ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস

লায়লা আরজুমান্দ প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪৮:৪৫ | সংবাদটি ১৪৩ বার পঠিত

দুধ নিয়ে তৈরি হয়েছিল নতুন আইন
১৮৫০ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে শিশুরা ডায়রিয়াসহ নানা খাদ্যবাহিত রোগে ভুগে মারা যেতে লাগল। পরে জানা যায়, শুধু নিউ ইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য জায়গাগুলোতেও দেখা দিচ্ছে একই সমস্যা। কোনোভাবেই সেই অসুস্থতা কমানো যাচ্ছিল না। কিন্তু মৃত্যুর কারণ কী, সেটি ছিল অজানা।
দেশজুড়ে যখন এটি নিয়ে তোলপাড়, তখন নিউ ইয়র্ক অ্যাকাডেমি অব মেডিসিনের কারণ হিসেবে ংরিষষ সরষশ-কে দায়ী করে। ১৮৫৮ সালে ফ্রাঙ্ক লেস্ট লি নামে এক সাংবাদিক এটি নিয়ে বিশদ আকারে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই বছর অন্তত আট হাজার শিশু মারা গিয়েছিল এই দুধ খেয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে খাদ্য নিয়ে সব থেকে বড় কেলেঙ্কারি বলা হয় একে।
এই দুধের নাম দেওয়া হয়েছিল ংরিষষ সরষশ। বিভিন্ন মদ তৈরির কারখানায় ব্যবহার করা হতো নানা ধরনের শস্য। মদ তৈরির পর সেখানে থেকে যেত উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য। বেশি পরিমাণে দুধের জন্য সেটাই খাওয়ানো হতো গবাদিপশুকে। তা ছাড়া, এই খাবার খেয়ে গরু বেশ শান্ত থাকত। একই জায়গায় পড়ে থাকত সারা দিন। তাই এই দুধের নাম দেওয়া হয়েছিল ংরিষষ সরষশ। শুধু গরুকে সুইল খাওয়ানোই নয়, গরুকে রাখা হতো নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও। যে জায়গায় গরুর দুধ দোয়ানো হতো এবং দুধ যে কনটেইনারে রাখা হতো, তা ছিল আরও অস্বাস্থ্যকর।
এই ডেইরি খামারগুলো এতটাই অমানবিক ছিল, পশুকে একবার সেখানে বাঁধা হলে জীবনে সে আর আলোর মুখ দেখত না। সেখানেই তার মৃত্যু হতো। শরীরে ঘা, হাতে-পায়ে ক্ষত, সারা শরীর মশা-মাছি দিয়ে আচ্ছাদিত হয়ে থাকত সেই গবাদিপশুগুলোর। এমনকি গরুর যদি উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও না থাকত, তাকে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে তার দুধ নেওয়া হতো।
সব থেকে ভয়ংকর কথা হলো, দুধে মেশানো হতো হাত-পা ভেঙে গেলে যে প্লাস্টার ব্যবহার করা হয়, সেই গুঁড়ো। সেই সঙ্গে দুধে একটু ঘনত্ব আর হলদেটে ভাব ও পরিমাণ বাড়ানোর জন্য মেশানো হতো ভাঙা ডিম, ময়দা, পানিসহ অন্যান্য উপাদান। এতগুলো ধাপ পার হয়ে পাস্তুরাইড সেই দুধ বাজারে আসত পিওর কান্ট্রি মিল্ক নামে। ভাবুন তাহলে কী পরিমাণ ভেজাল ও দূষণ ছিল সেই পিওর দুধে। তবে সেই ডেইরি ফার্মের মালিকরা দাবি করেন, তাদের দুধ সম্পূর্ণ নিরাপদ। শিশুদের জন্য সব থেকে ভালো ও পুষ্টিমানসম্পন্ন। সে সময় সাধারণ জনগণ ফুঁসে উঠলেও দেশটিতে তখনো ছিল না এটি নিয়ে কোনো বিশেষ খাদ্য আইন। তাই তাদের মালিকরা রয়ে যান বহাল তবিয়তে। তবে এটি নিয়ে তোলপাড় হওয়ার পর দেশটিতে প্রথম ১৮৬২ সালে দুধ নিয়ে একটি আইন পাস হয়।
দুধে মেলামাইন, দুজনের মৃত্যুদ-
২০০৮ সালের শেষদিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে একের পর এক শিশু অসুস্থ হতে থাকে। মারা যায় অন্তত ছয় শিশু। কী কারণে শিশুরা অসুস্থ ও মারা যাচ্ছে, তা উদ্ঘাটন করতে গিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ দেখতে পায়Ñ মূলত শিশুখাদ্য গুঁড়ো দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মারাত্মক মেলামাইন মেশানো হয়েছে। আর ওই বিষাক্ত মেলামাইনযুক্ত দুধ খেয়েই অন্তত তিন লাখ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। যাদের বেশির ভাগই কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। অন্তত ৫৪ হাজার শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। চীন সরকারের হিসাব অনুসারে, দেশটির গুঁড়ো দুধ উৎপাদনকারী ২২ প্রতিষ্ঠানের ৬৯টি আইটেমেই বিষাক্ত উপাদান মেলামাইন পাওয়া গিয়েছিল। মূলত দুধে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি দেখানোর জন্যই মেশানো হয়েছিল এই রাসায়নিক পদার্থ। এমনকি দুধ ছাড়াও সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর আইসক্রিম আর চকলেটেও পাওয়া যায় মেলামাইন। এ ঘটনার পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চীন থেকে বিশেষ করে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল। এই তালিকায় ছিল বাংলাদেশও।
এ ঘটনায় দেশটির সরকার জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রাথমিকভাবে এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত ৫০ জনকে। পরে এদের মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদ- দেয় দেশটির আদালত। আরও বেশ কয়েকজনকে ৫ থেকে ১৫ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
গুঁড়ো দুধ খেয়ে বাচ্চাদের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার খবর অনেক আগেই জানতে পেরেছিল দুধ কেলেঙ্কারির মূলহোতা সানলু কোম্পানি। যে প্রতিষ্ঠানের ৪৩ শতাংশের মালিকানা ছিল নিউজিল্যান্ডের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপের। সেই কোম্পানিকেও দেউলিয়া বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যে দুজনকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছিল, তারা ছিল সানলু কোম্পানির কর্মকর্তা। আর সানলুর প্রধানকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ২৯ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়।
পণ্য প্রত্যাহারের আদেশ
২০১৭-১৮ সালে সাউথ আফ্রিকান অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে লিস্টেরিয়া ভাইরাস। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় দুইশোর বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয় হাজারেরও বেশি। বলা হয়ে থাকে, লিস্টেরিয়া ভাইরাস আক্রান্ত বিশ্বের সব থেকে বড় মহামারিটি হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রতিদিনের খাদ্য থেকে এই ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে। মূলত দেশটির টাইগার ব্র্যান্ড প্রক্রিয়াজাত মাংসের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল রোগটি, যা ছিল রেইনবো চিকেন লিমিটেডের একটি সাব ব্র্যান্ড। এই প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি প্রথম আবিষ্কার করেন চার্লিস হ্যান ও স্টিভ বিকো নামে দুই চিকিৎসক। তারপর সেটি তারা জানান সাউথ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কমিউনিকেবল ডিসিসেসকে (এনআইসিডি)। তারপর তারা এটি নিয়ে গবেষণা শুরু করে এবং জানায় রোগীদের ৫৯ শতাংশ গুয়েটাং অঞ্চলের, ১২ শতাংশ পশ্চিম কেপ টাউন, ৭ শতাংশ কাওয়াজুলু নাটাল অঞ্চলের বাসিন্দা। তবে প্রাথমিকভাবে এটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি খাদ্যে কীভাবে এই ভাইরাস আসে। তবে ধীরে ধীরে এটি প্রকাশ পেতে থাকে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক প্রেস কনফারেন্সে এর জন্য দায়ী করেন টাইগার ব্র্যান্ডের প্রক্রিয়াজাত মাংসকে। অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই মাংস প্রক্রিয়াজাত করার ফলেই ছড়িয়েছে লিস্টোরিয়া ভাইরাস। তবে টাইগার ব্র্যান্ড এই ঘটনার দায় নিতে অস্বীকার করে। এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের সিইও বলেন, এই মৃত্যুর সঙ্গে তাদের কোম্পানির খাদ্যের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা এ ঘটনায় দুঃখিতও নয়।
এ ঘটনার পর দেশটির সরকার বাজার থেকে টাইগার ব্র্যান্ডসহ রেইনবো লিমিটেডের যত ধরনের খাদ্যপণ্য ছিল, সব তুলে নিতে আদেশ জারি করে। ক্ষতিপূরণের মামলাও হয় টাইগার ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে। দেশটির হাইকোর্ট আদেশ দেয় প্রত্যেক দাবিদারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। টাইগার ব্র্যান্ডের খাদ্য যেসব দেশে রপ্তানি করা হতো, সেগুলোও তারা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দেশটির শেয়ার মার্কেটে টাইগার ব্র্যান্ডের শেয়ারের দাম পড়ে যায় ৭ শতাংশ। যার ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে ম্যাপল লিফ কোম্পানি
২০০৮ সালে কানাডায় লিস্টোরিয়া ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে মারা যায় ২২ জন। আর এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল মূলত দেশটির ম্যাপল লিফ ফুডস কোম্পানির খাবারের মধ্য দিয়ে। আর সেই খাবারটি হলো প্রক্রিয়াজাত পাতলা মাংসের সøাইস। মূলত দেশটির দুপুর বা রাতের খাবারের জন্য সেটি খুবই জনপ্রিয়। নিজেদের পণ্য দিয়ে এই রোগ ছড়ানোর কথা জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে সব পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়। শুধু ওই নির্দিষ্ট পণ্যই নয়, এই কোম্পানির ছিল আরও ২২২টি পণ্য। যার সবই তারা বাজার থেকে তুলে নিয়েছিল জনস্বার্থে। করা হয় সংবাদ সম্মেলন। সেখানে কোম্পানির সিইও মাইকেল ম্যাকচেইন বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমাদের খাবার এই রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যারা অসুস্থ হয়েছেন এবং যারা মারা গেছেন তাদের প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমরা গভীর ও আন্তরিক সহানুভূতিশীল।’
এখানেই শেষ নয়, এই কোম্পানির বিরুদ্ধে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলাও করেছিল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তবে সেটি পরে ২৭ মিলিয়ন ডলারে নিষ্পত্তি করে আদালত এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, সে সময় পূরণ হওয়ার আগেই ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
এরপর ম্যাপল লিফ আবার চালু হয়। কারখানাটিকে নতুন করে নিয়ম কোড মেনে করা হয় পরিষ্কার। নিয়োগ দেওয়া হয় বিশেষজ্ঞ। পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোম্পানির প্রতিটি কর্মচারীকে দেওয়া হয় বিশেষ ট্রেনিং। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাপল লিফ ফুড কোম্পানির এই অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানান। সেই সঙ্গে এই রোগ যাতে আবার না ছড়াতে পারে, সে জন্য সব প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিকে সচেতন হতে আহ্বান জানান।
চাপের মুখে পড়েছিল জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
২০১১ সালে জার্মানিতে ছড়িয়ে পড়ে ভিন্ন ধরনের এক অসুখ। হামবুর্গের মতো একটি বিশ্বখ্যাত শহরের হাসপাতাল মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে রোগীতে ভরে যায়। সাধারণ নাগরিকদের প্রতি রক্তদানের আবেদন জানাতে হয়। তাহলে বুঝুন এই ব্যাকটেরিয়া কী পরিমাণ ভয়ংকর। প্রায় চার হাজার লোক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, এদের মধ্যে মারা গিয়েছিল ৫৩ জন।
গবেষণা করে দেখা যায়, এই অসুখ ছড়িয়ে পড়েছিল একেবারে নতুন ধরনের এক জীবাণু ইকোলাই থেকে। ব্যাকটেরিয়াজনিত এই রোগটি যে অজানা, তা কিন্তু নয়। প্রায় ৭০ ধরনের ইকোলাই এরই মধ্যে পরিচিত। তবে নতুন এই ইকোলাই দৃশ্যত তারই দুটি স্ট্রেইন বা প্রজাতির সংকর এই নতুন ইকোলাই। এটি কিডনি বা মূত্রগ্রন্থিতে যে মারাত্মক রোগটির অবতারণা ঘটায়, তার নাম হলো হেমোলিটিক উরেমিক সিনড্রোম বা ‘হুস’। পাকস্থলীর দেয়াল ফুটো করে রক্তে ঢুকে রক্তকোষ এবং রক্তের প্লেটলেটগুলোকে ধ্বংস করে। সেগুলোর টুকরো কিডনি বা মূত্রগ্রন্থিতে ঢুকে রক্ত পরিশোধনের ক্ষমতা নষ্ট করে।
কিন্তু এই জীবাণুর উৎস কোথা থেকে সেটি শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলল, স্পেন থেকে যে শসাগুলো তাদের দেশে প্রবেশ করেছে, সেটির মধ্য দিয়েই আসলে ছড়িয়েছে এই রোগ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যা পাওয়া গেল, তা এই ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিলল না। শসা উৎপাদনকারী দেশ স্পেনের খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। কারণ অনেক দেশই তাদের কাছ থেকে আর শসা নিতে আগ্রহী ছিল না। শসা রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের পরীক্ষা করে জানা গেল, এই ভাইরাস ছড়িয়েছে জার্মানি থেকেই। আর এবার অপরাধী সাব্যস্ত হলো সিড স্প্রাউটস বা শিমের অঙ্কুর।
এটি পাওয়া গিয়েছিল উত্তর জার্মানির ল্যুনেবের্গ শহরের কাছে বিনেনব্যুটেল গ্রামের একটি ছোট্ট খামার থেকে। এদের কাজই হলো এ ধরনের সালাদ স্প্রাউটস চাষ করে সেগুলো কাছাকাছি খুচরো গ্রাহকÑ যেমন রেস্তোরাঁ ইত্যাদি এবং শাকসবজির বড় পাইকারদের কাছে বিক্রি করা। পাওয়া গেল প্রমাণও। বন্ধ করে দেওয়া হলো সেই খামার। নিয়ম না মেনে, অস্বাস্থ্যকর উপায়ে শিম অঙ্কুরিত করার কারণেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। তা ছাড়া খামারের ভেতরের তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কি না এই জীবাণু ছড়ানোর জন্য খুবই আদর্শ। জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রধান রেইনহার্ড বারগার বলেন, ‘এই ব্যাকটেরিয়া শিমের অঙ্কুর থেকেই ছড়িয়েছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কয়েক দিন পর বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় অঙ্কুরিত শিম না খেতে।
কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই স্পেনের শসাকে দায়ী করার জন্য সে সময় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বেশ চাপের মুখে পড়েছিল। তা ছাড়া রোগের কারণ ও উৎস বের করতে প্রায় মাসখানিকেরও বেশি সময় নিয়ে ফেলেছিল। তত দিনে রোগ ছড়িয়ে গিয়েছিল মহামারি আকারে। তারপর নতুন করে খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন ও কঠোর হলো জার্মানি। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোও যাতে থাকে, কঠোর নজরদারির বিষয়ে নিশ্চিত করা হলো সেটিও।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাঙালির ইতিহাসে দুঃখের দিন
  • ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা
  • সাংবাদিকদের কল্যাণে সিলেট প্রেসক্লাব
  • প্রাকৃতিক মমিতে নির্মমতার ইতিহাস
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় ও সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যের তাঁত শিল্প
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান
  • ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস
  • বর্ষাযাপন : শহর বনাম গ্রামগঞ্জ
  • বর্ষা এলো বর্ষা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • নবীদের স্মৃতিচিহ্নে ধন্য যে জাদুঘর
  • দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র
  • ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়
  • বিলুপ্তির পথে গরীবের ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ মাটির ঘর
  • হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ
  • তালের পাখা প্রাণের সখা
  • Developed by: Sparkle IT