স্বাস্থ্য কুশল

প্রাকৃতিক মহৌষধ মধু

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৭-২০১৯ ইং ০০:৫৬:৩০ | সংবাদটি ১৭৭ বার পঠিত

বিখ্যাত চিকিৎসক ইবনে সিনা তাঁর বিশ্বখ্যাত গবফরপধষ ঃবংঃ নড়ড়শ “ঞযব পধহড়হ ড়ভ গবফরপরহব”এ রোগের প্রতিষেধক হিসাবে মধু ব্যবহারের সুপারিশ করেছেন। তিনি মধুর উপকারিতা স¤পর্কে বলেছেন, মধু মানুষকে সুখী করে, পরিপাকে সহায়তা করে, ঠান্ডার উপশম করে, ক্ষুধা বাড়ায়,স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও তীক্ষè করে, জিহ¦া পরিষ্কার ও যৌবন রক্ষা করে।
দুই চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক চামচ মধু এক গ¬াস হাল্কা গরম পানি মিশিয়ে সেবন করলে মূত্রথলির জীবাণু ধ্বংস করে। দাঁতে ব্যথা হলে এক চামচ দারুচিনি গুঁড়ো, পাঁচ চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যথা যুক্ত দাঁতের গোড়ায় ব্যবহার করলে উপশম হয়। ব্যথা না সারা পর্যন্ত দিনে তিনবার করে ব্যবহার করতে হবে। দুই চা চামচ মধু ও তিন চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া ১৬ আউন্স পানি মিশিয়ে ক্লোরেষ্টেরলের রোগীকে সেবন করালে দুই ঘন্টার মধ্যে ক্লোলেষ্টেরলের পরিমাণ ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়। দিনে দু’বার সেবন করলে যে কোনও ধরনের ক্লোলেষ্টেরল জনিত রোগ উপশম হয়। যারা সাধারণ বা তীব্র ঠান্ডায় ভোগেন তাদের এক টেবিল চামচ হাল্কা গরম মধু ও দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে একবার করে তিন দিন সেবন করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় ঠান্ডা, পুরনো কাশি উপশম হয় ও সাইনাস পরিস্কার করে। দারুচিনি গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে সেবন করলে পাকস্থলীর ব্যথা ও গ্যাষ্ট্রিকজনিত ব্যথা উপশম হয় ও পাকস্থলীর মূল থেকে আলসার ভালো করে। দারুচিনি গুঁড়ো ও মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে রুটির সঙ্গে জেলির মতো মাখিয়ে সকালের পানি খাবারের সঙ্গে খেতে হবে। এটা ধমনীর ক্লোলেষ্টেরলের পরিমাণ কমায় ও রোগীকে হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন মধু ও দারুচিনি গুঁড়ো সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। দুই টেবিল চামচ মধুর ওপর সামান্য দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে খাবারের আগে সেবন করলে এসিডিটি কমে যায় ও ভারী খাবার হজম হয়। মধু ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণু ধংস করে। মধু ও দারুচিনি গুঁড়ো সমপরিমাণে মিশিয়ে একজিমা, দাঁদ ও অন্য সব ধরনের ত্বকের ইনফেকশনে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। দিনে দু’বার সাত দিন থেকে শুরু করে প্রয়োজনে এক মাস ব্যবহার করতে হবে। সকালে খাবারের আধ ঘন্টা আগে খালিপেটে ও রাতে শোবার আগে মধু ও দারুচিনি গুঁড়ো এক কাপ গরম পানি মিশিয়ে পান করতে হবে। নিয়মিত পান করলে স্থ–লকায় শরীরের ওজনও কমতে থাকে। এ মিশ্রণ নিয়মিত পানে উচ্চমানের খাবার খেলেও শরীরে চর্বি জমতে পারে না। সম্প্রতি জাপান ও অষ্ট্রেলিয়ায় পাকস্থলী ও হাড়ের ক্যান্সার সফলতার সঙ্গে সারছে। যেসব রোগী এ ধরনের ক্যান্সারে ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে এক টেবিল চামচ মধু ও এক চা চামচ দারচিনি গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে তিনবার এক মাস সেবন করলে আরোগ্য লাভ সম্ভব। ডাঃ মিল্টন যিনি এ গবেষণা করেছেন তিনি বলেন, এক গ্ল¬াস পানি অর্ধেক টেবিল চামচ মধু ও কিছু দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে দাঁত ব্রাশ করার পর ও বিকেলে পান করলে সাত দিনের মধ্যে শরীর সতেজ হয়ে ক্লান্তি দূর হয়। যে সব রোগী কানে কম শোনে তাদের ক্ষেত্রে সমপরিমাণ মধু ও দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে সকালে ও রাতে পান করলে শ্রবণশক্তি বৃদ্ধি পায়। খাঁটি মধু পোড়ার উপর আলতোভাবে নিয়মিত লাগালে পোড়ার জ্বালা বন্ধ করে, ব্যথা দূর করে ও দ্রুত উপশম হয়। শিশুদের ঘুমানোর আগে এক চা চামচ মধু খাওয়ালে বিছানায় প্রস্রাব করা বন্ধ হয়। এক গগ্লাস দুধের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে ভালো ঘুম হয়। ঘুমের পর শরীর সতেজ হয়, কর্মোদ্যম ফিরে পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানে মধু দ্বারা প্রলেপ দিয়ে বেঁধে দিলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায় ও নিয়মিত ব্যবহার করলে কোনও এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন এক চা চামচ মধু পান করলে ক্যালসিয়াম ব্যবহারে সহায়ক হয় ও অস্টিওপোরোসিস রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে পঞ্চাশোর্ধ বয়সের লোকের জন্য খুব উপকারী। হাল্কা গরম পানি এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মাইগ্রেন ব্যথার শুরুতে চুমুক দিয়ে পান করতে হবে। ২০ মিনিট পরপর পান করতে হবে এতে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।
মোট কথা প্রকৃতির দান মধুর উপকারিতার শেষ নেই। আজকাল অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে মধুর চাষ করতে শুরু করেছেন। এটা ভাল লক্ষণ কারণ বাজারে আজকাল খাটি ও ভাল মধু পাওয়া কঠিন।

 

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • রোগ প্রতিরোধে কাঁচা মরিচ
  • পেঁয়াজের যত গুণ
  •  ফুটপাতের শরবত আর চাটনি : সংকটে জনস্বাস্থ্য
  • মানব দেহে খাবারের প্রভাব
  • ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যা
  • যে কারণে আমরা মূল্যবান দাঁতকে নষ্ট করছি
  • মশা থেকে যত রোগ
  • হোমিও চিকিৎসায় ডেঙ্গু নিরাময়
  • পুড়ে গেলে কী করবেন
  • এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়
  • রোগ প্রতিরোধে আনারস
  • স্থূলতা : এখনই ব্যবস্থা জরুরি
  • মেহেদীর কতো গুণ
  • যে সব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
  • শিশুকে ওষুধ দিন বয়স ও ওজন অনুযায়ী
  • জ্বর কমার পরের সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ
  • কম্পিউটারজনিত চক্ষু সমস্যা
  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ
  • ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়
  • সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ
  • Developed by: Sparkle IT