সম্পাদকীয়

জলবায়ুর বিচিত্ররূপ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৬-২০১৯ ইং ০০:৩০:৩৯ | সংবাদটি ৮৫ বার পঠিত


বহু প্রত্যাশিত বৃষ্টি হয়েছে; কিন্তু উত্তাপ কমেনি। ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ট জনজীবন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রিকে পৌঁছে গেছে। দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হলেও তাপমাত্রায় কোন প্রভাব পড়েনি। বিগত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এমন অবস্থা চলছে। শুধু তাই নয়, এ বছর বলা যায় ফাল্গুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। চৈত্র, বৈশাখ কিংবা জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে মাঝে মধ্যে বৃষ্টিপাত হলেও জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের মাত্রা একেবারেই কমে গেছে। অথচ এখন আষাঢ়; ভরা বর্ষা। এই সময়ে একটানা বর্ষণে দিনমান একাকার হয়ে যাওয়ার কথা। সূর্য ঢাকা থাকবে ঘনকালো মেঘে। কখনও ক্ষণকালের জন্য উঁকি দেবে সূর্য মেঘের ফাঁকে। পুকুর, নদী, ডোবা থাকবে পানিতে টইটম্বুর। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঋতুচক্রের সব হিসাব-কিতাব পাল্টে গেছে। সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রস্তুতি নেয়াই সবচেয়ে জরুরি।
আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণ সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বায়ুম-লে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পট হয়ে উঠেছে বলেই আবহাওয়া এমন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বিরূপ প্রভাবও পড়ছে প্রকৃতিতে। নাশার প্রতিবেদনে বলা হয় গ্রিণ হাউসের ক্ষতিকারক প্রভাবে প্রতি বছর বাড়তে থাকে বৈশ্বিক উষ্ণতা। আর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলার পাশাপাশি বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে যে তথ্যটি বেরিয়ে আসে তা হলো, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমানে উষ্ণতম অঞ্চলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর কয়েক থেকে শুরু হয়েছে এই ধারা। গত বছর মার্চ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো বলা যায় অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এবারও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক অংশে কম। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। আর কম বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রায়ও তারতম্য লক্ষ করা যাচ্ছে।
পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাবে অনাবৃষ্টি কিংবা অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তার মাত্রা আগামীতে আরও বেড়ে যাবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীগণ। সুতরাং এর বিরূপ প্রভাব থেকে কীভাবে বাঁচা যায় সেই পথ খুঁজে বের করতে হবে। পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব মানুষের ওপর যতোটা পড়েছে, তার চেয়ে বেশি পড়েছে পরিবেশের ওপর। কৃষি উৎপাদনেও বিপর্যয় নেমে আসবে অদূর ভবিষ্যতে। এখন হচ্ছে অনাবৃষ্টি; আগামীতেও যে বৃষ্টির মওসুমেই অনাবৃষ্টির কবলে পড়তে হবে না, সেই নিশ্চয়তা নেই। তাই সব ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT