উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

রেলপথের উপযোগিতা আছে

জ্যাস্টিন গোমেজ প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৭-২০১৯ ইং ০০:৩৮:১৩ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

সম্প্রতি মৌলভীবাজারে ঘটে যাওয়া রেল দুর্ঘটনা আমাদের দেশের জন্য এখন পর্যন্ত অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর আগে গাজীপুরের টঙ্গী ও নরসিংদীতে দুটি উল্লেখযোগ্য রেল দুর্ঘটনা ঘটে। এটি ছাড়াও ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে গত দেড় বছরে ঘটেছে ব্যাপক দুর্ঘটনা, যার মধ্যে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ-কুশিয়ারার মধ্যস্থলের রেলসেতু ভেঙে দুই দিন ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। একই পথে ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ মাধবপুরের ইটাখলা রেলব্রিজ ভেঙে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রেন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ পাঁচ দিন বন্ধ ছিল। তাই বলা চলে, ট্রেন দুর্ঘটনায় আজ নাজেহাল বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর বাংলাদেশের রেলসেতুর অবস্থা জানেন তো! এগুলোর অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। ১০০ কিংবা তারও অধিক বছরের পুরোনো। এসব সেতুর বেশির ভাগই ঝুঁকিপূর্ণ-জরাজীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা এসব সেতুর ওপর দিয়েই চলছে ট্রেন। ফলে একটু উনিশ-বিশ হলেই ঘটছে যত দুর্ঘটনা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষই স্বীকার করেছে যে ব্রিটিশ আমলের এসব সেতু একেবারেই অনুপযোগী। যেকোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং ঘটছেও। এমতাবস্থায় সেতুগুলো সময়োপযোগী করে পুন:নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।
রেলসেতু ভেঙে পড়ে যাওয়া ছাড়াও আরো বিভিন্ন কারণে রেল দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে লেভেল ক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার হার অনেক। দুর্ঘটনা মূলত সড়কে চলা বিভিন্ন পরিবহনচালকের অসতর্কতার কারণে হয়ে থাকে। এছাড়া পয়েন্ট সিগন্যাল লাইনে ত্রুটি ও উন্নয়নকাজ চলা অবস্থায় ট্রেন লুপ লাইন কিংবা সাইড লাইনে গেলে অনেক সময় লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। আরেকটি হচ্ছে হিউম্যান ফেইলিওর। অর্থাৎ, রেলওয়ের সিগন্যাল, গার্ডসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অসতর্কতা কিংবা অবহেলার কারণেও রেল দুর্ঘটনা হচ্ছে।
তারপরও স্বীকার করতে হবে, রেল দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ের গাফিলতিই দায়ী। রুটিন চেকআপ ছাড়াই চলছে ট্রেন, যার জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে মূল্যবান জীবন হারাতে হচ্ছে। অথচ এর জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি রেলস্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার ১০ মিনিট আগে রেললাইন এবং ইঞ্জিন ও বগির ত্রুটি আছে কি না, তা চেক করার কথা থাকলেও তা মাঝে সাঝে হয় আর প্রায়ই হয় না বললেই চলে। ফলে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর জন্য জনবলের সংকটকেও দায়ী করা যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব রেললাইন আছে, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর অবস্থা ভালো নয়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই উন্নত করার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। যশোর থেকে বেনাপোল অবধি রেললাইনের অবস্থা ভালো নয়।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন রকমের ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। পাতালরেল থেকে শুরু করে রোপট্রেন, শাটল ট্রেন ও নানা ধরনের ট্রেন। এসব ট্রেনের কোনোটা মাটির নিচ দিয়ে চলে, কোনোটা মাটি স্পর্শ করে আবার কোনোটা বাড়িঘর, দালান-কোঠার ওপর দিয়ে নির্বিঘেœ ও নিরুপদ্রবে চলে। কোনো কোনো দেশে তো প্রায় বিমানের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুতগামী ট্রেন চালু হয়েছে। আর আমরা ব্রিটিশ আমলের স্থাপিত রেলওয়ে নেটওয়ার্কই চালাতে পারছি না। ভেঙে পড়েছে আমাদের রেলওয়ে যোগাযোগব্যবস্থা। তাই যে কয়টি স্থলবন্দর আছে, প্রতিটির সঙ্গে উন্নত রেলযোগাযোগ হলে বাণিজ্যিকভাবে রেল কর্তৃপক্ষ অনেক লাভবান হতে পারে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে একটি সমীক্ষা অবশ্যই হওয়া দরকার, কোথায় এবং কোন এলাকায় রেলের সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT