উপ সম্পাদকীয়

গণতান্ত্রিক সুশাসন ও জনগণের ক্ষমতায়ন

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৭-২০১৯ ইং ০০:০৬:৩৯ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত

রাষ্ট্রের অন্তর্গত মানুষের জীবন, সম্পত্তি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রদান করা একটা আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্র যখন এগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে তখন পর্যায়ক্রমে একটা রাষ্ট্র নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হতে থাকে এবং সাধারণত এ ধরনের অবস্থায় পতিত রাষ্ট্রগুলো ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত হয়।
মানুষের কল্যাণ ও উন্নত জীবন ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধান করা, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সহ রাষ্ট্রের নাগরিকদের কল্যাণার্থে আধুনিক রাষ্ট্রগুলোকে বহুমুখি কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হয়। সামস্টিকভাবে বলা যায়, জনগণের জীবনের নিরাপত্তা, উন্নত জীবন ব্যবস্থা, মানবিক সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্বাধীন মানুষের স্বাধীনতার অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া এবং সর্বোপরি আইনের শাসনের নিশ্চয়তা ও ন্যায় বিচার ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য কমপক্ষে তিনটা বিষয়ের নিশ্চিত ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। এগুলো হলো; গণতন্ত্র, সুশাসন এবং উন্নয়ন। একটা স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও মানবিক সমাজ গঠনে এ তিনটা বিষয় পরস্পর নির্ভরশীল এবং একটা ব্যতীত অপরগুলো রাষ্ট্রের জনগণের জন্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের অভিমত।
গণতান্ত্রিক সুশাসনের মূলগত অর্থ হলো-শাসন ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সিদ্ধান্তের আলোকে কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও পরিপূর্ণ জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা বিধান করা। আরো হলো-সর্বক্ষেত্রে উঁচু স্তর থেকে নি¤œস্তরের পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের কাজের জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা এবং দায়িত্ব পালনে যে কোনো অবহেলার জন্য আইনসঙ্গত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
আইনসঙ্গত শাস্তির ব্যবস্থার জন্য দুটি বিষয় পরস্পর নির্ভরশীল তাহলো-আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার। অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসন কায়েম করা এবং আইনের আলোকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, নির্মোহ ও হস্তক্ষেপমুক্ত বিচারের মাধ্যমে খুবই দ্রুততার সাথে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা। এছাড়াও রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে এগুলোর ক্ষমতায়ন করা। এসবগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করা এবং মানুষের জীবনমানের গুণগত পরিবর্তন করা।
জনকল্যাণধর্মী মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই শাসনের সকল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য কেননা রাষ্ট্র ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অভিমত হলো, জনগণের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন ও গুণগত পরিবর্তনের জন্য শাসনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ একটা পূর্বশর্ত বটে। আর কেবলমাত্র একটা উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক শাসনেই জনগণের অবাধ অংশগ্রহণ সম্ভব। জনগণের শাসনে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবার প্রথম শর্তই হলো-অবাধ, মুক্ত, নিরপেক্ষ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে জনগণ যাতে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা এবং অবশ্যই নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান করা-যাতে মানুষ তার পছন্দের সরকার বহাল বা অপসারণ এবং একইভাবে পছন্দের প্রার্থীকে পদে বহাল রাখতে বা অপসারণ করতে পারে।
অবাধ, মুক্ত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ ও নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান জনগণের সাথে শাসকগোষ্ঠীর যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করে এবং একই সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীর নিকট থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আদায়ের একটা অন্যতম মাধ্যমও হলো গণতান্ত্রিক নির্বাচন। বৈধ শাসনের উৎসও হলো সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
এক নির্বাচন থেকে পরবর্তী নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়কালে নির্বাচিত শাসক ও পদবীধারীদের কর্মকান্ডের ফিরিস্তি নিয়ে আবারো জনগণের মুখোমুখি হতে হয়, নির্বাচনে জনগণের নিকট তাঁর বিগত সময়ের কাজের জবাবদিহি করতে হয় বলে রাজনৈতিক শাসকগোষ্ঠী সর্বাবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আইনের শাসনভিত্তিক শাসন পরিচালনায় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে। এখানেই অবাধ, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমুলক এবং দেশে-বিদেশে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাৎপর্য নিহিত। মনে রাখা দরকার যে, অগ্রহণযোগ্য যেনতেন প্রকারের নির্বাচন অনুষ্ঠান গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়ন লক্ষ্যকে ভূলুন্ঠিত করে, জনগণের নিকট শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতাকে অবমূল্যায়িত করে বিধায় সার্বিক অর্থে জনগণের সুপ্রীমেসি ও জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে অস্বীকার করে। এর ফলে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের উদ্ভব হয়, একটা গোষ্ঠীর হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয় এবং এক সময় এ ক্ষমতা একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত ও পরিচালিত হয়। এ ধরনের শাসন ও অবস্থা পরিনামে রাষ্ট্র ও জনগণের সর্বনাশ ডেকে আনে। সুশাসনের স্থলে দুঃশাসন মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। প্রতিষ্ঠিত হয় কর্তৃত্ববাদী শাসন।
সুশাসনের জন্য ছয়টা উপাদান থাকা অপরিহার্য বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সেগুলো হলো ঃ ১। জবাবদিহিতা ও জনগণের মতামত যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ২। সরকারের কার্যকরতা, জনগণের নিকট সরকারের গ্রহণযোগ্যতা, নীতি প্রণয়ন ও সরকারী সেবা প্রদান, ৩। সরকারী নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর গুণগত দিক, ৪। আইনের শাসন, ৫। বিচার বিভাগের পৃথককরণ ও স্বাধীন, নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ এবং ৬। দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।
অন্যদিকে, ইউএনডিপি সুশাসনের জন্য দশটা মানদন্ডের অপরিহার্যতা রয়েছে বলে মনে করে। এগুলো হচ্ছে ঃ ১। শাসনে জনঅংশগ্রহণ, ২। আইনের শাসন, ৩। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, ৪। দায়িত্বশীলতা, সমন্বয়ের প্রক্রিয়া, ৫। ইক্যুইটি, কার্যকারিতা ও দক্ষতা, ৬। স্ট্র্যাটেজিক ভিশন, ৭। শ্রদ্ধাবোধ, ৮। সহনশীলতা, ৯। সমতা, ১০। দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।
সুশাসন মূলতঃ জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার অর্জনের সাথে সম্পর্কিত বিধায় রাষ্ট্রীয় সম্পদে, শাসনে জনগণের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা পালনের বিষয়টা হলো মুখ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুশাসন তখনই নিশ্চিত হবে-যেখানে যখন শাসক কর্তৃপক্ষ জনগণের প্রকৃত সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে ও তাদের সম্মতিতে দায়িত্ব পালন করবে। এবং অবশ্যই শাসক কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকট দায়বদ্ধ ও জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। জনগণকে ভয়ভীতিমুক্ত অবস্থায় সংগঠিত হওয়ার ও কথা বলার অধিকার দিতে হবে এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। কেননা, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার হলো প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রহরী। ব্যক্তি নিরাপত্তার সাথে জড়িত রয়েছে ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির ভোগের অধিকারের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা। আর এভাবেই নাগরিকের সকল অধিকারের নিরাপত্তা বিধানের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যদিয়েই উন্নয়নের পথে যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।
সাধারণ জনগণের কাছে সুশাসনের অর্থ হলো, জীবনমানের গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন, সম্পত্তি, আয় ও প্রাকৃতিক সম্পদের সমতাধর্মী বন্টন, কেন্দ্রীভূত সম্পত্তি মালিকানা কাঠামোর পরিবর্তন, পূর্ণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা, অভিজাতদের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধার পরিধি হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ, জনগণের সরকার ও প্রতিনিধি নির্বাচনের বিকল্প পছন্দ করার সুযোগ ও অধিকারের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এবং আরো অনেক কিছু যা জনগণের সুন্দর-পরিচ্ছন্ন জীবন নির্বাহের জন্য একান্ত আবশ্যক।
তাই বলা যায়-সুশাসন হলো এমন এক বিষয় যেখানে একটা সুনির্দিষ্ট কাঠামোর অধীনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ও ক্ষমতার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জননীতি প্রণীত ও পরিচালিত হয়। আর রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর যথাযথ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এভাবেই রাষ্ট্র ও সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার সুনিশ্চিত হয়, সমাজ অপরাধমুক্ত হয়। অন্যদিকে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো ভোগের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়, মানুষের জীবনের মৌলিক পরিবর্তন ও গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পৃথিবীতে পরিবর্তন আসছে, উন্নতি হচ্ছে অনেক, তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে, মানুষে-মানুষে বৈষম্য ও তারতম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাপকভাবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, এসব হচ্ছে গণতান্ত্রিক সুশাসনের অভাবে। উন্নত রাষ্ট্র আর অনুন্নত রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্যের দিকটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে উন্নত দেশগুলোতে শাসনে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দেশের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেটা অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোতে কল্পনাই করা যায় না। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে আইনের শাসন বহাল থাকায় মানুষের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা রয়েছে। পক্ষান্তরে-তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এসব উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোতে দেখা যায়,-মানুষের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা বা দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই। বিচার দ্রুত করার জন্য কোনো কোনো অনুন্নত রাষ্ট্রে দ্রুত বিচার আইন নামে আইন প্রণয়ন করেও দ্রুততার সাথে ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে বিচার নিষ্পত্তি করা যাচ্ছেনা। বরং এসব দ্রুত বিচার আইন সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসবই হয়ে থাকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের নিশ্চয়তা না থাকার কারণে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের ৩০% শতাংশ রাষ্ট্র যেগুলো উন্নত রাষ্ট্র, সেগুলোতে কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসন বিদ্যমান থাকায় সেগুলোতে রাষ্ট্র শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাসক ও প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে বিধায় এসব রাষ্ট্রে সুশাসনও বিদ্যমান রয়েছে। ‘আইনের শাসন’ ও ন্যায় বিচার ব্যবস্থার নিশ্চয়তা থাকায় ঐ রাষ্ট্রগুলোতে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষিত আছে। অন্যদিকে, ৭০% শতাংশ রাষ্ট্রেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন বিদ্যমান না থাকায় শাসন ব্যবস্থায় জনগণের সত্যিকার অংশ গ্রহণ একদম সীমিত; ভোটাধিকার প্রয়োগেও রয়েছে শতেক বাধা। ফলে সরকার বা প্রতিনিধি নির্বাচনেও জনগণের পছন্দের অধিকার গৌণ পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে এসব রাষ্ট্রে শাসন কর্তৃপক্ষ বা প্রতিনিধিদের ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহিতা আদায়ের সুযোগ খুব একটা থাকে না বিধায় ঐসব রাষ্ট্রে সুশাসন ও দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থার অভাব পরিলক্ষিত হয়-যা জাতীয় উন্নয়নকে ব্যাহত করে; দুর্নীতি লাগামহীন ভাবে বেড়ে যায় এবং কিছু মানুষের হাতে-যারা শাসক কর্তৃপক্ষের আশীর্বাদপুষ্ট-তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কেন্দ্রীভূত হতে থাকে এবং এ কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর গণমানুষের অধিকার নিশ্চিত করা যায় না। ফলে রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বঞ্চিত হয় সম্পদের অধিকার থেকে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ও শাসকদের আশীর্বাদপুষ্টরা দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি মুষ্টিমেয় ঐ সম্পদ আত্মসাৎকারী লুটেরা গোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্র শাসন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নিজেদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের শাসন কর্তৃত্ব ও লুন্ঠিত জাতীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিরাপদে সুরক্ষিত রাখার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ জনগণকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও রাষ্ট্র শাসন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখতে নানাবিধ দমনমূলক অপকৌশল এবং এমনকি নিষ্ঠুর নির্যাতন-নিপীড়নমূলক পন্থা গ্রহণ করে থাকে। জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে,-পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিয়ে থাকে এবং শাসকদের পছন্দনীয় পথে নির্বাচন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করে থাকে। ফলে জনগণ তাঁর পছন্দের প্রার্থী বা শাসক কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের সুযোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। জনগণের ওপর কর্তৃত্ব স্থায়ী ও নিরাপদ করার জন্য সুশাসন, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার এসব কিছুকে অবজ্ঞা করে সব কিছুর ওপর লুটেরা শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়ে থাকে।
রাষ্ট্রনীতি ও সুশাসন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের উন্নতি সাধন করা কখনো সম্ভব হবে না-যতক্ষণ না ইলেক্ট্রোরাল বডিজ, আইন সভা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং বিচার সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত শক্তিশালী, স্বাধীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক না হবে। তাই শাসনে, সম্পদে, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের সত্যিকার অংশগ্রহণ, কর্র্তৃত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুনিশ্চিত করার জন্য গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক। এতে করে মানুষ তার মৌলিক অধিকার, জীবন, সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সুরক্ষার অধিকারগুলো অর্জন করতে পারবে। ফলে, মানুষের ভোটের অধিকার, শাসক নির্বাচনে পছন্দের স্বাধীনতা ও ভয়ভীতিমুক্ত অবস্থায় কথা বলার ও নিজের ইচ্ছার অধিকারের প্রকাশ ঘটাতে পারবে। সরকারে ও শাসনে মানুষের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে এবং এভাবেই কর্তৃত্ববাদী লুটেরা গোষ্ঠীর শাসন প্রতিহত করে সুশাসন ভিত্তিক সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ধরনের শাসনেই সুশাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT