সাহিত্য

নিশীথে নারীগণ

দীপক চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪৬:০১ | সংবাদটি ১৫৮ বার পঠিত

বৃষ্টি হবে। আকাশ ডাকছে, থাকা তো যাবে না। তাড়া করে মিলি। কয়েক সেকেন্ড পর জোর দিয়ে বলে, দ্রুত চল।
চিড়িয়াখানা তো দেখাই হল না, নতুন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জিরাফ, জেব্রা এসেছে শুনেছি। এভাবে হুট করে চলে যাব? তাহলে আসলামই-বা কেন? বিরক্ত হয়েছি কিন্তু সাধারণ জবাব আমার।
তাহলে তুমি থাক কেমন! এরপর অনেকটা ধমকের স্বরেই মিলি বলল, তুমি থাক রঞ্জু। এখানে নানারকম সুযোগ পাবে। দেখছ না মেয়েগুলো কেমন ঘুরঘুর করছে! আড়চোখে তাকাচ্ছে। ওদের শরীর, সবকিছু ঢাউস ঢাউস। তাদের বিয়ে করতে পার, ওসবই কর। আমি চলি। ব্যস এটা প্রিয়তমা হবু স্ত্রীর সর্বশেষ বাক্য। মিলির পরনে ছাপা শাড়ি, পাতলা শিপন। অবশ্য গায়ের রং ফর্সা আর কম বয়স বিধায় যা পরছে তাই মানাচ্ছে। সাজগোজ করে এসেছে আজ। কলেজ শিক্ষক আমি। কিন্তু আমার রুচির পরোয়া করে না সে। বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করে আঁটসাঁট পোশাক। প্রাথমিকভাবেই অনেকেই মনে করতে পারেন সে খুব বহির্মুখী স্বভাবের মানুষ। মিলি যে বেশি মানুষের সামনে কথা বলতে লজ্জা পায় না এটাও বোঝা যায়। শুনলে হয়তো অবাক হবেন কেউ কেউ। মিলির মতো মেয়ের সঙ্গে আমার ভাব হল কীভাবে? আসলেই তো! কথাটি আমি নিজেও ভাবি।
আমার জন্য অপেক্ষা করার দরকার মনে করল না মিলি। সাদা রঙের প্রিমিও গাড়ি ওর। গাড়ির চাবি মিলির কাছেই থাকে। গাড়ি স্টার্ট দেয়ার পর মিলি ফিরেও তাকাল না।
মিনিট কয়েকের মধ্যে চিড়িয়াখানায় বৃষ্টি চলে এসেছে। আকাশ ফুটো বৃষ্টি। যাকে বলে মুষলধারে বৃষ্টি। গাছের আড়ালে নিজেকে গুটিসুটি মেরে রেখেছি। পেছন ফিরে দেখলাম একটি টিনশেড ঘর। বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য টিনশেডে এসেতো অবাক। মিলির ভাষায় ঢাউস মার্কা দেহের দুটি মেয়ে বেঞ্চের ওপর বসা। তাদের বয়স ছাব্বিশ-সাতাশ হতে পারে।
ভাই, বৃষ্টিতে না ভিজে এদিকে বসেন। একটি মেয়ের সহজ-সাবলীল কণ্ঠ।
ঠিক আছে, থাক।
আমার জবাবের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের একজন সঙ্গী বলল, রাবেয়া, একটু সর তো এদিকে।
আমি কথা কানে নেই না। বৃষ্টি থামছেই না। দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় কী?
কই, ভাই বসবেন না? রাবেয়ার তীক্ষè প্রশ্ন।
ওর চোখাচোখি হতেই ভয় পেয়ে গেলাম কিনা জানি না। সুবোধ বাচ্চার মতো বেঞ্চের একপাশে আমি বসি। আমার বয়স খুব বেশি নয়, সাতাশ বছরের যুবক আমি। শুকনো শরীর। চুলগুলো কোঁকড়ানো। সম্ভবত দুই নারী আমাকে আরেকবার পড়ে নিল।
মহিলাটি কে?
আমি না শোনার ভান করছিলাম। রাবেয়ার আবার জিজ্ঞাসা, ওই নারী কী হয় আপনার?
বুঝতে কষ্ট হয় না মিলি সম্পর্কে এমন উক্তি তাদের।
উনি মনে হয় কানে কম শোনেন? রাবেয়ার সঙ্গী মেয়েটি বলল।
আমি উত্তর দিই, আমার হবু স্ত্রী। খুবই ভালো। বৃষ্টি তো...
আরে ভাই, কথায় আছে না স্বর্গ থেকে আসা প্রেম। কেমন ভালো তা তো বুঝলাম। বিস্ময়সূচক জবাব রাবেয়ার।
কয়েকটি নাম না জানা পাখি ডেকে উড়ে গেল আমাদের ঘরের ওপর দিয়ে।
বৃষ্টি থামবার লক্ষণ নেই। তবে কমেছে। কী করি আমি। একটি কুকুর ভিজতে ভিজতে এলো কোত্থেকে। প্রথমে আমার গায়ের ঘ্রাণ। পরে কাপড়-চোপড়ের ঘ্রাণ নিল। মেয়ে দুটোর দিকে গেল, পাশে কিছুক্ষণ বসল। এরপর ফের আমার চোখের দিকে একনজর তাকিয়ে আবার চলে গেল।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকক্ষণ পর মোবাইলে ফোন করলাম। রিং হল মিলি কল রিসিভ করল না। পরপর তিনবার। অবশ্য এটা ওর স্বভাব। আমার ধারণা, এক ধরনের পাগলামি।
মিলির প্রতি আমার রাগ বাড়ছে। কাজটি মোটেই ঠিক করেনি। এভাবে চলে যাওয়ার মানে হয় না। ছেলেমি আর কাকে বলে। এত অবহেলা কেন আমাকে। প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে প্রেম। এরপর মন দেয়া। তার গার্ডিয়ান রাজি ছিল না, বড়লোকের মেয়ে। খাওয়াবে কী? মিলি তার বাবাকে প্রশ্ন করেছিল, আমি তো তোমার একমাত্র মেয়ে। সব সম্পদ আমার জন্যই, তুমিই তো বলেছিলে। তাহলে? তাহলে? জবাব দাও? আমি সেদিনের মিলিকে দেখে অবাক।
ভাই, বাদাম খান! বাদাম খান! এমন উচ্চারণের সঙ্গে রাবেয়া আরও যোগ করে, বৃষ্টি কমে গেলে আমরাও যাব।
সম্বিৎ ফিরে পাই নিজেকে। কিছুটা ভয় কাজ করছে বুকের ভেতরে।
আমার দিকে তাকিয়ে রাবেয়ার সঙ্গী বাদামের ঠুঙ্গা বাড়িয়ে ধরে প্রায় ধমকের সুরে বলল, ভাই বাদাম খান, নেন।
রাবেয়া মোবাইল ফোনে কোনো এক বন্ধুকে কুশল জানিয়ে বলল, চার্জ শেষ। এরপর আর ফোনে পাবে না। অবশ্য দীর্ঘক্ষণ কথা বলল ফোনে।
বাদাম চিবুচ্ছি এর মধ্যে রাবেয়া ফ্লাক্স থেকে চা ঢালল।
ভাই, চিনি দেয়া দুধ চা। আপনি কাপে খান। রাবেয়ার সঙ্গী চা ঢেলে কাপ সামনে বাড়িয়ে ধরে থাকল।
রাবেয়ার বুকের ওড়নাটা সরে গেছে। ওদিকে আমার চোখ যেতেই চোখাচোখি সে তাকাল। লজ্জাও পেল। তবে স্মিত হাসল।
ভাইয়ের নাম তো জানা হল না। প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় ওরা দু’জনই।
রঞ্জু, আমার নাম রঞ্জু। কণ্ঠস্বর কী আমার! ভয় বাড়ছে বুকের ভেতরে। কী হতে যাচ্ছে নিজেও বুঝতে পারছি না। মেয়ে দুটো আসলে কী? ওরা কারা? এখানেই বা কেন?
করেন কী ভাই? একজনের প্রশ্ন।
কলেজের টিচার, বিসিএস।
মেয়ে দুটো আরও তথ্য জানার অপেক্ষায় যেন। বললাম, মাত্র দু’বছর হল জয়েন করেছি। এ পেশায় থাকব কিনা জানি না।
ভাই, কিছু মনে করবেন না। আমরা দুই বান্ধবী রফিকা, রাবেয়া। বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারে। জয়েনিং ডেট দুই হাজার সতেরোর ফেব্রুয়ারি মাসের আঠার তারিখ। ঢাকায় বেড়াতে এসেছি। বাড়ি খুলনা।
আমার গলা ভিজে এলো। মিশে গেলাম কথায় কথায়, গল্প করছি আর শুনছি তাদের কথা। ওদের কথা মিষ্টি লাগছে। আমার খুলনার দুই ক্লাসমেটের বর্তমান সময়ের খবর জানাল। চিনতে পারল। ওরা পুলিশে আছে। শুনে খুশি হলাম।
ঘড়ি দেখি। রাত আটটা বেজে গেছে। আবার ফোন করলাম, মিলির ফোনে। মোবাইলে রিংটোন হচ্ছে। কল রিসিভ করল না মিলি। সতেরোবার কল করেছি, একই অবস্থা। মনে প্রশ্ন জাগে, মিলির কিছু কী হল? তবে মনে পড়ে একদিন ছত্রিশ বার ফোন বেজেছে ওর। আমিতো পাগল প্রায়। শেষে বাসায় ফিরে দেখি দিব্যি টেলিভিশনে হিন্দি ভাষার সিরিয়াল দেখছে মিলি।
রফিকার প্রশ্ন, ভাই, টেনশন?
মাথা নাড়ি না ভঙ্গিতে। বৃষ্টি কমেছিল। আবার মুষলধারে নেমেছে।
রাবেয়া বৃষ্টির দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে জানতে চাইল, ভাই, কিছু মনে করবেন না। ভাবী কী কিছু করেন?
মাথা নাড়ি না ভঙ্গিতে।
তিনজনই আমরা চুপ।
রাবেয়া স্বগতোক্তির মতো বলল, রঞ্জু ভাই, দুনিয়াটা এত সহজ নয়। খুব কঠিন। লেখাপড়ার পালা শেষ করে বুঝতে পেরেছি, ইচ্ছা করলেই সেই রঙিন স্বপ্ন এখন আর দেখতে পারি না।
রাত নটা বেজে গেছে। রফিকা বলল, ভাই চলুন উঠি। এখানে তো রাত কাটানো যাবে না। রাবেয়া হাসতে হাসতে বলল, অবশ্য গল্প করা যাবে।
ভ্যানিটি ব্যাগ কাঁধে ঝুলাল দুজনই। সঙ্গে আরও একটি করে হ্যান্ডব্যাগ। পরিষ্কার আলোতে দেখা গেল দুজনই শ্যামলা রঙের, তবে যথেষ্ট সুন্দরী। গোল গোল মুখ। লম্বা সাড়ে পাঁচ ফিট।
বৃষ্টি নেই, আকাশ পরিষ্কার। আমরা হাঁটতে হাঁটতে চিড়িয়াখানার বাইরে এলাম।
সিএনজি অটোরিকশা খুঁজছি। রফিকা-রাবেয়া একসঙ্গে বলল, ভাই, আজিমপুর যাওয়ার পথেই টিএসসি এলাকায় আমাদের নামিয়ে দেবেন। রোকেয়া হলে উঠেছি।
আমি মাথা নাড়ি হ্যাঁ ভঙ্গিতে। অটোরিকশায় উঠার পর তারা দুজনে প্রায় জোর করেই সিটের মাঝখানে বসাল।
ফের বেহায়ার মতো মোবাইল ফোনে মিলির খোঁজ নিতে চাইলাম। না, এবার তার ফোন বন্ধ। মোবাইল ক্যান নট বি রিচ....
সিএনজি অটোরিকশাটি নষ্ট হয়ে গেল মিরপুরে, মাঝ সড়কে। আমরা নামার পর কম বয়সী ড্রাইভার বড় সড়কের পাশে টেনে এনে দাঁড় করাল এটি। অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও ড্রাইভার সচল করতে পারল না যানটি। হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টিও নেমেছে। শিলাবৃষ্টি, কঠিন বৃষ্টি। সঙ্গে তীব্র বাতাস। মুহূর্তেই আবহাওয়া বৈরী হয়ে গেল। বজ্রপাত হচ্ছে। রাস্তায় কোনো যানবাহন নেই। আমরা তিনজনই অটোরিকশায়। মাথার ওপর বড় বড় বজ্রপাত। বিকট শব্দ। এই বুঝি মাথায় পড়ল।
দীর্ঘক্ষণ পর রফিকা-রাবেয়ার কণ্ঠে কথা, রঞ্জু ভাই, আমাদের ইচ্ছে হচ্ছে আপনাকে ছেড়ে দিই। কিন্তু কোনো উপায় নেই। ভাবী কী বলবেন, কে জানে। নিশ্চয়ই সাইজ করবেন আপনাকে?
রফিকার দিকে তাকালাম। ওর ঠোঁটে কিঞ্চিৎ হাসি। রাবেয়া বলল, রঞ্জু ভাই মাইন্ড করবেন না। বুঝেন তো দুজনই অবিবাহিত।
রাত বারোটা বেজে গেছে। রাবেয়া হঠাৎ বিরক্ত কণ্ঠে বলল, যা গেছে, মোবাইল ফোনের চার্জ গেছে। ঘড়ির আলোয় কুলোচ্ছে না। অটোরিকশায় বসে আছি আমরা। দুই তরুণী ও এক তরুণ। প্রায় অন্ধকার। ড্রাইভার সড়কের একটি বড় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে।
রাত একটার দিকে একটি সাদা পাজেরো গাড়ি হন্হন্ করে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলে গেল সামনে দিয়ে। সড়কপথে দ্রুত যাচ্ছে চিড়িয়াখানা রোড ধরে। কিছুক্ষণ দেখা গেল গাড়িটি।
রফিকা বলল, যদি এমন একটি গাড়ি এ মুহূর্তে পেতাম, ইস।
রাবেয়ার জবাব, তোরই এমন আজগুবি কথা।
রঞ্জুর মাথায় কোনো উত্তর নেই। কোনো কোনো সময় মিলিকে আমি দিনে বিশবার ফোন করি। উনিশবারের পর তার রাগ কমে। কিন্তু আজ? প্রশ্ন আছে, সমাধান নেই। ভাবী, মিলিকে কী জবাব দেব আজ? সড়কে কোনো পরিবহন নেই। দ্রুত হেডলাইট জ্বালিয়ে ওই সাদা পাজেরো গাড়িটি ফিরেছে আধঘণ্টা পর। প্রচ- বৃষ্টি।
গাড়ির লাইট এদিকে ধরেছে। একদম সরাসরি। আসছেও আস্তে আস্তে। রফিকা ও রাবেয়া একটু সরে বসল আমার দেহ থেকে।
থামতেই দেখলাম গাড়ির ভেতরে মিলি। হাতে ছোট্ট টর্চলাইট। ওর বিশ্বস্ত ড্রাইভার সাদেক মিয়া।
সিএনজি আটোরিকশার পাশে দাঁড়াল গাড়িটি। সাদেক মিয়া আমাদের তিনজনের মুখ দেখে ফিরে গেল মিলির কাছে। কিছু বলছে বোঝা গেল।
রফিকা-রাবেয়া বলল, ভাই ভাবী মনে হয়।
আমার কণ্ঠে শব্দ নেই। ইজ্জতের ভয় কিনা কে জানে!
এক মিনিট পর এলো সাদেক। ছাতা ধরে বলল, সবাই গাড়িতে ওঠেন। অটোরিকশা ড্রাইভারকে এক হাজার টাকা দিয়ে বললাম, বৃষ্টি কমলে তুমি যাওয়ার চেষ্টা কর।
পাজেরো গাড়িতে বসবার পর কয়েক দফা তাকালাম মিলির মুখের দিকে। অথচ সে একবারও আমার দিকে তাকাল না। রফিকা-রাবেয়াকে চোরাচোখে দেখে নিল। একাধিকবার পরখ করল যেন। আমি ভয়ে অস্থির, মিলির ভয়ে। বারবার কিছু বলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু পাত্তাই দিচ্ছে না। জানি, জবাব দিতে পারব। উত্তর দেয়ার সময় দেবে না আমাকে। কথা বলবার সুযোগই থাকবে না। এটাই মিলির বৈশিষ্ট্য।
সড়কে বড় বড় গাছ পড়ে গেছে ঝড়ে। সাদেক ড্রাইভার বলল, সর্বনাশ, কী রকম ঝড় হইছে আপা।
মিলি বললো, হ্যাঁ তাইতো দেখছি।
কিনা বিপদেই পড়েছিলাম আজ- আমার এ কথার জবাব দেয়ার প্রয়োজন বোধ করল না মিলি। রফিকা-রাবেয়া মাথা নাড়াল হ্যাঁ ভঙ্গিতে।
রাত দুটো। আজিমপুরের বাসার সামনে পাজেরো গাড়ি এসে থামল। মিলি আগে নেমে তাদের দুজনকে বলল, আসেন, আমাদের বাসায়।
রফিকা-রাবেয়া নামল। দুজনই চুপ।
রফিকা বলল, এত রাতে যাবই বা কোথায়?
মিলির কাঠকোট্টা জবাব, ছাড়বোই কীভাবে?
রফিকা-রাবেয়াকে ফ্রেশ হওয়ার ব্যবস্থা করে দিল মিলি। নতুন তোয়ালে, কাপড় সবই দিল। ওয়াশ রুম দেখাল। আমি অবাক মিলির এমন আচরণে।
রাত আড়াইটায় খাবার টেবিলে আমরা বসলাম। অনেক পদ সাজানো। ম ম গন্ধ আসছে পোলাওয়ের। খেতে বসে মনে হল, মিলির মনোযোগ দুই নারীর দিকেই। তারা যেন তৃপ্তির সঙ্গে খেতে পারে। তারা অতিথি। মিলি আমার পাতে পোলাওয়ের চামচ এগিয়ে দিতে দিতে তাকাল রফিকা-রাবেয়ার দিকে।
তার উচ্চারণ, আমি মানুষটা খুব লাজুক। স্বভাবে খুব লাজুক। আমাকে মানুষের সামনে সহজ হতে সাহায্য করে থাকে রঞ্জু।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT