওয়াল অথবা পোশাক পরাল, তাহলে এটা তার জন্য জাকাতের সমপরিমাণ সওয়াব বয়ে আনবে।’ (আল-আদাব লিলবায়হাকি, পৃ. ৩১৫)।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জমিনের গুপ্তধন সন্ধান করো।’ ইমাম আহমদ বলেন, এর মানে হলোÑভূমি চাষাবাদ করা, ফলফসল ফলানো। (আল-আদাব লিলবায়হাকি, পৃ. ৩১৬)।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেনÑ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি : ১২০৯)।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT