সম্পাদকীয়

দাম বাড়লো গ্যাসের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০১৯ ইং ০০:৩৮:০৫ | সংবাদটি ১১৫ বার পঠিত

অবশেষে দাম বাড়লো গ্যাস-এর। আবাসিক বাণিজ্যিকসহ সব ধরণের গ্যাস এর দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বেড়েছে ৩২ দশমিক ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ এক চুলার দাম সাতশ’ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে নয় শ’ ২৫ টাকা। আর দুই চুলার দাম যেখানে ছিলো আটশ টাকা, সেটা হয়েছে নয় শ’ ৭৫ টাকা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহার করা সিএনজি’র দামও বেড়েছে প্রতি ঘন মিটারে ক্ষেত্র বিশেষে তিন টাকা। বর্ধিত দাম চলতি অর্থ বছরের শুরুতেই অর্থাৎ গত পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। বলা যায়, এটি নতুন অর্থ বছরের জন্য সরকারের একটি ‘উপহার’ সাধারণ মানুষের জন্য। একদিকে এবারের বাজেটে ভোজ্যতেল, চিনি, তৈজসপত্রসহ বেশ কিছু নিত্য ব্যবহার্য্য পণ্যের। দাম বাড়ানোর ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তবে পাশাপাশি এই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি তাদের জন্য রীতিমতো ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।
ইতোপূর্বে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়। এবার আর রক্ষা হয়নি। দাম বাড়ানোই হলো। কোন প্রতিবাদই এখানে কাজে আসেনি। আসল কথা হলো গ্যাস, বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানী তেল-এর মতো সেবাখাতে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কোনকিছুরই তোয়াক্কা করেন না। গ্যাস, বিদ্যুতের দাম একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী মহল সবার পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ করা হচ্ছে। দাম বাড়ানোর পক্ষে সরকার নিজের যুক্তি আওড়িয়ে যাচ্ছে, আর গ্রাহক সাধারণ একে ‘খোড়াযুক্তি’ বলে অভিহিত করছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহবান জানানো হলেও তাতে কখনই কান দেয়ার দরকার মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ এ ব্যাপারে সরকার জনমতের তোয়াক্কা করেনা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গ্যাসের দাম বাড়লে জনজীবনে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায়। গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, বৃদ্ধি পায় কলকারখানার উৎপাদন ব্যয়। সব মিলিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। যার শিকার হয় মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে এটাই যে, গ্যাস যা অন্যসব সেবার মূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে জনমতের খুব একটা দাম দেয়া হয় না। মাঝে মধ্যে দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত গণশুনানী হয়। কিন্তু গণশুনানীতে যেসব অভিমত ওঠে আসে, তার কোন মূল্য দেয়া হয় না। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই কার্যকর হয়। আর তাই গণশুনানী হয়ে ওঠে লোক দেখানো প্রহসন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে আমাদের দেশে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু যেসব দেশের উদাহরণ দেয়া হয় সেইসব দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা আর আমাদের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এক নয়। এই ব্যাপারটি মাথায় নেই সরকারের।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT