সম্পাদকীয়

বিশ্বজনসংখ্যা দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৭-২০১৯ ইং ০০:০৯:৫১ | সংবাদটি ১৩০ বার পঠিত


বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ। দিবসটি পালিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও। প্রতি বছরই আজকের এই দিনে দিবসটি পালিত হয়। মূলত: একটি দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে জনসংখ্যাকে ভারসাম্যপূর্ণ পর্যায়ে সীমিত রাখার আহবান জানানোই দিবসটি পালনের প্রধান লক্ষ। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যেখানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের চিত্র উল্টো। বিশ্বের অনেক দেশেই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে আশীর্বাদ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা অভিশাপ। এদেশে প্রতি মিনিটে জন্ম হচ্ছে চার শিশু। তাই এখানে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। দিবসটি উপলক্ষে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালিত হবে। বর্তমানে আমাদের জনসংখ্যা কতো, তার সঠিক তথ্য জানা মুশকিল। কারণ দেশে বিভিন্ন সময় যে আদমশুমারী হয়, নানা কারণে তাতে জনসংখ্যার আসল চিত্র বেরিয়ে আসেনা। তবে বছর চারেক আগে অনুষ্ঠিত আদমশুমারীর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। বর্তমানে নিশ্চয় জনসংখ্যা ১৬ কোটির চেয়ে বেশি হবে।
আমাদের মতো একটা ছোট্ট দেশের জন্য ১৬ কোটি জনসংখ্যা মোটেই ভারসাম্যপূর্ণ নয়। তাই আমাদের জাতীয় সমস্যাগুলোর অন্যতম হচ্ছে জনসংখ্যা সমস্যা। জনসংখ্যা বাড়ছে হু হু কবে। জনসংখ্যার এই বৃদ্ধিকে জনবিস্ফোরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। আর এই জনবিস্ফোরণে নানামুখি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। খাদ্য চাহিদা বাড়ছে, আবাসন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে, বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকে দেশে জনসংখ্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। তখন বাড়তি জনসংখ্যার চাপে বাড়বে নানামুখি সমস্যা। স্মরণ করা যেতে পারে, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস বা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে ইতোপূর্বে বেশ সফলতা এসেছিলো। বিশেষ করে স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিলো দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ। পরবর্তীতে এই হার বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এক দশমিক সাত শতাংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের জনসংখ্যার ৬০ দশমিক সাত শতাংশ বসবাস করে শুধু এশিয়া মহাদেশে। আর এক লাখ ৪৭ হাজার পাঁচশত ৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। ১৯৬৪ সালে যেখানে জনসংখ্যা ছিলো তিন কোটির বেশি। সেই জনসংখ্যা এখন বেড়েছে পাঁচগুন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে এর গতি সামান্য। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরু হয় এদেশে স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই। স্বাধীনতা পরবর্তীতে এই কার্যক্রম আরও জোরালো হয় এবং এর সফলতাও আসে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে আছে ধর্মীয় গোঁড়ামি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত সচেতন দম্পতিও অধিক সন্তান নিচ্ছেন, জন্ম নিচ্ছে অনেক অনাকাঙ্খিত শিশুও।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে এক হাজার ৩৭ জনের বেশি। এই সংখ্যা আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই জনসংখ্যার এই হার নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। তার জন্য জনসচেতনতার ওপরই জোর দিতে হবে সবচেয়ে বেশি। বর্ধিত জনসংখ্যার কুফল সম্বন্ধে মানুষ সতর্ক হলে তারা নিজেরাই এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সমাজের অসচেতন অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি শিক্ষিত-সচেতন মহলকেও সজাগ করে তুলতে হবে। সেই সচেতনতার কাজটি করতে হবে সরকারি লোকদের পাশাপাশি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকেও। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারি ব্যক্তিবর্গ যেমন সমাজপতি, শিক্ষক, ইমাম, গণপ্রতিনিধি, যুব সমাজ এদেরকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। এতে সম্পৃক্ত করতে হবে সকল পেশাজীবিকে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে জড়িতদের কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আমাদের আয়তন ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারসহ সকল মহল সচেতন হবে, আজকের জনসংখ্যা দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT