সম্পাদকীয়

অপরাধ জগতে কিশোররা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪১:০৭ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত


অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। অল্প বয়সী সন্তানরা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধী চক্রে। স্কুলের গন্ডি পেরোনোর আগেই অনেকে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। জানা গেছে, ইভটিজিং সহ মহল্লা ভিত্তিক বখাটেপনায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। সেই সঙ্গে তারা গ্রুপ করে পরিকল্পিত হত্যাকা-েও লিপ্ত হচ্ছে। সহপাঠীকে অপহরণ করে দাবী করছে মুক্তিপণ। তাদের দ্বারা ধর্ষণের মতো অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। তাছাড়া ছিনতাই, চুরি, মাদক পাচার ইত্যাদি অপকর্মতো আছেই। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন জরুরি তেমনি দরকার পারিবারিক ও সামাজিক শাসন এবং সচেতনতা।
আমাদের সমাজে নানা ধরনের অপরাধ-অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে। খুন, ধর্ষণ, মারামারি, সহিংসতা, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি অপকর্ম ঘটছে অহরহ। এতে যেমন বড়রা সম্পৃক্ত, তেমনি ছোটরাও। মানে অপ্রাপ্ত বয়স্ক, কিশোর অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সীরাও অপকর্ম করছে। সত্যি বলতে কি যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আজকে যেসব কিশোর নানা অপকর্ম করছে, তারাই বড় হয়ে ‘শীর্ষ’ সন্ত্রাসী বা অপরাধী হিসেবে আবির্ভূত হবে। যে বয়সে ছেলেরা লেখাপড়া করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, সেই বয়সেই তারা সমাজ বিরোধী কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। অনেকের মতে মা বাবা সন্তানদের সঠিকভাবে পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ না করায় শিশুরা বখাটেপনায় জড়িয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের কুপ্রভাব। তারা ইন্টারনেট থেকে নানা অপরাধের খোরাক পাচ্ছে। সেখান থেকে তারা শিখে নিচ্ছে অপকর্মের নানা কৌশল। এদের একটা অংশ মাদকাসক্তও হচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়েও এরা নানা অপরাধ করে চলেছে। এভাবে বিস্তার ঘটছে কিশোর অপরাধের।
বছরে সারাদেশে কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হচ্ছে পাঁচ শতাধিক। আর দুই শতাধিক হত্যা ও ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটছে, যেখানে জড়িত কিশোর অপরাধী। অপরাধীর তালিকায় অল্প বয়সীদের নাম আসছে অনেক আগে থেকেই। তবে গত প্রায় তিন দশক ধরে খুন ধর্ষণের মতো ঘটনায় আসছে স্কুল পড়–য়াদের নাম। কিশোর অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি রয়েছে পরিবারেরও। কিশোর অপরাধ নির্মূলে পরিবার, বিদ্যালয়, তথা সমাজের সর্বত্র যথাযথ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। শিশু কিশোররা যাতে অস্থির পরিবেশে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে সকল মহলকে। আর যারা পথশিশু ছিন্নমূল, এদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ এদের মধ্য থেকেই সন্ত্রাসী-অপরাধীর জন্ম হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT