প্রথম পাতা সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে ॥ ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে॥ মোকাবেলায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

সিলেটের ৪ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৭-২০১৯ ইং ০২:৩৭:৪৬ | সংবাদটি ২৬৪ বার পঠিত

 সিলেট বিভাগের চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি উপচে উঠে বিভিন্ন গ্রাম, যোগাযোগের রাস্তা, বাজার, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা তলিয়ে গেছে।
সিলেটের ৪ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে গতকাল শুক্রবার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। সিলেট অঞ্চলে আরো কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে আরো দুদিন অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা বিপদসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার, সিলেটে সুরমা ৩৭ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ারা বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার, আমলসীদে কুশিয়ারা বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার, শেরপুরে কুশিয়ারা বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার, লোভাছড়ায় লোভা নদীর পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার এবং সারিঘাটে সারি নদীর পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, সিলেটের সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সব জায়গায় বন্যার পানি বাড়ছে। এ অবস্থায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) মো: নুুরুন্নবী মজুমদার জানান, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা পুরোপুরি বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জে একটি করে ইউনিয়ন বন্যায় কবলিত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে ৮ টন করে এবং গোয়াইনঘাটের জন্য ১৮ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করছেন বলে জানান ডিআরআরও।
এদিকে, সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৯.৪ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এছাড়া, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ স্টেশন এলাকায় ১৬৫ মিলিমিটার, জাফলংয়ে ১৫৫ মিলিমিটার, শেওলায় ১৩০ মিলিমিটার, দক্ষিণবাগে ১২০ মিলিমিটার, ছাতকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে চেঙ্গের খাল নদীর পানি বৃদ্ধিতে সিলেট শহরতলীর খাদিমনগর ইউনিয়নের বাউয়ার কান্দি, বাইশটিলা, যুগলটিলা, চামাউরা কান্দি, নীল গাঁও সহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মূল সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তারা।
এছাড়া সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পিয়াইন ও সারী নদীর পানি বেড়ে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। সেই সাথে উপজেলা সদরের সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিপাকে পড়েন পানিবন্দি সাধারণ মানুষ। বানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারীঘাট-গোয়াইনঘাট, সালুটিকর-গোয়াইনঘাট, হাতির পাড়া-ফতেহপুর সড়ক তলিয়ে গেছে পানিতে।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কানাইঘাট॥ কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নি¤œাঞ্চল বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সুরমা ও লোভা নদীর পানি গতকাল শুক্রবার থেকে বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১১৬ সে. মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কানাইঘাট বাজারের গলিতে সুরমা নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ও পশ্চিম ইউপির বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকের বসতঘর আক্রান্ত হচ্ছে বন্যার পানিতে। বিভিন্ন স্থানে আউশ ধানের মাঠ ও আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। সুরমা ও লোভা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর তীরে বসবাসরত লোকজনের মধ্যে হঠাৎ করে সুরমা ও লোভা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে, এখনও কানাইঘাটের সাথে সিলেট শহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। উত্তর লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা চরিপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী জানিয়েছেন, আমাদের নদীর দক্ষিণ তীরে অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ দেওয়ার কারণে লোভা ও সুরমা নদীর পানি তীব্র আকার ধারণ করে তার বাড়ি ও গ্রাম সহ দক্ষিণ লক্ষ্মীপ্রসাদ, আসামপাড়া, নিহালপুর, বাজেখেল, মেছা, কান্দলা, সতিপুর গ্রামের অনেকের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুসিকান্ত হাজং শুক্রবার কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন তদারকি করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
ফেঞ্চুগঞ্জ॥ ফেঞ্চুগঞ্জ(সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকার বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার গিয়াস উদ্দীন মোল্লা।
ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মেম্বার দিলা মিয়া জানিয়েছেন, ইউনিয়নের বাঘমারা, পিঠাইটিকর পশ্চিমপাড়া এলাকার কমপক্ষে ৪০টি বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। বাঘমারা গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় পানি উঠে পড়ায় সড়ক পথে ঐ গ্রামের যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার শিল্পী বেগম জানান, সুড়িকান্দি, শাইলকান্দি এবং ভেলকোনা গ্রামের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত এভাবে অব্যাহত থাকলে ৩টি গ্রামে যে কোনো মুহূর্তে বাড়িঘর বন্যা কবলিত হয়ে পড়বে। তবে, ৩টি গ্রামের মানুষ কুশিয়ারা নদী এবং হাওরের পানিতে পানিবন্দি হয়ে আছে।
এছাড়া, উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নের মইনপুর, ভরাউট, বারহাল গ্রাামের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী মানুষ নদী ভাঙন এবং বন্যায় কবলিত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন।
ঘিলাছড়া ইউনিয়নের আশীঘর গ্রাম এলাকার একটি বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ভারী বর্ষণের কারণে ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বাড়িঘরের ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসীম উদ্দীন জানান, বন্যা মোকাবেলায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। মেডিকেল টিম, ফায়ার ব্রিগেডকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ ॥ আমাদের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, বৃষ্টির সাথে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর থেকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সকালে ছিল ৯৮ সেন্টিমিটার। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৫ মিলিমিটার। এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে দ্রুত বন্যা থেকে মুক্তি পায় সেজন্য জুমার নামাজের পর জেলার সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। তবে, বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে অথবা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানি এলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। জেলার বিশ্বম্ভরপুর জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অনেকেই বাড়িতে পানি ওঠায় বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিকি বলেন, সুরমার পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যদি টানা বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে নদীর পানি আরও কমবে।
দোয়ারাবাজার॥ দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গত ৬ দিনের টানা বর্ষণের পর গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হলেও অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে পানিবন্দি লাখো মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার কনসখাই, নাইন্দা, বন্দেহরি, পান্ডারখাল, গৌরিপুর, হিঙ্গিমারি, শান্তিপুর, গোয়ারাই, বড়ঝাই, কানলা ও দেখার হাওর তলিয়ে গেছে। ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর উঠতি আউশ-ইরি, সদ্য বপন করা আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ মাঠঘাট ও গোচারণ ভূমি। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়াসহ শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদরে সুরমার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে অফিসপাড়াসহ বাসাবাড়িতে পানি ঢুকছে। উপজেলা পরিষদের সম্মুখস্থ পাকা সড়কসহ নদীপাড়ের অব্যাহত ভাঙনে রাতদিন আতঙ্কে কাটছে ব্যবসায়ীদের। দোয়ারাবাজার-সুরমা লাফার্জ সড়কের মাস্টার পাড়া এলাকায় দীর্ঘ রাস্তা ও দোকানপাটসহ ৭টি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দোয়ারাবাজার সদর ও সুরমা ইউনিয়ন ছাড়াও বগুলা, লক্ষ্মীপুর, নরসিংপুর, বাংলাবাজার, দোহালিয়া, পান্ডারগাঁও ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা, ওসি আবুল হাশেমসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনভর উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলা সদরে একটি কন্ট্রোলরুম ও একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ ছাড়াও মেডিকেল টিম পানি বিশুদ্ধকরণ ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিতরণ করছেন বলে ইউএনও সোনিয়া সুলতানা জানান। এ ছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতোমধ্যে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কুলাউড়া ও জুড়ি॥ কুলাউড়া অফিস জানানয়, ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও জুড়ি উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৬৫ সেঃমিঃ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতি বৃষ্টিতে চা-গাছের ক্ষতি হচ্ছে। চা-শ্রমিকরা চা পাতা আহরণ করতে পারছে না।
গতকাল শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় কুলাউড়া উপজেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭০ মিলিমিটার। মনু নদীর পানি বিপদসীমার ( মনু রেলওয়ে ব্রিজের কাছে) ৬৫ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহূর্তে মনু প্রতিরক্ষা বাদ হুমকির মুখে পড়বে। নদী তীরের মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। নদী তীরের হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাসিত বাচ্চু জানান,হাজীপুর ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর সার্বক্ষনিক নজরদারী রাখা হয়েছে। এই পর্যন্ত ৫টি স্থান ঝুঁিকপূর্ণ রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, কুলাউড়া উপজেলার মনু রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কটারকোনা-মনু সড়কের হাসিমপুর গ্রামের একটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত ২দিন যাবৎ সেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। এই স্থানের বাঁধের পাশে ২টি পুকুর থাকায় পানি চুয়ে চুয়ে নদীতে পড়ছে ফলে বাধঁটির একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধের অন্যান্য অংশ এই পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে। কুলাউড়ার গাজীপুর চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক কাজল মাহমুদ জানান, গত বছর এমনদিন পর্যন্ত সর্বমোট বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১২৭ মিঃমিঃ, গত শুক্রবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই বছর বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৪ দশমিক ৭৮ মিঃমিঃ। থেমে থেমে ভারী বর্ষণ হওয়ায় বাগানের চা-শ্রমিকরা পরিমাণ মতো কাঁচা পাতা আহরণ করতে পারছে না। ফলে চা-গাছগুলো মাত্রাতিরিক্ত লম্বা হয়ে যাচ্ছে এবং পাতার গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের কিছু কিছু স্থান বৃষ্টির পানি ছুঁই ছুই করছে।
শেরপুর ঃ শেরপুর(মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, কয়েকদিনের একটানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ফলে নবীগঞ্জ থানাধীন এলাকা পাহাড়পুর, মৌলভীবাজার সদর থানার ব্রাহ্মণগ্রাম, হামরকোনা, দাউদপুর ও ওসমানীনগর থানার লামাতাজপুর এলাকার ডাইকগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণগ্রাম ডাইকের উপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে এলাকাবাসীর প্রাণপণ চেষ্টায় রক্ষা পেলেও হামরকোনা, পাহাড়পুর, দীঘলবাঁক, জামারগাঁও, মথুরাপুর, দুর্গাপুর, কুমারকাদা, ঢালারপারসহ ৪নং দীঘলবাঁক ও ৫নং আউশকান্দি ইউনিয়নের অনেকগুলো গ্রাম বর্তমানে বন্যার পানিতে প্লাবিত। অন্যদিকে পাহাড়পুর গ্রামের কুশিয়ারা ডাইকের বাঁেধর আশপাশ বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধভাঙ্গার আশঙ্কা দেখা দিলে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসেন এবং বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে যেভাবে ভারীবর্ষণ হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে পুরো শেরপুর এলাকা বন্যার জলে ভেসে যাবে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জাহাঙ্গির বক্স জানান, সকাল ৬টায় পানি ছিলো বিপদসীমার ৮.২৮ সে.মি এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৮.৪০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, ওসমানীনগর থানার লামাতাজপুর এলাকায় ডাইকের অবস্থা ভয়াবহ। যেকোন সময় পানি ডাইক ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নবীগঞ্জ ঃ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের নিকটবর্তী পারকুল এলাকায় নদীর বাঁধের মাত্র ১ ফুট নিচে পানি অবস্থান করছে। যেকোন সময় বাঁধ উপচে পাওয়ার প্ল্যান্ট আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই বাঁধের ওই স্থানে বালুর বস্তা ফেলে তা উঁচু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছেন হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি বলেন, তিনিসহ পাউবোর জেলার কর্মকর্তারা সকাল থেকেই নদীর তীরে অবস্থান করছেন। সেখানে বাঁধ রক্ষার কাজ তদারকি করছেন তারা। জানা গেছে, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীতে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই পানি বাড়তে থাকে। দুপুরের পর পানি বিপদসীমার উপরে চলে যায়। বিকেল ৬টায় নদীর পানি বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সিলেট সদর ঃ
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট সদর উপজেলার নি¤œাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে জালালাবাদ, হাটখোলা ও মোগলগাঁও, খাদিমনগর, কান্দিগ

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
  • আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তি
  • কোম্পানীগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষার্থী ও জামালগঞ্জে পিতা-পুত্রের মৃত্যু
  • সারা দেশে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনভূত
  • কুলাউড়ায় ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেনের একটি কামরা লাইনচ্যুত
  • ট্রাম্পের কাছে প্রিয়ার নালিশ খতিয়ে দেখা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
  • কুলাউড়ায় ১৩ দিন পর স্কুলছাত্রীর লাশ উত্তোলন
  • রোববার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে
  • প্রধানমন্ত্রী লন্ডন যাচ্ছেন আজ
  • বন ও পরিবেশমন্ত্রী সিলেট আসছেন আজ
  • রিফাত হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নিও: পুলিশ
  • পণ্যের দাম নির্ধারণে সরকারি ৫ প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশ
  • জেলায় ৯শ’ টন চাল, নগদ ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ---------------দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণপ্রতিমন্ত্রী
  • সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পত্রিকাকে আরো এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়
  • বরিশালে মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে: রিজভী
  • জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের
  • সিলেট থেকে বিমানের সরাসরি হজ ফ্লাইট শুরু
  • ‘সিলেট বিভাগে ৩৩ বিদ্রোহীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত’
  • জিপিএ-৫ পেলো এমসি কলেজের ২৫৮ জন
  • সিলেট বোর্ডে পাশের হার বেড়ে ৬৭.০৫%
  • Developed by: Sparkle IT