উপ সম্পাদকীয়

পরিবেশ রক্ষা

সাকির আমিন প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৭-২০১৯ ইং ০১:৩৫:৩২ | সংবাদটি ২৯৯ বার পঠিত

বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের বিষয় বিবেচনায় রেখে স্বার্থের উর্ধে উঠে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসা সকল মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় প্রথমেই নিজে একটি গাছ লাগাই এবং আমার সন্তান কে গাছ লাগানোর কাজে উৎসাহিত করি। নিজ বাসস্থন, দালানঘর বা সুরক্ষিতভবন যাই গড়ে তুলিনা কেন তার পাশে অন্তত একটি গাছ ফলদ, বনজ বা ঔষধী গাছ লাগানোর স্থান রেখেই এসব নির্মান করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় খাল, বিল, ডুবা নদী নালা ও জলাধার সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রতিরোধে নানা আঙ্গিঁেক কাজ করে যেতে হবে। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় পরিবেশ দিবস পালনের ফলে জন সচেতনতা আগের চেয়ে কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাণীকূল যে, সংকটের মধ্যে পড়েছে মানুষতো উপলব্ধি করতে পারছে। জন মানুষের অপরিণামদর্শিতার ফলেই সৃষ্টিকর্তা পরিবেশকে দিন দিন বৈরী করে তুলেছেন। শান্ত পরিবেশ এখন আর শান্ত থাকছে না। শেষ পর্যন্ত এ বাসযোগ্য পৃথিবীটার কি হবে তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারো পক্ষে অনুমান করাও সহজ হবে না।
পাকিস্তানের পর সবচেয়ে বায়ুদূষনের দেশ বাংলাদেশ, আর দিল্লীর পর দূষিত শহর রাজধনী ঢাকা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকতে হয় শহরের মানুষকে। দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করেও শিশুবয়স্ক নাগরিকদের বায়ুদূষনের উৎস আগে ইটভাটা থাকলেও এখন বিভিন্ন কলকারখানা ও যানবাহন। দেশে পরিবেশ আইন আছে। মন্ত্রণালয় আছে। বিভাগীয় শহর গুলোতে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর ও পরিবেশের ক্ষতি করে যাচ্ছে লোকজন। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েও প্রতিনিয়ত পরিবেশের ক্ষতি করছে। ওয়াল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তিনজনের মধ্যে দুই জনের মৃত্যু হয় বায়ুদূষনজনিত কারণে। এছাড়া প্রতি বছর এশিয়ায় মৃত্যু হয় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের। বিশ্বে আট জনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ ও বায়ুদূষন। আর শুধু বাংলাদেশেই প্রতিবছর মারা যায় ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। বলা হয়েছে যে ১০টি রোগের কারণে বাংলাদেশে বেশীর ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় তার মধ্যে পাঁচটিই বায়ুদূষণ জনিত রোগ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এ বার্তাটি বিজ্ঞানীরা বহু আগে থেকেই আমাদেরকে দিয়ে সতর্ক করেছেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা! নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রতি নিয়ত পরিবেশের ক্ষতি করেই যাচ্ছি। এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রয়োজনে হিস্যা অনুযায়ী পানি না দিয়ে অপ্রয়োজনে পানি ও পলি মাটি দিয়ে দেশের নদ নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। স্থানীয় জাতীয় আন্তর্জাতিকসহ নানামুখী পরিবেশের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে জনসংখ্যার ভারে নূয়ে পড়া ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এ বাংলাদেশকে নদী নালা, খাল, বিল ভরাট করে পশু, পাখী, জীব জন্তু, মৎস, সরিসৃপ নিধন করে। দখল দূষণ আর ধংসলীলায় সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন লোকজন। পরিবেশের অবক্ষয় পৃথিবীর উত্তাপ বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্ব নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন।
লেখক : সাংবাদিক

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
  • প্রসঙ্গ : সুন্দরী শ্রীভূমি
  • একই বচন পুনর্বার
  • নারী নিপীড়ন ও অপরাধ প্রসঙ্গ
  • সভ্যতার পেছনে দৃষ্টিপাত
  • উন্নয়নে বিশ্বের রোল মডেল
  • নতুন সূর্যের প্রত্যাশায়
  • ভেজাল ও নকল ওষুধের দৌরাত্ম্য
  • বকুল ফুলের মালা
  • লিবিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়েনের কারণ
  • প্রসঙ্গ ফসলের ন্যায্যমূল্য
  • প্রসঙ্গ : ভিক্ষাবৃত্তি
  • নৈতিক অবক্ষয় প্রতিকার
  • অসহায় প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব কে নেবে?
  • আজকের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
  • একাডেমিক শিক্ষা বনাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  • শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কী হবে?
  • বাংলাদেশের শীতকাল
  • মাটির উৎকর্ষ ও সংরক্ষণ সাধন সরকার
  • নারী নিপীড়ন প্রসঙ্গ
  • Developed by: Sparkle IT