সম্পাদকীয়

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৭-২০১৯ ইং ০০:২৩:৪২ | সংবাদটি ১৬৬ বার পঠিত


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমেনি। বেসরকারি সংস্থা টিআইবি এক গবেষণা প্রতিবেদনে একথা বলেছে। তারা বলে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার নীতি ও চর্চা’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবের কারণে জাতীয় শুদ্ধাচারের কোনো কোনো কৌশলের চর্চা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। প্রশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুদ্ধাচার কৌশলে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত ১১টি কৌশলের মধ্যে পাঁচটি কৌশলের চর্চা সন্তোষজনক। তিনটি কৌশলের চর্চা এখনও শুরুই হয়নি।
সরকারি অফিস আদালতে চলছে দুর্নীর্তির মহোৎসব। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একদিকে সরকারের সম্পদ লুটপাট করছে, অপরদিকে জনগণের পকেট মারছে। সরকারি কোন উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা অন্য কোনো খাতে বরাদ্দ অর্থের একটা অংশ লুটপাট হবেই, এটা যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে যুগ যুগ ধরে। সরকারের উচ্চ মহল থেকে শুরু করে নিচের স্তর পর্যন্ত সবাই এব্যাপারে অবগত। তাই অর্থ বরাদ্দের সময়ও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বরাদ্দ করা হয়। অর্থাৎ ব্যাপারটি এরকম যে, চোর-বাটপাররা লুটপাট করার পর যা থাকে তাই দিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেই হলো। আবার অনেক সময় ভুয়া প্রকল্প ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমেও আত্মসাৎ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অপর দিকে সরকারি অফিস আদালতে বিভিন্ন কাজ নিয়ে আগত সাধারণ মানুষের হয়রানী দিন দিন বেড়ে চলেছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেক সময় ঘুষ ছাড়া কারও সঙ্গে কথাই বলেন না। ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না মাসের পর মাস। অনেকে ঘুষ দিয়েও কাজ আদায় করতে পারছেন না। অতীত থেকে চলে আসছে এই দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্য। এতোদিন এই অবাধ দুর্নীতি-ঘুষের আদান প্রদানকে ‘জায়েজ’ করার জন্য অনেকেই বলতো- ‘বেতন কম সংসার চলে না, তাই বাড়তি আয় করতে হয়।’। কিন্তু সরকার বেতনভাতা শতভাগ বৃদ্ধি করার পরও দুর্নীতি কমেনি। বরং এখন বেড়েছে ঘুষের মাত্রা, বেড়েছে লুটপাটের পরিমাণ। রীতিমতো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে দুর্নীতিবাজরা।
অতীতে কোনো সরকার সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতনভাতা একসাথে শতভাগ বৃদ্ধি করেনি। এই কারণে অতীতে যারা ছিলো ‘ছা পোষা কেরানী’ -তারা এখন মাসে কমপক্ষে ‘অর্ধলক্ষপতি’। এটা বৈধ বেতন। আর অবৈধ আয়ের তো কোনো হিসাব নেই। আর- উচ্চ পদস্থদের ক্ষেত্রে এলাহি কা-! কর্মকর্তা লেবেলের চাকরিজীবীরই তো লাখ টাকা বেতন। আর আরও একটু ওপরে গেলে তো এই অংকটা হবে কয়েক লাখ, এবং সেই সঙ্গে রয়েছে কোটি টাকা দামের গাড়ি সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। এতো কিছু পাওয়ার পরও তাদের ঘুষ দুর্নীতির লোভ সংবরণ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে তারা আরও আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। কারণ হচ্ছে এদের রক্তে মাংসে মিশে গেছে দুর্নীতি। এদের বেতনভাতা আরও দ্বিগুণ করলেও তারা চুরি করবেই, জনগণের পকেট কাটবেই। কারণ ‘চোর নাহি শুনে ধর্মের কাহিনী’। সুতরাং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দরকার কার্যকর অভিযান।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT