ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান

পরাগ মাঝি প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৭-২০১৯ ইং ০০:১০:১৩ | সংবাদটি ১৩৩ বার পঠিত

সুদূর অতীতে এমন কিছু শক্তিমান মানুষ ছিলেন যাদের শারীরিক শক্তির কৃতিত্ব আজকের দিনেও অখ-নযোগ্য। এদের কেউ ছিলেন জলদস্যু, কেউ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া কিশোর, আবার এতিমখানায়ও বেড়ে উঠেছিলেন কেউ। ইতিহাসের এমন সাত শক্তিমানকে নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
ওর্ম স্টর্লফসন (৮ম-১১ শতক)
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জলদস্যুরা কলহ-বিবাদ এবং রগচটা স্বভাবের জন্য বিশেষ পরিচিত ছিল। তাদের বলা হতো নিষ্ঠুর অভিযাত্রী এবং দক্ষ ব্যবসায়ী। সমুদ্রপথে সারা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াতেন তারা। চলার পথে এমনও হয়েছে যে, গভীর জলের কোনো পথের সন্ধানে তারা তাদের জাহাজকে পানি থেকে ডাঙায় তুলে টেনে নিয়ে গেছেন। একজন অদম্য নাবিক নির্বাচনের জন্য জলদস্যুদের বিশেষ কয়েকটি পরীক্ষা ছিল। এসব পরীক্ষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑপাথর উত্তোলন। নিজেদের মধ্যে সম্মানের পাত্র হওয়ার জন্য কোনো কোনো দস্যু ৩৪০ পাউন্ড বা ১৫৪ কেজিরও বেশি ওজনের পাথর উত্তোলন করে বীরত্ব দেখাতেন।
একজনের কথা না বললেই নয়। প্রায় ১ হাজার বছর আগে জলদস্যুদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আইসল্যান্ডের ওর্ম স্টর্লফসন।
জানা যায়, নরওয়ের ঐতিহাসিক জাহাজ ‘ওরম্যান লেইঞ্জ’-এর ৬৫০ কেজি ওজনের মাস্তুলটি কাঁধে নিয়ে অন্তত তিন কদম হেঁটেছিলেন স্টর্লফসন। যদিও এরপরই তার পিঠের হাড় গুঁড়িয়ে যায়। ১১ গজ দীর্ঘ ওই মাস্তুলটি ওপরে তোলার জন্য অন্তত ৫০ জন মানুষের প্রয়োজন হতো।
তবে, শক্তি পরীক্ষায় সম্প্রতি স্টর্লফসনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন হ্যাফোর জনসন। ‘গেম অফ থ্রোন্স’ সিনেমার ভক্তদের কাছে হ্যাফোর জনসন ‘দ্য মাউন্টেইন’ নামে পরিচিত। জলদস্যুদের ঐতিহ্যকে স্মরণ করতে প্রতি বছর নরওয়েতে একটি ‘ওজন উত্তোলন’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন জনসন। প্রতিযোগিতায় তিনিও তার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন স্টর্লফসনের বহন করা ওজনের সমান একটি বস্তু। তবে স্টর্লফসনের চেয়ে তিনি দুই কদম বেশি অর্থাৎ পাঁচ কদম পথ অতিক্রম করেছেন এবং দিব্যি সুস্থ আছেন। প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে আইসল্যান্ডের হুজাফেল গ্রামে ভার উত্তোলনের এই প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৯২ সাল থেকে এটি ‘ওয়ার্ল্ড স্ট্রংগেস্ট ম্যান কনটেস্ট’ নামে পরিচিত।
উইলিয়াম বেনকিয়ার (১৮৭০-১৯৪৯)
উইলিয়াম বেনকিয়ারকে অনেকে ‘অ্যাপোলো’ এবং ‘দ্য স্কটিশ হারকিউলিস’ নামেও ডাকতেন। তিনি ছিলেন প্রথম দিকের একজন বডি বিল্ডার। শারীরিক শক্তির দিক দিয়েও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পনের বছর বয়সেই দুইবার তিনি বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার পালিয়ে তিনি একটি সার্কাস দলের সঙ্গে যোগ দেন। ওই দলে তিনি একজন বন্ধু এবং পরামর্শদাতাকে খুঁজে পান, যিনি পরবর্তী জীবনে বেনকিয়ারকে একজন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। শরীরে অমিত শক্তি ধারণ করলেও বেনকিয়ার সীমাহীন মদ্যপায়ী হিসেবে বেশ কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তবে, মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানও তার শক্তিকে ক্ষয় করতে পারেনি।
জানা যায়, সার্কাস দলের একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে আস্ত এক হাতিকেই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বেনকিয়ার। তার শক্তিমত্তা সম্পর্কে আরও জানা যায়, দুই হাতে ৫৬ পাউন্ড ওজনের দুটি ভারী বস্তু নিয়ে লাফ দিয়ে একটি চেয়ারের সামনে থেকে পেছনে কিংবা পেছন থেকে সামনে আসতে পারতেন। কথিত আছে, শো করার সময় বেনকিয়ার দর্শকদের ৪৭৫ পাউন্ড ওজনের একটি পিয়ানো উত্তোলনের জন্য বাজি ধরতেন। কেউ যদি এই বাজির পরীক্ষা দিতেন তবে, অবধারিতভাবেই বেনকিয়ারের কাছে তাকে হারতে হতো।
অবসরের পর একজন রেসলিং প্রমোটরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন বেনকিয়ার। তিনি কয়েকজন রেসলারকে নিয়ে একটি দলও গঠন করেন। ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত বই ‘আইডিয়াল ফিজিক্যাল কালচার : অ্যান্ড দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট দ্য স্ট্রংম্যান’। এই বইয়ে বেনকিয়ার তথা অ্যাপোলো তার প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মান ইউজেন শেনডোকে রেসলিং, দৌড়, লাফ এবং ভারোত্তোলনে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। যদিও এই চ্যালেঞ্জ নাকচ করে দেন ইউজেন।
ডোনাল্ড ডিন্নি (১৮৩৭-১৯১৬)
ডিন্নিও ছিলেন স্কটল্যান্ডের। দেশটির সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে গণ্য করা হয় ডিন্নিকে। তিনি ছিলেন অমিত শক্তির অধিকারী। প্রায় অর্ধ শতাব্দীর ক্যারিয়ারে তিনি ১১ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৬টি ‘হাইল্যান্ড গেমস’ প্রতিযোগিতাও ছিল। এটি ছিল স্কটল্যান্ডের বাৎসরিক ইভেন্ট। এই প্রতিযোগিতায় ভারোত্তোলনে তিনি ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত টানা চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। পরে ১৮৭১ থেকে ১৮৭৬ সাল পর্যন্তও টানা চ্যাম্পিয়ন হন। ডিন্নি যে বছর অ্যাথলেট হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, সে বছরই বাজিমাত করেন। কারণ ভারী হ্যামার নিক্ষেপ, ভারী পাথর নিক্ষেপ এবং উচ্চলাফে তিনি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। ২০০টি রেসলিং টুর্নামেন্টসহ সারা জীবনে ২ হাজারেরও বেশি রেসলিং ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে একটি প্রতিযোগিতায় তিনি যে পরিমাণ অর্থ জিতেছিলেন আজকের দিনে তা ২৫ লাখ ডলারের সমতুল্য।
তবে, তার একটি শক্তিমত্তার প্রমাণ বর্তমান কালের শক্তিমানরাও পরখ করে দেখেন। জানা যায়, ১৮৬০ সালে সম্মিলিতভাবে ৭৩৩ পাউন্ড ওজনের দুটি গ্রানাইট পাথর বহন করে ১৭ ফুট পথ অতিক্রম করেছিলেন ডিন্নি। মজার ব্যাপার হলো, ঐতিহাসিক ওই পাথর দুটো এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী বহন করে ডিন্নির সমপরিমাণ পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিজের সময়ে ডিন্নি এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে এক ধরনের ভারী আর্টিলারি গোলার ডাক নাম ছিল ‘ডোনাল্ড ডিন্নিজ’।
থমাস তোফাম (১৭১০-১৭৪৯)
অষ্টাদশ শতকের নামকরা শক্তিমান থমাস তোফাম ‘দুষ্ট বালক’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ইংল্যান্ডের লন্ডনে জন্ম নেওয়া থমাসের ডাক নাম ছিল ব্রিটিশ স্যামসন। তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল নিজের মদের দোকানেই। ১৭৪১ সালে ইংল্যান্ডের অ্যাডমিরাল ভার্ননের সম্মানে তিনটি মদের পিপা একসঙ্গে কাঁধে নিয়েছিলেন। এই তিনটি পিপার সম্মিলিত ওজন ছিল ১ হাজার ৩৩৬ পাউন্ড বা ৬০৫ কেজি। ইংলিশদের পানামা বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভার্নন।
থমাসের প্রথম প্রদর্শনীটি ছিল একটি ঘোড়ার সঙ্গে শক্তিমত্তার পরীক্ষা দেওয়া। জানা যায়, ঘোড়াটি অনেক চেষ্টা করেও থমাসকে তার জায়গা থেকে নড়াতে পারেনি। ১৭৩৪ সালে লন্ডনের স্টেশনার’স হলে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টে এক প্রদর্শনীতে দেখা যায়, দুই দিকে দুটি চেয়ারে পা ও মাথা ঠেকিয়ে ডান হাতে একটি ওয়াইনের গ্লাস হাতে শুয়ে আছেন থমাস। এসময় তার ওপর চড়ে বসে পাঁচ ব্যক্তি। সবাই ভাবছিল অতিরিক্ত ওজনে নিশ্চিতভাবেই দুই চেয়ারের মধ্যবর্তী স্থানে অসহায়ভাবে পড়ে যাবেন থমাস। কিন্তু এখানেও তার শক্তিমত্তা সবাইকে অবাক করে দেয়।
তবে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন থিওফিলাস দেসাগুইলার। থিওফিলাস ছিলেন বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের সহকারী। তিনি থমাসের প্রতারণা নিয়ে একটি বইও লিখেছিলেন। এই বইটিতে দাঁত দিয়ে ১০০ পাউন্ড ওজনের একটি টেবিল ওপরে তোলা, ৮০০ পাউন্ড ওজনের একটি পাথর উত্তোলন এবং একটি ফ্রাইপ্যান মুচড়ে দেওয়ার মতো কা-গুলোতে থমাস প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন থিওফিলাস। তিনি থমাসের প্রতিবেশী ছিলেন।
পল এন্ডারসন (১৯৩২-১৯৯৪)
‘দ্য জর্জিয়া পিচ’, ‘ওয়ান্ডার অফ নেচার’ এমন নানা উপাধিতে ভূষিত করা হয় পল এন্ডারসনকে। তার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়ার তকোয়ায়। আধুনিককালের ভারোত্তোলনের জনক বলা হয় পল এন্ডারসনকে। ভারোত্তোলনের প্রশিক্ষণ তিনি স্কুলে পড়া অবস্থায়ই নিয়েছিলেন। তবে, স্কুলের ফুটবল টিম গঠনের অংশ হিসেবে ওই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ডাম্বেল ওঠানামা করা তার কাছে একটি অনায়াস ব্যাপার হয়ে যায়। ঢালাই কংক্রিট ভর্তি একটি ৫৫ গ্যালনের ড্রাম উঠিয়ে তিনি সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ২২-২৩ বছর বয়সে ভারোত্তোলনে তিনি জাতীয় পর্যায় তো বটেই সারা পৃথিবীতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যান এবং অলিম্পিকেও স্বর্ণপদক জয় করেন। একজন পেশাদার ভারোত্তোলক হিসেবে তিনি বছরে ৫ শতাধিক ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিরল কীর্তি গড়েন। কারণ জর্জিয়ার ভিদালিয়ায় তিনি একটি যুব সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সংঘের তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি অসংখ্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত তার ওই সংঘটি এখনো সক্রিয় আছে।
জানা যায়, ১৯৫৭ সালে ২৫ বছর বয়সে পল এন্ডারসনের ওজন ছিল ১৬৩ কেজি। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি তার নিজের ওজনের ১৭ গুণ বেশি ওজন (২৮৪০ কেজি) পিঠে নিতে সক্ষম হন। এই পৃথিবীতে বিচরণ করা সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষদের মধ্যে পল এন্ডারসনকে রাখতে হয় সবার আগে।
মন্ট শ্যালডো (১৮৭৯-১৯৪৯)
প্রথম দিকের বডি বিল্ডার হিসেবে মন্ট শ্যালডোর নামটি উল্লেখযোগ্য। লন্ডনের হাইগেটে ১৮৭৯ সালে তার জন্ম। তার বাবা ছিলেন মুচি। ছোটবেলায় শখের বসে লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটে একটি ভারোত্তোলন ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন শ্যালডো। ১৮৯৭ সালে ১৮ বছর বয়সে জার্মান কিংবদন্তি বডি বিল্ডার ইউজেন শ্যানডোর সঙ্গে তার দেখা হয়। বডি বিল্ডার হিসেবে শ্যালডোর প্রথম অভিষেক হয়েছিল ইউজেনের হাত ধরে লিডস-এর কলিসিয়ামে। ইউজেনের দলে কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ওই দলের আরেক সদস্য রোনকো’র সঙ্গে। পরে এই দুজন এক হয়ে কয়েকটি শারীরিক কসরতের খেলা দেখিয়ে বাজিমাত করেন এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শো করার জন্য বেরিয়ে পড়েন।
মন্ট শ্যালডোর বিখ্যাত একটি স্টান্ট হলো পাঁচ যাত্রীসহ একটি প্রাইভেটকারকে নিজের পেটের ওপর নিয়ে নেওয়া। দুই হাত এবং দুই পায়ের ওপর ভর করে এই দুরূহ কাজটি তিনি করেছিলেন একটি দোলানো পাটাতনের ওপর। ফলে গাড়িটি তার পেটের ওপরই সামনে-পেছনে নড়াচড়া করছিল। ১৯০৩ সালে লন্ডন প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত ওই স্ট্যান্টে উপস্থিত দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মন্ট শ্যালডো। দ্য স্কটিশ হারকিউলিস হিসেবে পরিচিত উইলিয়াম বেনকিয়ারের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।
পিটার ফ্রান্সিসকো (১৭৬০-১৮৩১)
ইতিহাসে পিটার ফ্রান্সিকোর নামটি ‘দ্য ভার্জিনিয়া জায়ান্ট’ হিসেবেও পরিচিত। তার জন্ম পর্তুগালে হলেও তিনি আমেরিকান রিভলিউশনের একজন নায়ক ছিলেন। ব্যাটল অব ইয়র্কটাউনের ঐতিহাসিক যুদ্ধে তার বীরত্বে পরাজয় বরণ করেছিল ব্রিটিশ বাহিনী। তিনি ভার্জিনিয়ার একটি এতিমখানায় বড় হয়েছিলেন। ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি এক কামারের দোকানে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ওই বয়সেই ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ফ্রান্সিসকোর ওজন হয় ১১৮ কেজি। সে সময় প্যাট্রিক হ্যানরি’র ঐতিহাসিক ‘স্বাধীনতা দাও, নয়তো মৃত্যু’ বক্তব্যটি শুনে তিনি অনুপ্রাণিত হন এবং আমেরিকান বাহিনীতে যোগ দেন।
জানা যায়, ১৭৮০ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ব্যাটল অফ ক্যামডেনে কাদায় আটকে যাওয়া ৫০০ কেজি ওজনের একটি কামানকে কাঁধে তুলে শুকনো জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন ফ্রান্সিসকো। আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এক বক্তব্যে ফ্রান্সিসকোকে নির্দেশ করে বলেছিলেন, ‘তাকে ছাড়া আমরা হয়তো দুটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে হেরে যেতাম। সে একাই এক বাহিনী।’ আমেরিকার ডাকটিকিটে ফ্রান্সিসকো’র ছবি ব্যবহার করা হয় এবং নিউ জার্সিতে পর্তুগিজ অধ্যুষিত একটি এলাকার নামকরণ করা হয় তার নামে।

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাঙালির ইতিহাসে দুঃখের দিন
  • ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা
  • সাংবাদিকদের কল্যাণে সিলেট প্রেসক্লাব
  • প্রাকৃতিক মমিতে নির্মমতার ইতিহাস
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় ও সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যের তাঁত শিল্প
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান
  • ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস
  • বর্ষাযাপন : শহর বনাম গ্রামগঞ্জ
  • বর্ষা এলো বর্ষা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • নবীদের স্মৃতিচিহ্নে ধন্য যে জাদুঘর
  • দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র
  • ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়
  • বিলুপ্তির পথে গরীবের ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ মাটির ঘর
  • হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ
  • তালের পাখা প্রাণের সখা
  • Developed by: Sparkle IT