উপ সম্পাদকীয়

‘বকশিস চাই না মালিক, হিসাবের পাওনা চাই’

মোফাজ্জল করিম প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪৯:৩৫ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সব দেশে সব কালে দেশের মানুষকে মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় : অতি উচ্চবিত্ত, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, হতদরিদ্র ইত্যাদি। রাষ্ট্রে ও সমাজে এই বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সামাজিক ও পেশাগত অবস্থান বা মর্যাদা যাই হোক না কেন, নাগরিক হিসেবে আইনের চোখে কিন্তু তারা সবাই সমান। অন্তত একটি গণতান্ত্রিক দেশের আইন-এবং সকল আইনের উৎস যে সংবিধান-অবশ্যই দেশের সকল ধনী-নির্ধন, সবল-দুর্বল, ফকির-মিসকিন, আতুর-ল্যাংড়া সব মানুষকে এক কাতারে রাখে। একটি গণতান্ত্রিক দেশের সব সম্পদের ওপর সব মানুষের সমান অধিকার। এই মূলনীতি লঙ্ঘিত হওয়া মানে দেশের ভিত্তিমূলে আঘাত হানা।
শত মতপার্থক্য ও অনিয়ম-অশৃঙ্খলা-বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও আমরা গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করে থাকি আমাদের দেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ। অনেক কাটা-ছেঁড়া সত্ত্বেও আমাদের সংবিধানের মূলনীতিতে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে এখনো সমুন্নত রাখা হয়েছে। ফলে এদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল মানুষের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সমতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শ্রেণী বা গোষ্ঠীকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়ে অন্য কোনো শ্রেণী বা গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদান করা হবে সংবিধানে স্বীকৃত সমতার লঙ্ঘন।
কথাটা বলছি এই কারণে যে এবারের (২০১৯-২০) বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পর থেকে গত ৩০ জুন তারিখে ওটা পাশ হওয়া পর্যন্ত সংসদের ভেতরে (যদিও সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন ‘সত্যিকারের’ বিরোধী দলের সদস্যই কেবল সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী বিষয়গুলো বলিষ্ঠ কণ্ঠে তুলে ধরেছেন) ও বাইরে এর তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও বাজেটে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে এমন কিছু প্রস্তাব প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের যুক্তিনির্ভর বক্তব্য সব কিছুই অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে উত্তপ্ত কড়াই থেকে পড়বে জ্বলন্ত উনুনে।
এ কথা অনস্বীকার্য যে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলেছে। দেশের এই নজরকাড়া উন্নয়ন দেশে-বিদেশে বোদ্ধা মহলের অকুণ্ঠ সমর্থন ও অবারিত প্রশংসা লাভ করছে। আমাদের গর্বের পদ্মা সেতু দিন দিন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। অপরিসীম জনভোগান্তি সহ্য করে লোকে দেখছে রাজধানীতে মেট্ররেলের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এ ধরনের সব মেগা প্রকল্পের জন্য আমরা অবশ্যই শ্লাঘা অনুভব করি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এত উন্নয়ন, এত প্রশংসার মধ্যে যা দৃশ্যমান না হয়ে প্রদীপের নিচের অন্ধকারের মত (আরো বাড়িয়ে বললে যদি কেউ খুশিতে আত্মহারা হতে চান তো বলি, চাঁদের বুকে কলঙ্কের মত) সারাক্ষণ এই উন্নয়ন এই প্রবৃদ্ধিতে লেপ্টে থাকছে, তা হলো নিম্ন আয়ের মানুষ ও উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে বৈষম্যের বিন্ধ্যাচল। এই বিন্ধ্যাচল ডিঙিয়ে নিচুতলার মানুষেরা অচিরেই উঁচুতলার মানুষের সমগোত্রীয় হয়ে যাবে, এরূপ দুরাশা করা অবান্তর। তবে এই সামাজিক সমমর্যাদার ঘোষিত মূলনীতির দেশে গরিব নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত মানুষগুলো নিজেদের পরিম-লে অন্তত দুটো খেয়েপরে বাঁচতে পারবে সে আশাটা তো অবশ্যই করতে পারে। তারা কালিয়া-কোর্মা, মাখন-মালাইয়ের চর্বচোষ্য লেহ্যপেয় চায় না,Íওগুলো চাওয়ার বা পাওয়ার দুঃসাহস-দুঃস্বপ্ন কোনোটাই তাদের নেই- কিন্তু তাদের নুনটা-পান্তাটাকে দু®প্রাপ্য করে তোলার বিধি-ব্যবস্থা নিশ্চয়ই কাম্য নয়।
আমরা প্রায়শই একটা কথা ভুলে যাই। এক কেজি ওজনের একটি পাথর একটি হাতির পিঠে তুলে দিলে হাতি হয়ত টেরই পাবে না, কিন্তু সেই পাথরটি একটি পিঁপড়া বা একটি প্রজাপতির ওপর রাখলে সে তো চিঁড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে যাবে। গ্যাস-বিদ্যুৎ বা জ্বালানির মূল্য ১০০ টাকা বা ২০০ টাকা বাড়ালে কর্তৃপক্ষ মনে করেন এটা তো সামান্য টাকা, এটা ভোক্তাদের জন্য কোনো ব্যাপারই না। হাঁ, এটা কোনো ব্যাপারই না ঠিকই, তবে তা কাদের জন্য? ভোক্তাদের মধ্যে যাঁরা ‘হাতিমার্কা-ঘোড়ামার্কা’ তাঁদের জন্য অবশ্যই এটা সামান্য টাকা। তাঁরা ১০০-২০০ কেন ৫০০ টাকা বাড়ালেও ‘মাইন্ড’ করবেন না। কারণ তাঁদের পরিবারে প্রতিদিনের বাজার খরচই তো ১০-১২ হাজার টাকা। প্রতি মাসে তাঁদের বাসার বিদ্যুৎ বিল আসে ২৫-৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি। তাঁদের সোনামণির স্কুলের বেতন, প্রাইভেট টিউটরের বেতন মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা, বয়-বাবুর্চি-আয়া-ড্রাইভারদের বেতন বাবদ খরচ হয় হাজার পঞ্চাশেক টাকা। তাঁরা একশ টাকার কমে ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেন না। তাঁরা গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম, জ্বালানি তেলের দাম দু চার শ টাকা বাড়লে কিংবা চাল-ডাল-তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলে মোটেই চিন্তিত বোধ করেন না। তাঁরা মনে করেন তাঁদের প্রতি মাসের সাংসারিক ব্যয় যে দুই-আড়াই লাখ টাকা হয় সেই ব্যয় না হয় আরো ৫-১০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে। তাতে কী? ওই বাড়তি ব্যয়টা তো তাঁরা ‘নানাভাবে’ উপার্জন করে ফেলবেন।
প্রশ্ন হলো, সমাজে এই স্ফীতকায় ভোক্তার সংখ্যা কত? বড় জোর হয়ত শতকরা পাঁচ অথবা দশজন। এঁদের গ্যাস-জ্বালানি-বিদ্যুৎ অথবা অন্য কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে ভাবতে হয় না। দাম যতই হোক এঁরা তা যোগান দিতে পারেন। বিদ্যুতের দাম বাড়লে এঁদের বাড়িতে যে এয়ারকুলার একটা কম ব্যবহার করা হবে, বা বাতি দুটো কম জ্বালানো হবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। এদের জন্য চালের কেজি ৫০ টাকা যা ১০০ টাকাও তাই।
কিন্তু ‘হাতিমার্কা’ ছাড়া বাকি সব ‘পিঁপড়ে মার্কা-চড়ুইমার্কা’ মানুষদের ভোগ্যপণ্যের দাম এক টাকা বাড়লেই ভাবতে হয়। এবং সমাজে এদের সংখ্যাই বেশি। এদের কেউ হয়ত পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে একটু বেশি কাতর হয়ে পড়েন, কেউ অল্প কাতর। কিন্তু অবশ্যই কাতরাতে থাকেন সবাই। অতি উচ্চ এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণীর সৌভাগ্যের বরপুত্রদের বাদ দিলে সমাজের বাকি সবাই হয় মধ্যবিত্ত, আর না হয় নিম্নবিত্ত অথবা হতদরিদ্র কাঙাল শ্রেণীর মানুষ। এদের সকলকেই প্রতিটি পাই পয়সা হিসেব করে চলতে হয়। এদের সংসারে টানাটানি বারো মাস লেগেই থাকে। একেবারে ফিতেমাপা জীবন এদের। একটি মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারে খাওয়া-দাওয়া বাবদ মাসে কত টাকা ব্যয় হবে, কাপড়চোপড়, লেখাপড়া, বাড়িভাড়া, যাতায়াত ইত্যাদি কোন খাতে কত খরচ হবে, সরকারি বাজেটের মত তার জন্য মোটামুটি একটা বাজেট বরাদ্দ করা থাকে। এর মধ্যে হঠাৎ কারো বড় রকম অসুখ-বিসুখ দেখা দিলে বা কোনো নিতান্ত অপরিহার্য সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হলে সীমিত আয়ের পরিবারটিতে আকস্মিক একটা অভিঘাতের সৃষ্টি হয়। তেমনি সরকারি বাজেটে ঘোষণা দিয়ে সরকার কোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করলে এরা চক্ষে অন্ধকার দেখে।
রান্নায় প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ধনী-গরিব সব পরিবারেই হয়ে থাকে। রাত ৪টায় ঘুম থেকে উঠে গ্যাসের দেখা পাওয়া যাবে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য, অথবা সারাদিন চুলা জ্বলবে নিবু নিবু- অনেক এলাকায় এ দৃশ্য নিত্যদিনের। এতে যে সংসারজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ছেলেবুড়ো নারীপুরুষ সবাইকে, তা যেন কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখেন না। যেন এ ব্যাপারে কারো কোনো দায়িত্ব নেই। এর মধ্যে যদি শোনা যায় বর্তমান অর্থ বছরের শুরু থেকে গ্যাসের দাম বাড়ল চুলাপ্রতি ১৭৫ টাকা, তখন কেমন লাগে। একদিকে গ্যাসের সরবরাহ নেই বললেই চলে, আরেকদিকে গ্যাস না দিয়েই মূল্যবৃদ্ধি, এ কেমন নিষ্ঠুর রসিকতা? আগেই বলেছি, যারা অগাধ বিত্ত-বেসাতের মালিক তাঁদের কাছে এটা কিছুই না। কিন্তু দেড় কামরার ছাপরা ঘর আর এক চিলতে বারান্দায় যাদের সংসার আটকে পড়ে আছে দিনের পর দিন, তাদের কথাটা ভেবে দেখুন তো। ১৭৫ টাকা তো তাদের জন্য অনেক টাকা, যদিও এক ধাক্কায় এত টাকা যাঁরা বাড়ালেন তাঁদের কাছে বা তাঁদের মত উঁচু তলার মানুষদের কাছে এটা কিছুই না। তাঁরা পাঁচতারা হোটেলে খেয়েদেয়ে খুশি হয়ে এর চেয়ে বেশি টাকা বয়-বেয়ারাকে বকশিসই দিয়ে থাকেন। কিন্তু কেন ভুলে যাচ্ছেন, এই ছাপরা ঘর আর রাজপথের পায়দল বাহিনীই বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, আপনারা নন। এদের কাছেই ক্ষমতায় যেতে ভোটের জন্য হাত পাতেন, এদের নাম ভাঙিয়েই উন্নয়নের কথা বলে দাতাগোষ্ঠীদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার খয়রাত নেন, ঋণ নেন-যে ঋণের বোঝা জন্ম জন্ম ধরে বয়ে বেড়াবে এদেরই সন্তান-সন্ততিরা। তা হলে এদের দিনগুলি রাতগুলি কী করে কাটে, এদের জীবন যে কতটুকু অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে তা কেন একটু ভেবে দেখেন না? আপনাদের যুক্তি হয়ত একটা : ভোট ছাড়া এই মানুষেরা আপনাদের আর কী দেয়, কী দিতে পারে। বরং যাদের খুশি রাখতে পারলে আপনাদের অবস্থান পাকাপোক্ত হবে, ভবিষ্যতে আবারও মসনদে আরোহণ সহজ হবে, সেই ব্যবসায়ী-শিল্পপতি-ব্যাংক মালিক-ঋণখেলাপী এবং আমলা-কামলাদের জন্য তোষণমূলক একটা বাজেট দিলেই বরং সুখে দিন গুজরান করা যাবে। আপনাদের পরামর্শদাতা পরামানিকরা আপনাদের বোঝাতে সক্ষম হন, এদের তেলা মাথায় প্রচুর পরিমাণে তেল দিলে তা খুলি বেয়ে চুইয়ে চুইয়ে পড়বে এবং সেই চোয়ানো তেলের ভাগ পাবে নিচের তলার মানুষ, আর এভাবেই তারা বেঁচে-বর্তে যাবে। অর্থনীতির ভাষায় এটাকেই বলে ‘ট্রিকল ডাউন ইফেক্ট’। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও এই তথাকথিত চুইয়ে পড়া নীতির সম্পদ অনগ্রসর শ্রেণীর উন্নয়নে এক পয়সার কাজেও আসেনি। বরং এটা সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীকে ঠকানোর একটা অপকৌশল হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে।
আজকের এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য বাজেটের বিচার-বিশ্লেষণ নয়-সে দায়িত্ব বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা যথারীতি পালন করে যাচ্ছেন। আমরা শুধু বলার চেষ্টা করছি, সমাজের দারিদ্র্যক্লিষ্ট ‘হ্যাভ নট’ মানুষদের এই বাজেট কী করে সরাসরি আঘাত করছে এবং তার বিপরীতে দুর্নীতিবাজ কালো টাকার মালিকদের অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। গ্যাস খাত, বিদ্যুৎ খাত বা জ্বালানি খাতের দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করতে পারলে ‘গরিবের পেটে লাথি মেরে’ লোকসানের টাকা উদ্ধার করতে হয় না। আরও কষ্ট লাগে যখন দেখি বাংলাদেশে যে সময়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ঠিক তখনই প্রতিবেশী দেশ ভারত এর দাম কমিয়েছে। তার মানে কি ওই দেশের সরকারই কেবল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে, আমরা করি না? এত বড় অপবাদ নিশ্চয়ই আমরা মানতে রাজি নই।
আরেকটি কথা। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে, মূল্যস্ফীতি নাগালের বাইরে চলে গেলে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে জীবিকানির্বাহের জন্য নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেবে। অর্থাৎ ‘অভাবে স্বভাব নষ্ট’ হবে। ফলে ঘুষ খাওয়া, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া, ওজনে কম দেওয়া, প্রতারণা ইত্যাদি বেড়ে যাবে। সমাজের একটি বড় অংশ যাতে কেবল পেটের দায়ে অপরাধমুখী হয়ে না পড়ে সেদিকে অবশ্যই দৃষ্টি দেওয়া দরকার।
দুই.
প্রখ্যাত ভাওয়াইয়া শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় তাঁর উদাত্ত কণ্ঠের একটি গানে বলেছেন, ‘চাষাদের, মুটেদের, মজুরের/চাষাদের, মুটেদের, মজুরের/ গরিবের নিঃস্বের ফকিরের/আমার এ দেশ .../সব মানুষের,/সব মানুষের’...। গানটি বা এই ধরনের অন্য কোনো দেশাত্মবোধক গান শুনলে আমরা সবাই (বাজেট যাঁরা বানান তাঁরাও!) ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে যাই। কিন্তু যখন একটা বাজেট প্রণয়ন করতে বসি জাতির জন্য বা প্রজেক্ট তৈয়ার করি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য, তখন এ দেশটা যে ‘সব মানুষের’ এটা বোধ হয় ভুলে যাই।
যাদের রক্তে-ঘামে আমাদের মাঠে ফসল ফলে, কারখানায় চাকা ঘোরে, তারা যদি একদিন ‘বকশিস চাই না মালিক হিসাবের পাওনা চাই’ (ষাটের দশকের শোনা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গণমুখী সঙ্গীতের কলি) বলে রাস্তায় নেমে পড়ে তখন? তখন কী হবে? তাই বলি, আসুন, গরিব যাতে আরো গরিব না হয়ে পড়ে, দেয়ালে তাদের পিঠ ঠেকতে ঠেকতে দেয়ালসুদ্ধ একদিন তারা যেন হুড়মুড় করে আপনাদের আমাদের মাথার ওপর না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখি। সুষম না হোক, অন্তত অসম বণ্টনটা তো ঠেকানো যায়।
লেখক : সাবেক সচিব, কবি।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT