উপ সম্পাদকীয় প্রাণীরা আশাহীন নয়, তারা অসীম ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করে। -জোসেফ উড ক্রাচ

ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪৭:৩৫ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

ঘরে ঘরে এখন ভাইরাস জ্বর। সম্ভবত এমন কোন পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কমপক্ষে একজন জ্বরে আক্রান্ত হয় নি। হাসপাতাল-ক্লিনিকে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে জ্বরে। এই জ্বরকে সাধারণত ‘ভাইরাস জ্বর’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। নানা কারণে হতে পারে এই ভাইরাস জ্বর। আর এই ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া, জিকা, ইবোলা ও নিপাহ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়া। এই সব ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও জ্বর-এর প্রকোপ হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা দ্বারা মওসুমী জ্বর ছড়াচ্ছে। ভাইরাস জ্বর মোকাবেলায় কিংবা প্রতিরোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষ কোন উদ্যোগ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি; যদিও বিগত প্রায় মাস দুই ধরে এই জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞগণ ভাইরাসজনিত রোগ ছড়ানোর কারণ হিসেবে অধিক জনসংখ্যা, ঘনবসতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও অব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, ময়লা আবর্জনা এবং পয়নিষ্কাশনের অভাবকেই চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া মানুষ ও দ্রব্যাদির দ্রুত স্থানান্তর, জলবায়ুর পরিবর্তন, উষ্ণায়ন ও পোকা মাকড় দমনে কীটনাশকের ব্যবহারে মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে গিয়ে এসব রোগের প্রকোপ বাড়াচ্ছে। তবে অতি সম্প্রতি গবেষকদের উপলব্ধি হয়েছে যে, ভাইরাস জ্বরের জীবাণু শুধু মানুষ নয়, গৃহপালিত ও বন্য পশু পাখিও এর বাহক হিসেবে কাজ করছে। তাছাড়া, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে মানুষের যেসব রোগ-বালাই হয় তার প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে পশু পাখি থেকে। তবে এটা ঠিক যে, মশা দ্বারা অনেক ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে। মশা যান্ত্রিক বাহক হিসেবে আক্রান্ত; ব্যক্তি থেকে অনেক জীবাণু বহন করে সুস্থ দেহে সংক্রমণ ঘটায়। আর একটি স্ত্রী মশা সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ বেঁচে থাকে। আর এই সময়ে কয়েক হাজার মশার জন্ম দিতে পারে একটি মশা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ মশার প্রজনন উপযোগী।
ভাইরাস জ্বর একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। যেহেতু কিছু দিন পরপরই এই ধরনের জ্বরের প্রকোপ হচ্ছে, তাই এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে মশক নিধন। সেটা করতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরী। একযোগে কাজ করতে হবে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকেও। যাতে এই সব রোগের ভাইরাস শনাক্ত হয় সেই পদ্ধতি উদ্ভাবনও জরুরি। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সর্বোপরি, রোগ প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদানের চিন্তাও মাথায় রাখতে হবে।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT