ইতিহাস ও ঐতিহ্য

খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি

রফিকুর রহমান লজু প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৭-২০১৯ ইং ০০:৫৩:৩০ | সংবাদটি ২০৪ বার পঠিত

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পূর্ব পাকিস্তানের বুকে নেমে আসে এক অন্ধকার যুগ। যে জিগির তুলে বা যে তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সৃষ্টি, সেই দ্বিজাতিতত্ত্বের মধ্যেই নিহিত ছিল পূর্ব পাকিস্তানবাসীর শোষণ-বঞ্চনা, দমন-পীড়ন, দুর্ভোগ-লাঞ্চনার ইঙ্গিত। ধর্মীয় উন্মাদনা ও স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর বাঙালিজাতি প্রতিক্রিয়াশীল ও কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর এই চক্রান্ত সেদিন উপলব্ধি করতে পারে নি। অবশ্য মোহভঙ্গ হতেও বেশি দেরি হয়নি। শিক্ষিত ও সচেতন মহল তাদের চক্রান্ত ও শোষণের ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করেন মর্মে মর্মে। সাতচল্লিশ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই আটচল্লিশ সালে ভাষার প্রশ্নে শাসক গোষ্ঠীর চক্রান্ত ও মুখোশ উন্মোচিত হয়। বস্তুত পাকিস্তানি শাসনামলের দীর্ঘ চব্বিশ বছর ঔপনিবেশিক ধরণের শোষণের যাতাকলে নিষ্পেষিত হতে হয়েছে এতদঞ্চলবাসীকে। জাতিগত ও ভাষাগত নিপীড়নের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে অবাধ শোষণের ক্ষেত্র রূপে গড়ে তুলেছিলো। শোষণ-শাসন স্থায়ীভাবে কায়েম রাখার জন্য তারা যে কোন রকম দমননীতির আশ্রয় নিতে কুণ্ঠিত হতো না। সে সময় দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দ খুব কমই মুক্ত আলো-বাতাসের ছোয়া পেতেন। শাসকগোষ্ঠীর দোর্দ- প্রতাপে তাদের অনেকের স্থায়ী ঠিকানা ছিল কারাগার। যারা গ্রেফতার এড়াতে পেরেছেন তাদেরকে দিনের পর দিন থাকতে হয়েছে আত্মগোপনে। অনাহারে অর্ধাহারে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে।
শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি ছিলো রক্তলোলুপ। সর্বশেষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ববাসী পাকিস্তানি শাসকদের রক্তলোলুপতা প্রত্যক্ষ করেছেন। ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে তাদের হাত কলঙ্কিত হয়েছে। পাকিস্তান সৃষ্টির তৃতীয় বছর পূর্ণ হতে না হতেই জল্লাদ শাসকরা কারাভ্যন্তরে নিরীহ বন্দিদের গুলি করে হত্যা করেছে। এই হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে শাসকগোষ্ঠির গণবিরোধী চরিত্র ও পবিত্র ইসলামের নামে ভ-ামীর মুখোশ উন্মোচিত হয়। ঘটনাটি ঘটেছিলো রাজশাহী জেলে ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল। সেদিন পুলিশের গুলিতে সাতজন দেশপ্রেমিক রাজবন্দি নিহত এবং আরো অনেকে মারাত্মক ভাবে আহত হন। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম-ত্যাগের ইতিহাসে ২৪ এপ্রিল স্মরণীয় স্থান অধিকার করে আছে। এরকম সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন ও ত্যাগের পথ ধরে বাঙালি জাতি পূর্ব পাকিস্তানবাসী ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছে সামনের দিকে আলোকের সন্ধানে। সাত সাতটি তাজা প্রাণ বিসর্জন ও এক সাগর লাল রক্ত ঢেলে দিয়ে প্রমাণ করেছে বাঙালিরা বীরের জাতি, কোন ভয়-ভীতিই তাদের দমাতে পারে না। ২৪ এপ্রিলের বীরেরা নিজেদের জীবন দিয়ে জনগণের দাবি ও অধিকার আদায়ের দুর্গম পথে প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। এভাবে দেশপ্রেমের অকুতোভয় শক্তিতে বলিয়ান হয়ে দেশমাতৃকার ডাকে এদেশের দেশপ্রেমিক বীরেরা হায়েনাদের বিরুদ্ধে বারবার বুক পেতে দাঁড়িয়েছেন। পঞ্চাশ সালে হানিফ, বিজন, সুখেনদের মতো বাহান্নতে বাঙলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শহিদ হয়েছেন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার। জনগণ ও দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে অতঃপর ‘৬২, ‘৬৬, ‘৬৯ সালে জীবন বাজি রেখে তারা লড়াই করেছেন। অবশেষে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একাত্তর সালে হানাদারদের পরাজিত করে আমরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি।
কলঙ্ক আর কালিমায় কলুষিত হয়ে আছে পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসনকাল। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিলের হত্যাকা- আজও সাক্ষ্য হয়ে আছে পাকিস্তানি বর্বরতার। কি অপরাধ ছিল জেলে রাজবন্দিদের? কেনইবা নিরস্ত্র-নিরীহ বন্দিদের কাপুরুষের মতো গুলি করলো শাসক হায়েনারা? তাঁদের একমাত্র অপরাধ তারা আত্মমর্যাদার দাবি জানিয়েছিলেন। বন্দিরা রাজবন্দির মর্যাদা দাবি করেছিলেন। বন্দিরা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলার অধিবাসী। তাঁদের গ্রেফতার করে রাজশাহী জেলে আটক রাখা হয়েছিলো। রাজবন্দির সংখ্যা ছিল ৩৯ জন। রাজশাহী কারাগারের অভ্যন্তরে খাপড়া ওয়ার্ডে তাদের রাখা হয়েছিল সাধারণ কয়েদীর মতো। সাধারণ কয়েদীর মতো তাদের সাথে ব্যবহার করা হতো। বন্দি হলেও তারা তো রাজবন্দি। আর বন্দিদের নিরাপদ স্থান হলো কারাগার। স্বদেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাঁরা বন্দি হয়েছেন।
সুতরাং সাধারণ কয়েদীর status নীরবে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন তাঁরা। সাধারণ কয়েদির status রাজবন্দিরা প্রত্যাখান করেছিলেন। আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা লাভের সংগ্রামে সকল বন্দিরা অংশীদার হয়েছিলেন। এ সময় বাইরে দেশজোড়ে কিছু কিছু গণ-অসন্তোষ ছিল। তবে তা ছিল সীমিত ও দুর্বল। শাসকরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিলো।
সেদিনের জেল পুলিশের বেপরওয়া গুলিবর্ষণে মারাত্মক ভাবে আহত প্রবীণ বিপ্লবী অনন্ত দেবের বর্ণনায় খাপড়া ওয়ার্ডের পরিচয় হলোÑ রাজশাহী সেন্ট্রাল জেলের ভিতরে দ্বিতীয় প্রাচীর ঘেরা খাপড়া ওয়ার্ড। জেলের ভিতর জেল আর কি! ওয়ার্ড মানে নির্দিষ্ট চতুষ্কোনাকৃতি একখানা বেশ বড় ঘর। টালির ছাউনী থাকায় রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষায় বলা হত ‘খাপড়া’ । ঘরখানার বৈশিষ্ট্য ছিলো সমান উঁচু ও সমান প্রশস্ত ছ’খানা করে প্রত্যেক দিকে লোহার গরাদের fixed জানালা ঘেরা square ঘর। ছোট বারান্দার মধ্যের খানা ব্যবহৃত হতো দরজা হিসেবে যা দিয়ে যাতায়াত করা যেতো এবং সন্ধ্যার আগেই নিরাপত্তা বন্দিদের তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। ঘরের ভেতরে বাইরে কড়া প্রহরা, শান্ত্রীর নজর এড়ানোর কোনোই সুযোগ ছিলো না। নাজি কারাগারের mini সংস্করণ আর কি!
রাজবন্দির মর্যাদা আদায়ের জন্য বন্দিরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দাবি আদায়ে তারা নানা ফন্দি আটলেন, জেলা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। অবশেষে বাধ্য হয়ে বন্দিরা চরমপন্থা ‘অনশন’ করার পথে পা বাড়ালেন। বাইরে রাজনীতিক মহলের সমর্থন লক্ষ্য করে জেল কর্তৃপক্ষ রাজবন্দিদের আংশিক দাবি মেনে নিতে রাজি হলো। কিন্তু সব রাজবন্দিদের এক ওয়ার্ডে একত্র রাখার মূল দাবি প্রত্যাখ্যান করলো। নির্দেশ এলো নেতৃস্থানীয় ৮ জন নির্দিষ্ট রাজবন্দিকে কনডেম্ন্ড সেলে (condemned cell) থাকতে হবে। খাপড়া ওয়ার্ডের ৩৯জন রাজবন্দি ঠিক করলেন তারা এই নির্দেশ মানবেন না। কনডেম্ন্ড সেলে থাকার নির্দেশ যাদের প্রতি সেই ৮ জন বন্দি অন্যদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের হুকুম অগ্রাহ্য করলেন। বন্দিদের দুঃসাহস ও ঔদ্ধত্য দেখে কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ গ্রহণের চক্রান্ত করলো। জেল কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত পথ বেছে নেবেÑ এ রকম ধারণা ছিলো না বন্দিদের।
জেল সুপারের পরিদর্শন দিন ছিল সপ্তাহে একদিন সোমবারে। জেল সুপার W.F Beale নির্দিষ্ট দিনে যথারীতি পরিদর্শনে বের হলো। তার সঙ্গে পুরো প্রস্তুত একদল সেপাই । ক্ষিপ্ত সুপার খাপড়া ওয়ার্ডের সামনে এসে রাজবন্দি আব্দুল হক, বিজন সেন, মনসুর হবিবুল্লাহসহ নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত ৮ জনকে তৎক্ষণাৎ নির্দিষ্ট condemned cell-এ যেতে হুঙ্কার ছাড়লো। এই নির্দিষ্ট সেলে তখন অবস্থান করছিলো যক্ষ্মা রোগাক্রান্ত কয়েদীরা। বন্দিরা জানালেন সেলে যেতে রাজি কিন্তু যক্ষ্মা রোগীর সেলে নয় কোনোমতেই। ক্ষিপ্ত সুপার রাগে ও উত্তেজনায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সুপার নিজ হাতে জেলের alarm whistle বাজিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনতলা গেইটের উপরে রাখা পাগলাঘণ্টি বেজে উঠলো। সামনের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়া হয়। সুপারের ইশারায় রাইফেলধারী সেপাইদল ওয়ার্ড সীমানায় ঢুকে ২৪টি গরাদে ২৪ জন যুদ্ধ-কায়দায় অবস্থান নিলো। নিরস্ত্র নিরীহ বন্দিরা একেবারে অসহায় এবং নিরুপায় হয়ে পড়লেন। মানুষরূপী জল্লাদ জেল সুপারের বুক এতটুকু কাঁপলো না। কেননা রাজবন্দিরা তো তাদের চোখে dangerous element সেপাইরা রেডি। সুপার অর্ডার দিলো গুলির। মুহূর্তে একসঙ্গে গর্জে উঠলো রাইফেলগুলো। বন্দিদের কিছু করার নেই মৃত্যুকে বরণ করা ছাড়া। তবুও বাঁচার আকুতিতে সবাই মেঝের উপর শুয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেন। কিন্তু সব বৃথা। সঙ্গে সঙ্গে শহিদ হলেন খুলনার আনোয়ার হোসেন আর রাজশাহীর দিলওয়ার হোসেন। শুয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হলেন ময়মনসিংহের সুখেন ভট্টাচার্য, কুষ্টিয়ার হানিফ মোহাম্মদ, দিনাজপুরের কম্পরাম সিং ও আভরাম সিং, রাজশাহীর বিজন সেন, রংপুরের সুধীন ধর এবং আরো দুইজন দেশপ্রেমিক রাজবন্দি নুরুন্নবী চৌধুরী ও মনসুর হবিবুল্লাহসহ আরো অনেকে। তলপেটে গুলিবিদ্ধ সুখেন ভট্টাচার্য ও সুধীন ধর সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে কিছু বলতে বলতে ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে। মনুষ্যরূপী পশু সুপার এতগুলো প্রাণ সংহার করেও ক্ষান্ত হলো না। অতঃপর রক্তলোলুপ সুপার একদল ঠ্যাঙাড়ে নিয়ে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ে। সে ঠ্যাঙাড়েদের নির্দেশ দেয় জীবিতদের পিটানোর জন্য। লাঠিপেটার আঘাতে সবারই অন্তিম হাল। এবারে সুপার হুকুম করলো বুলেটবিদ্ধদের জেল হাসপাতালে এবং অন্যদের punishment ccll এ নিয়ে যাবার জন্য। হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় প্রাণ হারালেন হানিফ মোহাম্মদ। সবশেষে গুলিবিদ্ধ বয়স্ক বিজন সেন মৃত্যুকে বরণ করলেন। বয়োজ্যেষ্ঠ কম্পম সিং মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে লড়তে পরদিন ২৫ এপ্রিল জেল হাসপাতালে মারা যান।
অমানুষিক লাঠিপেটার আঘাতে অন্যান্যদের সঙ্গে সিলেটের অনন্ত দেব মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। সেই আঘাতে তার মেরুদ-ের নিচের দিকের হাড় ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে জেল থেকে ছাড়া পাবার পর মৃত্যুপথযাত্রী ‘অনন্ত দেবকে শিলং নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। দীর্ঘদিন নড়াচড়াহীন শায়িত অবস্থায় চিকিৎসা ও বিশ্রামের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
বর্বর সুপারের হিংস্রতা ও বর্বরতার শেষ নয় এখানেই। তার হাত থেকে মহিলা বন্দিরাও রেহাই পাননি। মহিলা ওয়ার্ডের বন্দিরা খাপড়া ওয়ার্ডে গুলির আওয়াজ শুনে আঁতকে ওঠেছিলেন এবং গুলির প্রতিবাদে শ্লোগান দিয়ে বন্দিদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। এই কারণে সুপারের নির্দেশে ঠ্যাঙাড়েরা মহিলা বন্দিদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে তাদেরও লাঠিপেটা করে।
সুপারের হৃদয়হীন ও বর্বরতার শেষ নয় এখানেই। মনুষ্য নামধারী অমানুষ সুপার জঘন্যতম ও বর্বরতম কাজটি করেছে সব শেষে। সুপার নিহতদের ধর্মের রীতি অনুযায়ী সৎকার করার ব্যবস্থা করে নি কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরও করে নি। বরং জল্লাদ সুপারের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে সব কটি লাশ একত্র জড়ো করে জেলের ভিতরে এক সাথে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। জেলের গুটিকয়েক জল্লাদ, কয়েদী ও সেপাই ছাড়া আর কেউ এই ঘটনার হদিস জানতে পারে নি।
পঞ্চাশের এই বর্বর ঘটনার কোনো তদন্ত বা দোষী খুনীদের শাস্তি হয়েছিলো কি? লাশগুলোর কি হয়েছিলো, কোথায় তা গুম করা হয়েছিলো দেশবাসী তা জানতে পারে নি। পাকিস্তানি শাসনামলের সেই বর্বরতার ঘটনা আজ বিস্মৃত প্রায়। নতুন প্রজন্ম তা জানেই না। অথচ পঞ্চাশের সেই ৭ জন দেশপ্রেমিকের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে লড়াই-সংগ্রামের প্রেরণায় একুশের পথ ধরে আমরা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ত্রিশলক্ষ শহিদানের রক্ত ও বেশুমার মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আজ দেশের ক্ষমতায়। সে দল দেশ পরিচালনা করছে। পাকিস্তান আমলে আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস, সীমাহীন নির্যাতন ও ত্যাগের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও তথ্য, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রের তথ্যগুলি জানার ও লিপিবদ্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়। দেশবাসীর প্রত্যাশা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার এই বিষয়ে দৃঢ় উদ্যোগ ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে। আরো অনেক ইতিহাস ও ঘটনাবলি জানার পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম তথা দেশবাসী খাপড়া ওয়ার্ডের গণহত্যা ও অন্যান্য অমানুষিক ঘটনাবলি জানতে চায়।
আরো প্রত্যাশা খাপড়া ওয়ার্ডে নিহিত ৭ জন দেশপ্রেমিকের নামে রাজশাহীতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের। এবং সেই সাথে সেই নরকপুরীর কবল থেকে রক্ষা পেয়ে আজও যারা বেঁচে আছেন এই পৃথিবীতে, তাদের খোঁজে বের করে উপযুক্ত সম্মানে সম্মানিত করার দাবি দেশবাসীর। বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ত্যাগের তথ্য-উপাত্ত বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের অংশ। হারিয়ে যাবার আগেই তা সংরক্ষণের দাবি রাখে। ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব ধরে রাখা এখন সময়ের দাবি ও ইতিহাসের জন্য বড় বেশি প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র : খাপড়া ওয়ার্ডের বর্বর ঘটনায় আহত বিপ্লবী অনন্ত দেবের চিঠি এবং তাঁর সাথে আলাপচারিতা।

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • হবিগঞ্জের লোকসাহিত্যে অধুয়া সুন্দরীর উপখ্যান
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • সিলেটে ফারসি চর্চা
  • সিলেটের গণভোটের অগ্রনায়ক মৌলানা ছহুল উসমানী
  • আদিত্যপুরের গণহত্যা
  • জালালাবাদের ইতিহাস ঐতিহ্য
  • বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ
  • সিলেটে আরবি ভাষাচর্চা
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় এবং সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আজিজপুর
  • সিলেটের গণভোটের অগ্রনায়ক মৌলানা ছহুল উসমানী
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আরেক অধ্যায়
  • কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঐতিহাসিক নানকার আন্দোলন
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয়
  • শত বছরের ঐতিহ্যের ধারক দাউদিয়া মাদরাসা
  • পৃথিবীর প্রাচীন লাইব্রেরিগুলো
  • আল হামরা : ইতিহাসের অনন্য কীর্তি
  • Developed by: Sparkle IT