ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৭-২০১৯ ইং ০০:৫০:৪৮ | সংবাদটি ১৯১ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
(৯৪) বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকেÑ অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক। (৯৫) কষ্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন। (৯৬) আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে এমন কি, মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ুপ্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে। (৯৭) আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়Ñ যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা। (৯৮) যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসুলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু। (১১) আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতিত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না। (১০০) কি অশ্চর্য, যখন তারা কোনো অঙ্গিকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। (১০১) যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসুল আগমন করলেনÑ যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করলÑ যেন তারা জানেই না।
(১০২) তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিলো। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিলো, তা শিক্ষা দিতো। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিতো না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফির হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখতো, যদ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ¦ারা কারও অনিষ্ট করতে পারতো না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালোরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোনো অংশই নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্মবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দÑ যদি তারা জানতো। (১০৩) যদি তারা ঈমান আনতো এবং খোদাভীরু হতো, তবে আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত। যদি তারা জনতো। (১০৪) হে মুমিনগণ, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো নাÑ ‘উনযুরনা’ বল এবং শুনতে থাক। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (১০৫) আহলে-কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফির, তাদের মনঃপুত নয় যে, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি কোনো কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষভাবে স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন। আল্লাহ মহান অনুগ্রহদাতা।
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
উল্লেখিত আয়াতসমূহের তাফসির ও শানে নুযুল প্রসঙ্গে অনেক অসমর্থিত ইসরাঈলী রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়। সেসব রেওয়ায়েত পাঠ করে অনেক পাঠকের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) সুস্পষ্ট ও সহজভঙ্গিতে এসব প্রশ্নের উত্তর দান করেছেন। তাঁর বর্ণনাকে যথেষ্ট মনে করে এখানে হুবহু উদ্বৃত করে দিলাম।
১. নির্বোধ ইহুদীরাই হযরত সুলায়মান (আ.) কে জাদুকর বলে আখ্যায়িত করতো, তাই আল্লাহ তা’আলা আয়াতের মাখঝানে তাঁর নিস্কলুষতাও প্রকাশ করে দিয়েছেন।
২. বর্ণিত আয়াতসমূহে ইহুদীদের নিন্দা করাই উদ্দেশ্য। কারণ, তাদের মধ্যে জাদুবিদ্যার চর্চা ছিলো। এসব আয়াত সম্পর্কে পরমাসুন্দরী যোহরার একটি মুখরোচক কাহিনীও সুবিদিত রয়েছে। কাহিনীটি কোনো নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েত দ্বারা সমর্থিত নয়। শরীয়তের নীতি বিরুদ্ধ মনে করে অনেক অনেক আলেম কাহিনীটিকে নাকচ করে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ এক সদর্থে ব্যাখ্যা করা শরীয়ত বিরুদ্ধ মনে না করে নাকচ করেননি। বাস্তবে কাহিনীটি সত্য কি মিথ্যা, এখানে তা আলোচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে এটা ঠিক যে, আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা কাহিনীর উপর নির্ভরশীল নয়।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT