সম্পাদকীয়

নারীদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৬-২০১৯ ইং ০০:২২:৪৬ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত


নারীদের পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস তৈরীতে সহায়তা দেবে সরকার। দেশের এক লাখ অতি দরিদ্র নারীকে দেয়া হবে এই সহায়তা। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় এই কর্মসূচী পরিচালনা করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর। ইতোমধ্যেই দেশের সব জেলায় একটি করে উপজেলা নির্বাচন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে দেশের ৬৪টি উপজেলাকে এই কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন শ’ ১৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক নারী মাসে ৩০ কেজি করে পুষ্টিকর চাল ও একশত ৫০ টাকা করে পাবেন। আর অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে এই টাকা মোবাইলে ক্যাশ ট্রান্সফার করা হবে। চলতি বছর থেকে শুরু হবে এই কার্যক্রম এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
মূলত গ্রামীণ অতিদরিদ্র নারীদের স্বার্থেই নেয়া হয়েছে এই কর্মসূচী। সাধারণত এই গ্রামীণ নারীরাই পুষ্টিসহ উন্নত জীবন ধারণের সব ধরণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দারিদ্র্য ও সচেতনতা দুটিই এর জন্য দায়ী। বিশেষ করে সামর্থ্যরে অভাবে বেশীরভাগ নারীই পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে পারছেন না। সরকার এদের কথা ভেবেই নিয়েছে এই উদ্যোগ। এর আওতায় সংশ্লিষ্ট নারীদের চাল ও টাকা প্রদানের পাশাপাশি জীবিকায়ন প্রশিক্ষণও দেয়া হবে, যাতে তারা নিজেরা কিছু করতে পারেন। বর্তমানে অবশ্য অনুরূপভাবে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচী চালু রয়েছে। যেমন-ভারনারেবল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট (ভিজিডি) একটি বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী ১৯৭৫ সালে ত্রাণ কার্যক্রম হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল নাগাদ দেশের আটটি উপজেলায় ‘ইনভেস্টমেন্ট কম্পোনেন্ট ফর ভারনারেবল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে বাছাইকৃত আট হাজার নারীকে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল, জীবিকায়ন প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। এর সফলতার ভিত্তিতেই এখন নেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচী।
ভিজিডি, ভিজিএফ, টেস্ট রিলিফ, বিধবা ভাতা, প্রসূতি ভাতা ইত্যাদি চলমান কর্মসূচী গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে। সেই সঙ্গে পুষ্টিকর খাদ্যশস্য প্রদান কর্মসূচীও গ্রামীণ নারীদের জীবনমান উন্নতিতে অবদান রাখবে। অবশ্য সাফল্য নির্ভর করছে কতোটুকু স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার ওপর। কারণ বর্তমানে চলমান সামাজিক নিরাপত্তামূলক প্রায় সব কর্মসূচীতেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অসহায় দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দ অর্থ-সম্পদ লুটপাটের ঘটনা প্রায়ই মিডিয়ায় আসে। তাই এই ধরণের সব প্রকল্পেই যাতে দুর্নীতিবাজ লুটপাটকারীদের আচড় না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT