সম্পাদকীয় ধংস এমন প্রতিটি লোকের জন্য, যে ধিক্কার দেয় ও নিন্দা করে বেড়ায়। -আল কুরআন

ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪০:০৩ | সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত

ব্যাংকের সার্ভিস চার্জে বিরক্ত গ্রাহকেরা সেবার নামে নানাভাবে সার্ভিস চার্জ কাটছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের সেবা পেতে গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অথচ কোন কোন খাতে কী পরিমাণ সার্ভিস চার্জ কাটা হচ্ছে তার কোন তথ্য দেয় না ব্যাংকগুলো। এভাবে গ্রাহকদের একাউন্ট থেকে জানা অজানা খাতে সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়ার ফলে অনেক সময় গ্রাহকের জমাকৃত মূল টাকাও আর অক্ষত থাকেনা; এখান থেকে কেটে নেয়া হয় সার্ভিস চার্জ। একাউন্টের বিপরীতে যে সুদ দেয়া হয় গ্রাহকদের তারও কোন হিসাব পাওয়া যায় না। অর্থাৎ এই সুদও কেটে নেয়া হয় সার্ভিস চার্জ হিসেবে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোর মতো এতো বেশি সার্ভিস চার্জের খড়গ পৃথিবীর অন্য কোন দেশে নেই। এখানে বড় ঋণের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ কিছুটা কম হলেও ছোট ঋণের ক্ষেত্রে দিতে হয় হরেক রকম সার্ভিস চার্জ।
ব্যাংকগুলো নানা খাতে কাটছে সার্ভিস চার্জ। বিভিন্ন ধরনের হিসাব পরিচালনা, ঋণ গ্রহণ ইত্যাদি খাতে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে একটি সঞ্চয়ী হিসাব পরিচালনায় বছরে একজন গ্রাহকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ব্যয় হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। হিসাব খোলার সময়ই চেক বই নেয়ার জন্য দিতে হয় পৃথক চার্জ। হিসাব বিবরণীর জন্যও দিতে হয় দু’শ থেকে পাঁচশ টাকা। বছরে দু’বার এই বিবরণী ফ্রি দেয়ার কথা থাকলেও, অনেক ব্যাংকই তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। বিভিন্ন মেয়াদী হিসাবে আমানতের বিপরীতে এখন সুদের হারও কমিয়ে দুই থেকে ছয় শতাংশ করা হয়েছে। যা অতীতে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ছিলো। অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দিতেও ব্যাংকগুলো কেটে নিচ্ছে টাকা। ঋণ গ্রহীতাদেরও অতিরিক্ত হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ঋণে সুদ হার কমানো হলেও এর বিপরীতে বেশিরভাগ ব্যাংকই সার্ভিস চার্জ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া, ‘ঋণে সুদ হার কমলে সার্ভিস চার্জ বাড়ে’-এটা নাকি বৈশ্বিক নিয়ম; অনেক ব্যাংকার এমনটিই বলছেন। এই অবস্থায় সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনলেও এর সুবিধা পাচ্ছে না ঋণ গ্রহীতারা।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলো কোন সেবার চার্জ কতো নেবে এ বিষয়ে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে। এতে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন সেবার সর্বোচ্চ চার্জ আদায়ের সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। আর সেই সর্বোচ্চ চার্জটিই আদায় করছে ব্যাংকগুলো। শুধু তা-ই নয়, অনেক সময় এই সর্বোচ্চ চার্জের বাইরে গিয়েও চার্জ আদায় করতে কার্পন্য করছেনা ব্যাংকগুলো। এই অবস্থায় গ্রাহকেরা ব্যাংক বিমুখ হয়ে পড়বে বলেই বিশেষজ্ঞগণের অভিমত। তার লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ঋণ নেয়া কিংবা অন্য কোন কাজে মানুষ অপারগ হয়ে ব্যাংকের শরণাপন্ন হচ্ছে। এটা শুভ লক্ষণ নয়। ব্যাপারটি নিয়ে ভাবতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT