প্রথম পাতা

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, সুনামগঞ্জে বন্যা ৮ উপজেলায় ২৫০ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৭-২০১৯ ইং ০৩:১৭:৩৮ | সংবাদটি ২৪১ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ টানা কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার আড়াইশ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি। ফলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। পানিপ্রবাহ অব্যাহত ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলার ব্রিজ কালভার্ট তলিয়ে গেছে। ভেসে যাচ্ছে শত শত পুকুরের মাছ।
তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর উঠতি আউশ-ইরি, সদ্য বপন করা আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চার দিকে অথৈ পানির কারণে গবাদি পশু নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সুনামগঞ্জে সুরমাসহ বিভিন্ন নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে হাওরাঞ্চলের মানুষ। পানিবন্দি খেটে খাওয়া মানুষগুলো শিশুখাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছেন। গতকাল পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ বা শুকনো খাবার পৌঁছানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পানিবন্দি পরিবারগুলোর লোকজন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার দেখার হাওর পাড়ের নলুয়া গ্রামের শফিক আলী জানান, টানা ৩/৪ দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও সরকারি কোনো সহায়তা বা ত্রাণ তারা পাননি। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে আরো বড় বন্যার আশঙ্কা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা।
এদিকে, সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটের সীমান্ত উপজেলাগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৫১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ী নদী সারি ও গোয়াইনের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তা ও কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এছাড় কুশিয়ারা নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ: আমাদের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী জানান, অভিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের ৮টি উপজেলার ২৪৮ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫০টি মাধ্যমিক বিদালয় রয়েছে। বন্যার পানিতে বিভিন্ন গ্রাম, রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, কয়েক দিনের অভিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারণে জেলার দোয়ারাবাজার,বিশ্বম্ভরপুর,তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, ছাতক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ার ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছেনা। এছাড়া কোন কোন বিদ্যালয়ের বারান্দা পর্যন্ত ঢলের পানি চলে আসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তকর্তা মো. জিল্লুর রহমান সিলেটের ডাককে জানান, বৃহস্পতিবার ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসেনি। তাই তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলার ৮টি উপজেলার ১৯৮ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বিদ্যালয়কে বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্ধ ঘোষণাকৃত বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৯টি, বিশ্বম্ভরপুরে ৩০টি, তাহিরপুরে ২৭টি, ধর্মপাশায় ৬০টি, জামালগঞ্জে ৩০, ছাতকে ১০টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৩ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, দোয়ারাবাজারে ১ টি, তাহিরপুরে ৮টি, বিশ্বম্ভরপুরে ৩টি, ধর্মপাশায় ১টি ও সুুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১টি বিদ্যালয়। অপরদিকে, জেলা শিক্ষা অফিসের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর সারোয়ার জাহান খান সিলেটের ডাককে জানান, বৃহস্পতিবার ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে যায়নি। বন্যায় বিদ্যালয়ে আসাযাওয়ার রাস্তাসহ কোনো কোনো বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পানি উঠায় শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলার তাহিরপুর উপজেলায় ৮টি, দোয়ারাবাজারে ১০টি ধর্মপাশায় ২টি, জামালগঞ্জে ৪টি, বিশ্বম্ভরপুরে ১৭টি এবং সদর উপজেলায় ৯ টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল দিনগত রাত ৯ টায় সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, উত্তর আরপিননগর, মধ্যবাজার, উকিলপাড়া ও নবীনগরে সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও শহরের নতুনপাড়া, বিলপাড়, ষোলঘর এলাকা অভিরাম বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে বন্যার পানি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর, সুরমা, গৌরারং, মোহনপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের বাড়ি-ঘরে প্রবেশ করেছে।
গৌরারং ইউনিয়নের অমৃতশ্রী গ্রামের আলী আহমদ তালুকদার সিলেটের ডাককে জানান, গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণের ফলে তার বসত ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠেছে। একই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টি হলে তার ঘরসহ গ্রামের ৯৫ ভাগ বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করবে। একই বক্তব্য পার্শ্ববর্তী গ্রাম আমান উল্লাহর। আমান উল্লাহ জানান, তার উঠানে পানি উঠেছে। শুধু তাই নয়। তার গ্রামের ৯৫ ভাগ বাড়ি-ঘরের উঠানে পানি উঠেছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরুল হক সিলেটের ডাককে জানান, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের বাড়ি-ঘরের উঠানে পানি উঠে পড়েছে।
কয়েকে দিনে অভিরাম বর্ষণে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারাপুর ও শক্তিয়ারখলা এলাকায় ঢলের পানি ভেঙ্গে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কটি আনোয়ারপুর থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার ডুবে গেছে। সীমান্ত নদী যাদুকাটা নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উভয় তীরের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া সিলেটের ডাককে জানান, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে রাত ৯ টায় ৮ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যা বিপদ সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপরে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ সিলেটের ডাককে জানান, যেসব এলাকা বন্যা দূর্গত সেসব এলাকায় বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরো জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় চলমান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে এ উপজেলাগুলোর বেশ কিছু বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। এ ৫টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নগদ ৫০ হাজার করে টাকা, আড়াই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া আছে। তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসনে এখনও কিছু শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ ও চাল রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দূর্গতদের দেওয়া যাবে। এছাড়াও অতিরিক্ত ত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী সিলেটের ডাককে জানান, আগামী ১০ দিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, একইভাবে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬০৮ মিলিমিটার, বিশ্বম্ভরপুরে ৫৯২ মিলিমিটার, ছাতকে ৫৮২ মিলিমিটার, তাহিরপুরে ৫৪২ মিলিমিটার, জামালগঞ্জে ৫২৮ মিলিমিটার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৪৮৮ মিলিমিটার, ধর্মপাশায় ৪২২ মিলিমিটার, দিরাইয়ে ৩৬২ মিলিমিটার, জগন্নাথপুরে ৩৬০ মিলিমিটার ও শাল্লা উপজেলায় ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাহিরপুর: রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত উপজেলা তাহিরপুরের প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সেই সাথে জেলা শহরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার,রাস্তাঘাট,উপজেলা খাদ্য গোদাম,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ফলে এ উপজেলা প্রায় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী বিপাকে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তারা জানান, গত দুদিন ধরে তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে তাদের অনেকেই অনাহারে অনিদ্রায় জীবনযাপন করছেন। তারা উপজেলা প্রশাসন এবং সরকারের নিকট খুব শীগ্রই ত্রানের ব্যাবস্থা করার দাবি জানান।
উপজেলা খাদ্য গোদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনধন চন্দ্র দাস জানান,টানা কয়দিনের ভারী বর্ষণে খাদ্য গুদামে পানি প্রবেশ করেছে। ধান চাল নিয়ে আমি খুব চিন্তিত অবস্থায় রয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল হোসেন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পানি প্রবেশ করেছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন রোগীরা মহা বিপাকে পড়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ জানান, প্লাবিত গ্রামগুলোতে সরজমিনে গিয়ে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান,প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরি বাবুল বলেন, প্লাবিত হওয়া সবগুলো গ্রাম আমি সরজমিনে দেখেছি। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা যথাসাধ্য সহযোগিতা করছি।
দোয়ারাবাজার: তাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এদিকে উপজেলার কনসখাই,নাইন্দা, বন্দেহরি, পান্ডারখাল, গৌরিপুর, হিঙ্গিমারি, শান্তিপুর, গোয়ারাই, বড়ঝাই, কানলা ও দেখার হাওর তলিয়ে গেছে। ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর উঠতি আউশ-ইরি, সদ্য বপন করা আমনের বীজতলা, সবজি খেতসহ মাঠঘাট ও গোচারণ ভূমি। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। উপজেলা সদরে সুরমার পানি বিপদসীমার অতিক্রম করে অফিসপাড়াসহ বাসাবাড়িতে পানি ঢুকছে। উপজেলা পরিষদের সামনের পাকা সড়কসহ নদীপাড়ের অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কে রয়েছেন দোকানিরা। ইতোমধ্যে দোয়ারাবাজার-সুরমা লাফার্জ সড়কের মাস্টারপাড়া এলাকায় দীর্ঘ রাস্তা ও দোকানপাটসহ ৭টি স্থপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ও পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার সুরমা,বগুলা, লক্ষীপুর, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার সদর ছাড়াও বাকি চার ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এ চিলাই নদী পানি ব্যবস্থপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আকন্দ (সাব্বির) জানান, সষ্ঠু তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতায় বগুলা ইউনিয়নের চিলাই নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে উভয় তীরের শতাধিক হেক্টর আউশ-ইরি ও আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। উপজেলার টেংরা বাজারের ব্যবসায়ী ও জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি আবদুর রহিম বলেন, পরপর দু’দফা পাহাড়ি ঢল ও বর্তমান সৃষ্ট বন্যার তোড়ে এলাকার শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় আমরা খামার মালিকগন চোখে বিপদে পড়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা, ওসি আবুল হাশেমসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা সদরে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা ছাড়াও দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি মওজুদ রয়েছে বলে ইউএনও সোনিয়া সুলতানা জানান। ইতিমধ্যে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে তালিকা প্রেরণের জন্য সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ধর্মপাশা: গিয়াস উদ্দিন রানা, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ধর্মপাশা উপজেলায় ঢলের পানি সুরমা-কংশ ও বড়ীয়া-নদী দিয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানি বন্দি হওয়ায় বিদ্যালয় গুলো বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা সদর ইউনিয়ন-সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর, জয়শ্রী,চামরদানী, বংশীকুন্ডা দক্ষিন, মধ্যনগর ও পাইকুরাটি,বংশীকুন্ডা উত্তর, সেলবরষ ইউনিয়নসহ ১০টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের কাঁচা ও এলজিইডির পাঁকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দুই শতাধিক পুকুরের পাড় তলিয়ে কোটি টাকার মাছ চলে গেছে।
উত্তর বংশীকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, পাহাড়ী ঢলের পানিতে তার ইউনিয়নে ১০-১২টি গ্রামের শতশত পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। সবকটি কাঁচা ও পাঁকা সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্ষন করে জরুরী ভিত্তিতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কমিটি নিয়ে মিটিংয়ের পর ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হবে ।
জামালগঞ্জ: অঞ্জন পুরকায়স্থ, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) থেকে থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জামালগঞ্জ উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ৬শ’ পরিবারে ২ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে সুরমার পানি। ভারী বর্ষন ও বজ্রপাতে মৃত্যুর আশংকায় স্কুলে যাচ্ছেনা ছাত্র ছাত্রীরা। প্রাথমিক ও মাধ্যামিক স্কুল গুলো অধিকাংশ বন্ধ রয়েছে। ফেনারবাঁক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার বলেন, তার ইউনিয়নে ৪শ’ টি পরিবার বন্যায় কবলিত হয়েছে। বিষ্ণুপুর শুকদেবপুর, করুনা পুর ,হঠামারা নাজিম নগর ও রাজেন্ড্রপুর গ্রামের ৩০টি পরিবার বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার বলেন, ইউনিয়নে গ্রামের মধ্যে ১১ টি গ্রামের ৪শ টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। গতকাল বিকেলে বন্যা দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান , সচিবসহ উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্যদের নিয়ে জরুরী সভা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকদের জন্য শুকনো খাবার চিড়া-মুড়ি,গুড়, ও ব্যবহার্য মেছ, মোমবাতি সংস্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সচিবদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার । তিনি বলেন, প্রসাশন দুর্যোগ মোকবাবেলায় প্রস্তুত আছে।
ছাতক: সৈয়দ হারুন অর রশিদ ছাতক(সুনামগঞ্জ) থেক

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটনার স্মরণে সিলেটে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আজ
  • সীমান্ত নিরাপদ ও সম্পর্ক উন্নয়নে এক সাথে কাজ করার অঙ্গিকার
  • তবে কি চামড়া ভারতে পাঠানোই উদ্দেশ্য: ফখরুল
  • আজ ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী
  • প্রকল্পের ভুল এ্যাসেসমেন্ট হলে দায়ী কর্মকর্তা শাস্তি পাবে : প্রধানমন্ত্রী
  • শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদির
  • কুলাউড়ায় দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন আহত
  • সিলেট চেম্বার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন ৭৮ প্রার্থী
  • শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণে ৭৬৯ কোটি টাকার প্রকল্প
  • টিফিনের টাকায় নগর পুষ্পায়ন
  • সিলেটে আরো কমলো ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা
  • সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে মিড ডে মিল চালু হচ্ছে
  • তিনদিনের সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ঢাকায়
  • সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে ২১ আগস্ট থেকে
  • ছাতকের জলালপুর লামারসুলগঞ্জ সড়কে ট্রাকে ডাকাতি
  • বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়া নন, আ’লীগ নেতারা জড়িত : ফখরুল
  • অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন করা হবে: কাদের
  • ‘আইডিয়া’ জমা দিলেই মিলবে ঋণ
  • মাধবপুরে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা খুন
  • শিলংয়ে ডিসি-ডিএম পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন আজ
  • Developed by: Sparkle IT