মহিলা সমাজ

বাবা

মানষী চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৭-২০১৯ ইং ০০:০৬:৪৯ | সংবাদটি ৭৩ বার পঠিত

দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন কখনো বোঝতে পারি নি। জীবনের শুরু থেকে খুব আদরের ছিলাম মা-বাবা, ভাইবোনের। ছোট ছিলাম সবার। বাবা আমায় নাম ধরে ডাকতেন না। ডাকতেন মা বলে। হয়তো আমার মাঝে তাঁর মায়ের ছায়া দেখতেন। যার জন্যই মা ডাকতে মন চাইতো তাঁর।
কেনো একদিনের কথা। তখন ছিলাম খুব ছোট। বোধের ছিলো অভাব। একটি সমস্যা হয়েছিলো বাবার অফিসে। তাই চিন্তিত মা-বাবাকে দেখে বুঝে উঠতে পারলামনা কী হয়েছে। কেবলই অশান্তিতে ভোগছিলো মন। তারপর অশান্ত মন নিয়ে ব্যকুল হয়ে বললাম চিন্তা কী? তখন তাদের চিন্তা ভরা মনে হাসির ছোয়া দেখেছিলাম। হয়তো আমার অবুঝ কথার জন্যই। তারপর আবার বলে উঠলাম চিন্তা কী বল না। আমাকে একটু দাও অমিও চিন্তা করি, তখন তোমাদের একটু হলেও তো চিন্তা কম করতে হবে!
তখনই বাবার চেহারা থেকে উধাও হয় চিন্তার ছায়া। আর হেসে উঠলেন। বললেন পাগলি মা আমার, চিন্তা কি কাউকে দেওয়া যায় রে। এটা তো ওমনি ভিতর থেকে আসে! তখন আমার খুব কান্না পেয়েছিলো।
কিছুদিন পর চুরি হয়েছিলো আমাদের বাসা। খুব ভয় পেয়েছিলাম আমি। এতো ভয়, যা বলার মতো নয়। রাত যতো গভীর হচ্ছে, আমার ভয় আরো বাড়ছে। ঘুম আসছে না। একবার মায়ের কাছে যাই, আর একবার বাবার কাছে। কিছুতেই কমছে না ভয়। তারপর বাবাকে একটা বুদ্ধি বললাম। বললাম যে, বাবা তুমি একটা শার্ট পরো, আর আমি সে শার্টের ভিতরে ঢুকে যাবো। তারপর তুমি বোতাম লাগিয়ে দেবে। চোর এলেও আমাকে দেখবে না। আর আমার ভয়ও করবে না।
আমার কথা শুনে সবাই খুব হাসতে লাগলো। তারপর বাবা বললেন, মারে চোর মানুষকে নিয়ে যায় না। জিনিস নিয়ে যায়। আর আমি ঘুমাবো না। তুই ঘোমা আর আমার যখন ঘুম আসবে, তখন আমি তোকে ডাক দিয়ে তুলবো।
যাই হোক শান্তি পেলাম। আর ভয় নেই। সকাল হলো ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে দেখি বাবা ঘুমিয়ে আছেন, কই আমাকে তো ডাকলেন না। তখন বাবাকে ডাক দিয়ে বললাম আমাকে ডাকলে না। তখন তিনি বললেন, আমি চোরকে না করে দিয়েছি যাতে সে আর আসে না। তখন আমি বললাম চোর কী বলছে? বাবা বললেন, ঠিক আছে আর আসবো না।
বাবা আজ বেঁচে নেই। কিন্তু তিনি আছেন হৃদয়ে। তাঁর ভালোবাসা, তাঁর ¯েœহ স্মৃতি হয়ে, সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে। বাবা, তুমি খুব ভালো থেকো।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT