সাহিত্য

এ ওয়ার্ল্ড উইদাউট ইসলাম

চৌধুরী শাহেদ আকবর প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৭-২০১৯ ইং ০১:২৫:৫৬ | সংবাদটি ২০২ বার পঠিত

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালীন সময়ে Paul Brady নামে আমার এক ব্রিটিশ সহকর্মী ছিলো। এমনিতে কাজ সম্পর্কীয় ও সম্ভাষণ ব্যতীত তার সাথে তেমন কোনো কথাবার্তা হতো না। মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতিতে মাঝে মাঝে Canteen এ দেখা হলে তখন অন্য প্রসঙ্গেও মাঝে মাঝে কথাবার্তা হতো। এই রকম একদিন আলাপকালে বুঝলাম ইসলাম তথা মুসলিম বিশ^ সম্পর্কে তার ধারনা মোটেও ইতিবাচক নয়। ৯/১১ এর টুইন টাওয়ার ঘটনা, লন্ডনের বোমা হামলা, মুসলিম বিশে^ মিলিটারী আগ্রাসন, একনায়কতন্ত্র, সশস্ত্র প্রতিরোধ, সুইসাইড আক্রমণ করে বোমা হামলা এই সব ঘটনার কারণে তার মনে এক ধরনের বিরূপ ধারনার জন্ম নিয়েছে। কথাবার্তার এক প্রসঙ্গে সে বলল যে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব না হলে হয়ত এই সব ঘটনাগুলো ঘটত না। মনে মনে ভাবলাম তার এই ধারনা শুধু বর্তমান ঘটনাগুলোর জন্য হয়নি। হয়েছে ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃতভাবে না জানার কারণেও। এও ভাবলাম যে Paul Brady হয়ত একা নয়। তার মত আরো অনেকেরই হয়ত একই রকম ধারনা রয়েছে। সে আমাকে কথাগুলো বলেছিলো ২০০৯ সালে। পরবর্তীকালে আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে। আইএস-এর উত্থান, সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গাদ্দাফীর পতন, সৌদিআরব ও ইয়েমেনের দ্বন্দ্ব, হোসনী মোবারকের পতন, আরব স্প্রিং, ফ্রান্সের বাস হামলা, সাম্প্রতিককালের নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা ও শ্রীলংকায় গীর্জাতে হামলা সহ আরো অনেক ঘটনা। হয়ত সময়ের সাথে সাথে Paul Brady বা তার মত আরো অনেকের মনে হয়ত বিরূপ ধারণা আরো বদ্ধমূল হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে কোনো ধর্মই সংসারের কথা বলে না। হতাযজ্ঞ, অশান্তি সৃষ্টি, লুটপাট ও একনায়কতন্ত্রের কথা বলে না। তাই এইসব ঘটনাগুলোর সাথে ইসলাম ধর্ম বা যেকোনো ধর্মেরই প্রকৃত কোনো সম্পর্ক নেই।
পৃথিবীতে সব বড় বড় ধর্মীয় মতবাদগুলোর মধ্যে ইসলামের আবির্ভাব হয়েছে সর্বশেষে। ৬১০ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসের কোনো একদিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম ওহীপ্রাপ্ত হন এবং তারও আরো দুই বছর পরে ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বে তিনি ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করে যান যা পরবর্তীকালে পৃথিবীর ইতিহাসকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিলো। ইসলাম এক সময় আরব দেশ থেকে ছড়িয়ে ধীরে ধীরে সমস্ত বিশে^ ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের অনুসারীরা ইসলামকে সম্পূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে মেনে নিয়েছিলো এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অথনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় ইসলামের রীতিনীতির প্রয়োগে একটি শক্তিশালী মতবাদ গড়ে তুলেছিলো। ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিলো। সাহিত্য, শিল্পকলার জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রত্যেকটি শাখায় ছিলো মুসলিমদের বিচরণ। তাই বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলো ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং Paul Brady বা এর মত অনেকের ইসলাম বা মুসলিম বিশ^ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনাও আসলে কতটুকু বাস্তবিক বা যৌক্তিক তা পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।
Graham E. Fuller নামে এক মার্কিন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক A World without Islam নামে একটি বই লিখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হাভার্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাসের এই ছাত্র বর্তমানে কানাডার Simon Fraser University এর ইতিহাসের অধ্যাপক। এর আগে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA এর অধিভুক্ত National Intelligence Council এর ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বইটির Title দেখলে মনে হবে বইটিতে হয়ত ইসলামের প্রচুর সমালোচনা রয়েছে এবং লেখক হয়ত এইটা বোঝাতে চাইবেন যে ইসলাম ছাড়া পৃথিবীটার বর্তমান অবস্থা কতটা ভালো থাকত। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে বইখানাতে লেখক মূলত বোঝাতে চেয়েছেন বর্তমান পৃথিবীর এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলোর সাথে ইসলামের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামের আবির্ভাব না ঘটলেও এই ঘটনাগুলো ঘটত। এই ঘটনাগুলোকে তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বিরোধ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন এবং বোঝাতে চেয়েছেন এই সংঘাত ও সংকট মূলত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে সৃষ্ট। এতে ইসলামের কোনো প্রভাব নেই। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এই বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর কারণে যারা বিভিন্ন সময়ে ইউরোপ এশিয়ার মধ্য প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে মূলত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে। এই ঘটনাগুলো ইসলাম আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই শুরু। প্রাচীন গ্রীকদের সাথে প্রাচীন পারসিয়ানদের শত বছরের দ্বন্দ্ব, ল্যাটিন ও বাইজেনটাইনের দ্বন্দ্ব যা পরবর্তীকালে ক্রুসেডের সূচনা করেছিলো। ইউরোপীয়ান খ্রিস্টানদের সাথে খ্রিস্টানদের দ্বন্দ্ব রাশিয়াতে ও পূর্ব ইউরোপে রোমানদের সাথে Onthodox Church এর দ্বন্দ্ব ইসলাম পূর্ব ঘটনা।

বইখানার শুরুতে লেখক অন্যান্য একত্ববাদীয় ধর্ম (খ্রিস্টান এবং ইহুদি) এর সাথে ইসলামের একটি ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন এবং তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে ইসলামের আবির্ভাবকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকের ধর্ম যা নতুন কোনো দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছে এই রকমভাবে আখ্যায়িত করেননি। একত্ববাদীয় ধর্মগুলো যখন নিজেদের মধ্যে ধর্মীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলো, সেই সময়েই ইসলামের বিকাশ ঘটেছিলো। লেখকের মতে, ইসলামের উত্থান শুরুর দিকে হয়েছে মূলত এর শান্তিপ্রিয়ও অহিংস নীতির কারণে। বহুল প্রচলিত ও বদ্ধমূল ধারণা যে যুদ্ধবিগ্রহ ও তলোয়ার ছাড়া ধর্মান্তর ও বিজয় হয় না, ইসলাম তার বাইরে গিয়ে নিজেকে ধীরে ধীরে বিকশিত করেছে। ইসলামের বেশির ভাগ সফলতা এসেছিলো তাদের বিভিন্ন বিরোধীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে। মুসলিমরা যখনই কোনো জায়গা তাদের দখলে এনেছে সেখানে প্রজাদের জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করেনি। লেখকের মতে ইসলাম যেভাবে খ্রিস্টান বা ইহুদিধর্মের প্রতি সহনশীল ছিলো, খ্রিস্টান বা ইহুদিদের মধ্যে একে অপরের প্রতি সেই সহনশীলতা ছিলো না।
বইখানাতে লেখক ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আবির্ভাবের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। লেখকের মতে ইসলাম এই উপমহাদেশে এসেছে যৎসামান্য সংঘাতের মধ্য দিয়ে। তৎকালীন মুসলিমরা নিজেদের হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন খুব সহজেই। মুসলিম শাসকরা প্রজাদের উপর ধর্মত্যাগের জন্য দমনপীড়ন চালাননি। হিন্দুরাও ছিলেন অমায়িক দৃষ্টিভঙ্গির। ভারতের ঐতিহাসিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে মুসলিম কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে একটি সহনীয় জনগোষ্ঠী হিসেবে হিন্দু ও মুসলমানরা শতবছর পাশাপাশি সহাবস্থান করেছিলো। মুসলিম শাসকরা এই উপমহাদেশে লুটপাটের জন্য আসেননি বরং এই উপমহাদেশকে নিজ দেশের মতই মনে করেছেন এবং থেকে গিয়েছেন বাকি জীবনের জন্য। হিন্দু মুসলমানের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে The British Imperial control over India several hundred years–far more than islam–that has the most to answer for in contriving this ill-starred and perhaps unnecessary partion that solved nothing
Fuller এর মতে, প্রাচ্য পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্ব, মুসলিম দেশগুলোর আভ্যন্তরীণ সমস্যা ও কোন্দল শুরু হয়েছে ইউরোপীয়ানদের উচ্চাকাক্সক্ষী সাম্রাজ্যবাদের আকাক্সক্ষা থেকে যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং পৃথিবীর বাকি অঞ্চলগুলোকে তাদের আয়ত্বে আনতে চেয়েছিলো। এবং এর মূলে কোনো ধর্মীয় কারণ ছিলো না। ছিলো ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি লোভ, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সুবিধা, ক্ষমতা, অনধিকার প্রবেশ সহ আরো অন্যান্য বহুবিধ কারণ। তাই মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম দেশগুলো মুসলিম না হলেও সেই একই রকম পরিস্থিতি এই দেশগুলোতে ঘটত। লেখক এই শতকের একটা উদাহরণ এনেছেন বইটিতে। ১৯৫৩ সালে ইরানে মিলিটারি অভুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ক্ষমতাচ্যুত হন। সেই সামরিক অভ্যুত্থানের মূলে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। মোহাম্মদ মোসাদ্দেক মূলত ইরানিয়ান তেল কোম্পানিগুলোকে জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন এবং তৎকালীন অহমষড়–Anglo–Iranian Oil Company যা একটি ব্রিটিশ কর্পোরেশন ছিলো তার ক্ষমতাকে সীমিত করতে চেয়েছিলেন। ব্রিটিশরা বিষয়টিকে ইউরোপে তেলের যথাযথ সরবরাহের জন্য হুমকি স্বরূপ মনে করেছিলো তাই তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Wintson Churchil ও আমেরিকান প্রেসিডেন্ট Eisnhower ইরানের গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলশ্রুতিতে ১৯৫৩ সালের এই অভ্যুত্থান ঘটে।
Fuller বইটিতে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে ইসলাম থাকলেও এই সব অঞ্চলগুলো উপনিবেশীর লক্ষবস্তুতে পরিণত হত এবং দ্বন্দ্বগুলো থেকেই থাকত এবং সাম্প্রতিক সময়ের এই সকল ঘটনাগুলোর মূল কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন The massive increase in violence, terrorism, and suiside bombings in very recent and directly linked with a period of highly invasive European and US policies in the Middle East..’
ইসলাম না থাকলেও পৃথিবীতে এই সব রক্তপাতের ঘটনাগুলো ঘটত, ভু-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলত। তখন হয়ত ঘটনাগুলোর সাথে ইসলামের নামটা উচ্চারিত হতো না। হয়ত শোনা যেত ভিন্ন কোনো পতাকার নিচে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা। ইতিহাস হয়ত একই পথে পরিভ্রমণ করত না। কিন্তু প্রাচ্য পাশ্চাত্যের এই দ্বন্দ্বগুলো যার মূলে রয়েছে মানব ইতিহাসের ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলো যেমনÑজাতিগত দাঙ্গা, জাতীয়তা, উচ্চাকাক্সক্ষা, সম্পদের জ্ঞাতি লোভ, ভূমি দখল, আর্থিক লাভ, ক্ষমতা, বাধা বহিরাগতদের প্রতি ঘৃণা, অনাহুত আক্রমণ এবং সাম্রাজ্যবাদ ইত্যাদি তার গতিপথে ঠিকই এগোত এবং দীর্ঘ দিনের জীবমান সমস্যাগুলোর সাথে তখন ধর্মীয় নাম একসময় জুড়ে যেতো। এই শতকের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ঘটনাকে ইসলাম নামের অনুপ্রবেশ-এর আরেকটি কারণ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দ্বন্দ্ব। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন আফগানিস্তান আক্রমণ করে তখন সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তথ্যকালীন আফগান মুজাহিদদের সাহায্য করেছিল। তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে ছিল। এই মুজাহিদগণের একটি অংশ পরবর্তীকালে তালেবান গঠন করে।
বিশ শতকের বড় বড় নারকীয় ঘটনা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনাগুলো যেমনÑহিটলার, মুসোলিনী, লেনিন, স্টালিন, মাও, পলপট এবং লিওপোল্ড দ্বিতীয় এদের আবির্ভাব কোনো মুসলিম দেশ থেকে হয়নি। পৃথিবীতে দুইটা বড় বিশ^যুদ্ধ মুসলমানের কারণে সংঘটিত হয়নি।
পরিশেষে বলা যায় যে, Fuller তার বইখানাতে চমৎকার ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত যুক্তি সহকারে ইসলাম, ইউরোপ, আফিকা এবং এশিয়ার ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। বইখানা বৈশি^ক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা এবং কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে লেখা নয়। আবার বর্তমান সৃষ্টি জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসী ঘটনার সমর্থনেও লিখা নয়। বইখানাতে লেখক তার ধারনা ‘A World without Islam does not markedly change the nature of things’ যথাযথভাবেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT