উপ সম্পাদকীয়

খেলাধুলায় বাংলাদেশ

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪৬:২৯ | সংবাদটি ৬৩ বার পঠিত

সুপ্রাচীনকাল থেকেই খেলাধুলা মানবজীবনে বিনোদনের একটি মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এদেশে হাডুডু, গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধার মতো লোক জীবন ঘনিষ্ট দেশীয় খেলা যেমন অনুষ্ঠিত হয়, তেমনি ক্রিকেট, ফুটবলের মতো আন্তর্জাতিক খেলায়ও বাংলাদেশ অংশ নেয়। তাই বলা চলে খেলাধুলায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়। আর্থ সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্রাম বাংলার দেশীয় খেলাগুলো। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লাঠিখেলা, কুস্তি, হাডুডু বা কাবাডি, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, কানামাছি, লুকোচুরি, দাড়িয়াবান্ধা, নৌকা-বাইচ, মার্বেল ইত্যাদি। তাস, পাশা, বাঘবন্দি, লুডু, দাবা, ক্যারম, ছয়গুটি প্রভৃতি ঘরোয়া খেলার প্রচলনও রয়েছে বাংলাদেশে। ঐতিহ্যবাহী খেলার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হাডুডু বা কাবাডি। সারাবছর তো বটেই এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানে লাঠিখেলা, কুস্তি, কাবাডি ইত্যাদি খেলা অনুষ্ঠিত হয় বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে।
দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলার প্রচলন থাকলেও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথম অংশ গ্রহণের গৌরব অর্জন করে ১৯৯৯ সালে। তবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ নিয়মিত অংশ গ্রহণ করে। বাংলাদেশে ক্রিকেট চর্চাকে জাতীয়ভাবেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রিয় খেলোয়াড়ের তালিকায় এখন এদেশের খেলোয়াড়দেরই নাম। মাশরাফি, সাকিব, আশরাফুল, তামিম আর রাজ্জাকের মতো খেলোয়াড়দের খেলা দেখতে মেতে ওঠে হাজার হাজার বাঙালি দর্শক। সেই সাথে প্রমীলা ক্রিকেট চালু হওয়ার মাধ্যমে ক্রিকেটে মেয়েদের অংশগ্রহণ ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আরেক ধাপ। সাম্প্রতিককালে ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। চালু হয়েছে পেশাদার ফুটবল লীগ। দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোও আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। মেয়েরাও খেলছে ফুটবল।
অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন ইভেন্ট, শ্যুটিং, হকি এবং সাঁতারে বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে নিয়মিত। অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের সবচেয়ে সাফল্য দৌড়ে। বাংলাদেশের দ্রুততম মানব আবু আব্দুল্লাহ, দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটি এবং সাবেক দ্রুততম মানব মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। অন্যদিকে, শুটিং-এ বাংলাদেশে কৃতী নাম আসিফ হোসেন খান। ২০০৮ সালের অলিম্পিক গেমসে শ্যুটিং-এ স্বর্ণপদক জেতা ভারতের অভিনব বিন্দ্রাকে সাফ গেমসে হারিয়েছেন বাংলাদেশের এ অসাধারণ শ্যুটার।
হকিতে বাংলাদেশের কৃতিত্ব, তেমন উজ্জ্বল না হলেও জাতীয় দল রয়েছে। সাঁতারেও বাংলাদেশের অবদান সাফল্যজনক। ২০০১ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত মুসলিম নারী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাঁতারে একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং দুটি ব্রোঞ্জ পদক জেতে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের খেলাধুলায় নারীদের অবদান কোন অংশে কম নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে তারা। অ্যাথলেটিক্সে নাজমুন নাহার বিউটি, দাবায় রাণী হামিদ, ক্রিকেটে সালমা খাতুন, চম্পা-চাকমা, ভারোওলনে ফাহিমা আক্তার, টেবিল টেনিসে জোবেরা রহমান লিনু বাংলাদেশের গর্ব। ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ক্রিকেট অঙ্গণে। বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়, ১৯৯৯ সালে আইসিসি ট্রফি লাভ, ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বালাদেশের জন্যে অত্যন্ত আনন্দদায়ক ঘটনা। বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডার হিসেবে সাকিব আল হাসানের নাম, বিশ্বের সেরা বোলাদের মধ্যে মাশরাফি বিন মর্তুজার নবম স্থান অর্জন বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রতিভার অনন্য দৃষ্টান্ত।
খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ক্রীড়াবিদের পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে। এ ধরনের পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রামীণফোন প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কার। বেসরকারি পর্যায়ে এ পুরস্কার দেয়া হয় পাঁচটি। পাঁচটি বিভাগে। এ ধরনের পুরস্কার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে অনুপ্রেরণা যোগায় নিঃসন্দেহে। ক্রীড়াক্ষেত্র পরিপূর্ণ সাফল্য ধরে রাখতে পারছেনা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, খেলোয়াড়দের পেশাদারি মনোভাব এবং সর্বোপরি দেশপ্রেম।
খেলাধুলায় বাংলাদেশের অবস্থান কখনো উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো, কখনো ততটাই ¤্রয়িমান। তাই খেলাধুলার মানকে উন্নত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সেই সাথে খেলোয়াড়দেরও কঠোর অনুশীলন ও চর্চা করে যেতে হবে। বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাধর খেলোয়াড় রয়েছে এবং এরা দেশের জন্যে বয়ে এনেছেন গৌরব। যা বিশ্ব সম্পর্ক স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলছে।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT