সম্পাদকীয়

অপ্রয়োজনীয় ‘সিজার’

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৭-২০১৯ ইং ০০:০৯:২৩ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত

‘অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেশে প্রসূতি মায়েদের অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে একটি নীতিমালা তৈরি করে ছয় মাসের মধ্যে তা প্রতিবেদন আকারে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই আদেশে আগামী এক মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে কমিটি গঠন ও সেই কমিটিকে ছয় মাসের মধ্যে নীতিমালা করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) দায়ের করা রিট এর প্রেক্ষিতে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। প্রসূতিদের সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে এই প্রবণতা বেশি। চিকিৎসক থেকে শুরু করে হাসপাতাল-ক্লিনিকে কর্মরতরা অপ্রয়োজনীয় সিজারে উৎসাহিত করে প্রসূতিদের; এতে লাভবান হয় চিকিৎসক, ক্লিনিকের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় রোগীরা।
প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ গত দুই বছরে। একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এই তথ্য দিয়ে বলেছে- এটি অপ্রয়োজনীয় এবং এতে মা-বাবাদের সন্তান জন্মদানে ব্যাপক পরিমাণে খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে। এই সংস্থাটির মতে ২০১৮ সালে বাংলাদেশী মা বাবারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে খরচ করেছেন চার কোটি টাকার বেশি। আর সিজারিয়ানের হার বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে বেশি। বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে যতো শিশুর জন্ম হয়, তার ৮০ শতাংশই হয় সিজারিয়ানের মাধ্যমে। আর ২০১৮ সালে যতো সিজারিয়ান হয়েছে, তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিলো বলে এই সংস্থাটি মনে করে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের হার দিন দিন বেড়ে চলেছে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার বেড়েছে চার থেকে ৩১ শতাংশ। আরও দুঃখজনক হচ্ছে, এমন কাজের জন্য দায়ী কিছু অসাধু চিকিৎসক, যাদের কাছে সিজারিয়ান একটি ‘লাভজনক ব্যবসা’। এর জন্য আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার অনিয়ম বিশৃঙ্খলাও অনেকটাই দায়ী।
অনেক সময়ই আমাদের চিকিৎসক সমাজ ভুলে যান যে, এটি একটি সেবামূলক পেশা। মানবসেবার মনোভাব নিয়ে তারা যদি এই পেশায় নিয়োজিত থাকতেন, তাহলে মানুষের এতো ভোগান্তি হতো না। সত্যি বলতে কি, অসাধু চিকিৎসকেরা সিজারিয়ানের বিষয়টিতে অযথা গুরুত্ব দিয়ে একে প্রসূতিদের কাছে অপরিহার্য করে তুলেছেন। তাই অনেকেই বিনা বাক্য ব্যয়ে সিজারিয়ানের ব্যাপারটিকে মেনে নিচ্ছে; আবার অনেকে চিকিৎসকের কথায় বাধ্য হচ্ছে সিজারিয়ানে। অথচ এই সিজারিয়ানে মা ও শিশু উভয়েরই স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এজন্য অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান থেকে দূরে থাকতে সচেতন হতে হবে প্রসূতি, প্রসূতির পরিবার ও চিকিৎসকদের। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কঠোর অবস্থানে যাবে বলেই আমরা মনে করি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT