সম্পাদকীয় মানুষ যা লাভ করেছে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে সুন্দর স্বভাব। -আল হাদিস

সাক্ষরতায় গতি নেই

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৭-২০১৯ ইং ০৩:৩৭:২৪ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

গতি নেই সাক্ষরতায়। সাক্ষরতা প্রকল্পে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই। নানামুখী জটিলতায় আটকে আছে সাড়ে চারশ’ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্পটি। প্রথমেই অনুমোদন পাওয়ার তিন বছর পর প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা হয়। গত পাঁচ বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। মাঠ পর্যায়ে স্বাক্ষরতা বৃদ্ধিতে বিশেষ কোন অগ্রগতি হয়নি। তবে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নি¤œ আয়ের পরিবারকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘শিখন’ প্রায় ৬৪ শতাংশ স্থাপন করা হয়েছে স্থানীয় লোকজনের বাসস্থান বা খোলা জায়গায়। আর শিক্ষার উপকরণ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বিভাগের মূল্যায়ন শাখা (আইএমইডি) সম্প্রতি এই তথ্য দিয়েছে।
সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন তাকেই বলা হয় সাক্ষরতা। অবশ্য দিন দিন এর পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন শুধু স্বাক্ষর জ্ঞান থাকলেই সাক্ষরতা বলা যায় না। আজ থেকে প্রায় সোয়াশ’ বছর আগে ১৯০১ সালে লোক গণনার সময় সাক্ষরতা সর্বপ্রথম ব্যবহার করা হয়। প্রথমে নিজের নাম লিখতে পারাটাকেই সাক্ষর বলা হতো। পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের দিকে লেখাপড়ায় দক্ষতাকে সাক্ষরতা বলে অভিহিত করা হতো। এর দুই দশক পর পড়া ও লেখার দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে সহজ হিসাব নিকাশের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকেই সাক্ষর হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরবর্তীতে সাক্ষরতার দক্ষতা হিসেবে যুক্ত হয় সচেতনতা ও দৃশ্যমান বস্তুসামগ্রী পঠনের ক্ষমতা, যোগাযোগের দক্ষতা, ক্ষমতায়নের দক্ষতা, জীবন নির্বাহী দক্ষতা, প্রতিরক্ষায় দক্ষতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ইত্যাদি। আমাদের দেশে প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতার হার সরকারী হিসেবে প্রায় ৭২ ভাগ। আর ইউনেস্কো বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৩ শতাংশ। অন্যান্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বাংলাদেশে কমপক্ষে তিন কোটি ৩৫ লাখ মানুষ নিরক্ষর। এই জনসংখ্যাকে সাক্ষরতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। চারশ’ ৫২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০১৪ সালে। পাঁচ বছর মেয়াদের প্রকল্পের কাজ গত বছর (২০১৮) জুন এ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু শেষ না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে এখন জুন ২০১৯ এ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩৬ শতাংশ।
সাক্ষরতা আন্দোলন শুরু হয়েছে বলা যায় স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই। একেক সময় একেক নামে পরিচালিত হয় এই কর্মসূচি। বয়স্ক শিক্ষা, গণশিক্ষা ইত্যাদি নামে পরিচালিত সাক্ষরতা আন্দোলনের সাফল্য সন্তোষজনক নয়। অতীতে বিভিন্ন মেয়াদে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো- এখন পর্যন্ত শতভাগ সাক্ষরতা অর্জিত হয়নি। সরকারি-বেসরকারি সূত্রে সাক্ষরতা অর্জনের যে পরিসংখ্যান আসছে, তা-ও পুরোপুরি সঠিক নয়। অপরদিকে শতভাগ শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেও এক পর্যায়ে নিরক্ষরতা দূর হবে। কারণ সেটা হলে অন্তত কেউ নিরক্ষর হয়ে বেড়ে উঠবে না। কিন্তু তা-ও সম্ভব হচ্ছে না। এখন সাক্ষরতা অর্জনে চলমান কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ব্যাপারে যথাযথ তদারকিও বাড়াতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT