ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা

সেলিম আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৭-২০১৯ ইং ০০:৫৫:৩৮ | সংবাদটি ১১৮ বার পঠিত

সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে দুটো ভাবনা রয়েছে। একদল মনে করছেন প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬৫ এবং অপরদল মনে করেন প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৭। সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়Ñ১৯৬৫ খ্র্ষ্টিাব্দে আমীনূর রশীদ চৌধুরীর হাত ধরে সিলেটের সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন সিলেট প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু এবং ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে বোরহান উদ্দিন খানের নেতৃত্বে সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকরা ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন উদ্যমে সিলেট প্রেসক্লাব পুনর্গঠন করেছেন। এজন্যে বলা যায় ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে যাত্রা শুরু হওয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমীনূর রশীদ চৌধুরী (যুগভেরী, ইস্টার্ন হেরাল্ড), নিকুঞ্জবিহারী গোস্বামী (জনশক্তি), মুহম্মদ নূরুল হক্ (আল ইসলাহ), হিমাংশু শেখর ধর (যুগভেরী), আবদুল মন্নান (আওয়াজ), এম.এ. নূর (ইউনিটি), সুলতান আলী, শামসুজ্জামান সুফী, রফিকুর রহমান লজু, আর তালুকদার, এ.জি. শামসুল আলম, সি এম হায়দর, এম শহীদ লোহানী, সুধীন্দ্রবিজয় দাস, নন্দগোপাল চৌধুরী ও রজিউর রহমান এবং ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে পুনর্গঠিত সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হচ্ছেন বোরহান উদ্দিন খান (দৈনিক আজাদ), আবদুল ওয়াহেদ খান (সাপ্তাহিক সিলেট সমাচার), আবদুল মালিক চৌধুরী (দৈনিক ইত্তেফাক), এহিয়া রেজা চৌধুরী (ক্রীড়া সাহিত্য), ফজলুল করিম চৌধুরী অপু (দৈনিক পূর্বাচল), এম.এ.গফফার (দৈনিক বাংলার মুখ), এস.বি. দাস (দি বাংলাদেশ অবজারভার), এম.এ.রব (দি বাংলাদেশ টাইমস), মাহবুবুর রহমান (দৈনিক সংবাদ), শামসুল হক চৌধুরী (দৈনিক সংগ্রাম), মাহমুদ হক (সাপ্তাহিক সিলেট সমাচার), খালিসুর রহমান। পয়ষট্টির কমিটির পঁচাত্তর পরবর্তী নিস্ক্রিয়তাই সাতাত্তরের কমিটির জন্ম দিয়েছে। তবে ঐতিহ্য সচেতনতা, উদারতা, বিবেকবোধ ইত্যাদি নানা কারণে সাতাত্তরের নেতৃত্ব পয়ষট্রিকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে। ইতিহাসে একটি বাক্য প্রায়ই দেখা যায়-‘অমুক সা¤্রাজ্য অমুক প্রতিষ্ঠা করলেও, অমুক সা¤্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন অমুক’। এই বাক্য কি এইভাবে বলা যায় নাÑ‘১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও বোরহান উদ্দিন খান হচ্ছেন সিলেট প্রেসক্লাবের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।’ বোরহান উদ্দিন খানের নেতৃত্বের বলিষ্টতার প্রমাণ সিলেটে কিংবদন্তীর মতো শোনা যেতো। বোরহান উদ্দিন খানের নেতৃত্বের বলিষ্টতার কারনে প্রেসক্লাবের সদস্যরা বোরহান উদ্দিন খানের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। ১৯৮৯’র ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘সভায় সাংবাদিকতায় জনাব বোরহান উদ্দীন খানের অবদানের স্বীকৃতি এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তার সদস্য চাঁদা পরবর্তী সময়ের জন্য (যতদিন সদস্য থাকবেন) মওকুফ করা হয়।’
প্রথম সভার উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত ছিলোÑ‘২। যেহেতু সিলেট প্রেসক্লাবের পূর্বতন কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রেসক্লাব কমিটির কোন সক্রিয়তা ছিল না। ফলে বর্তমান নতুন কমিটি নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে তাহার কাজ শুরু করিয়া দিয়াছে। ইহার পরিপ্রেক্ষিতে এই সভা সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব তবারক হোসেইনকে সিলেট প্রেসক্লাবের হিসাব-নিকাশ ও বিষয় সম্পত্তিসহ যাবতীয় দায় দায়িত্ব নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহবুবুর রহমানের কাছে আগামী ৮ নভেম্বর ১৯৭৭ইং মধ্যে হস্তান্তর করিতে অনুরোধ করিতেছে।’ সাতাত্তরে আত্মপ্রকাশকারী সিলেট প্রেসক্লাবের প্রথম সভার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে তারা ১৯৬৫-র প্রেসক্লাবকে অস্বীকার করেননি, বরং সাতাত্তরের প্রেসক্লাব প্রচ্ছন্নভাবে পয়ষট্টির প্রেসক্লাবের ধারাবাহিকতা স্বীকার করে পূর্ববর্তী কমিটির হিসাব-নিকাশ, বিষয় সম্পত্তি দাবী করেছে। খুব সরলভাবে বুঝা যায়, সাতাত্তর থেকে যাত্রা শুরু হলে সাতাত্তর পূর্ববর্তী সম্পাদকের কাছে প্রথম সভায় সিলেট প্রেসক্লাবের হিসাব-নিকাশ ও বিষয় সম্পত্তিসহ যাবতীয় দায় দায়িত্ব ‘নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহবুবুর রহমানে’র কাছে হস্তান্তর করার জন্য অনুরোধ করা হতো না।
১৯৭৭ সালে সিলেটের সাংবাদিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সময়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহর সক্রিয় সহযোগিতায় শহরের মীরের ময়দান এলাকায় ১৩ ডেসিমেল জায়গা বরাদ্দ করা হয়। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেইন এই ভূমি গ্রহণ করেন।
পূর্বতন কমিটির মেয়াদকালে পাওয়া ভূমির উপর সাতাত্তরের কমিটি কর্তৃক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ প্রমাণ করেÑসাতাত্তরের কমিটি পূর্বতন কমিটির মেয়াদকালে পাওয়া ভূমির উত্তরাধিকার যেমন গ্রহণ করেছে, একই সূত্রে পূর্বতন কমিটির কার্যক্রমের উত্তরাধিকারও বহন করে।
সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকাল সম্পর্কে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের প্রথম কমিটির সদস্য রফিকুর রহমান লজু উল্লেখ করেছেনÑ‘প্রেসক্লাব গঠনে দৌড়াদৌড়ি ও যোগাযোগে কর্মী হিসেবে আমার সঙ্গে পেয়েছিলাম নন্দগোপাল চৌধুরী, আব্দুল বাতিন তালুকদার, শামসুজ্জামান সুফী, শহীদ লোহানীকে। অন্যরা ছিলেন সহযোগী। মাথার ওপরে ছায়া হিসেবে ছিলেন যুগভেরী সম্পাদক আমীনূর রশীদ চৌধুরী, প্রাচীনতম সাহিত্য সাময়িকী মাসিক আল-ইসলাহ’র সম্পাদক নূরুল হক ও সাপ্তাহিক জনশক্তির’র সম্পাদক নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী। রেডিও পাকিস্তান সিলেট কেন্দ্রের সহকারী বার্তা সম্পাদক পদে সেসময় যোগ দেন সুলতান আলী। প্রেসক্লাব গঠনের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের ঐতিহাসিক সভাটি অনুষ্ঠিত হয় চৌহাট্টায় তার কার্যালয়ে। ঐতিহাসিক দিনটি ১৩ জুলাই ১৯৬৫।’
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসাইন স্মৃতিচারণ করেছেনÑ‘(তৎকালীন রেডিও পাকিস্তান সিলেট কেন্দ্রের সহকারী বার্তা সম্পাদক) সুলতান আলী সাহেবই প্রথমে সিলেটের প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার জন্য পরামর্শ দিতেন এবং এক পর্যায়ে তিনি সংবাদকর্মীদের উপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করতেন। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে সাংবাদিকগণ মরহুম আমীনূর রশীদ চৌধুরীর স্মরণাপন্ন হলে তিনিও এতে একমত হন। এ ব্যাপারে তার বাসায় বেশ কবার বসা হয়। সিলেটে একটি প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠায় একমত হন এবং সে অনুযায়ী ১৯৬৫ সালের ১৩ই জুলাই মীরবকসটুলাস্থ রেডিও পাকিস্তানের বার্তা বিভাগের অফিসে সভার আয়োজন করা হয়। অবশ্য সে সভায় জনাব আমীনূর রশীদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। সে সভায়ই জনাব আমীনূর রশীদ চৌধুরীকে সভাপতি, আল ইসলাহ্ সম্পাদক মৌলভী নূরুল হক ও জনশক্তি সম্পাদক নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামীকে সহ-সভাপতি, সাপ্তাহিক আওয়াজ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুগভেরীর সহ-সম্পাদক ও ইউ. পি. আই প্রতিনিধি হিমাংশু শেখর ধর ঝনা বাবু-এ দুজনকে যুগ্ম সম্পাদক, শহীদ লোহানী সহ অন্য কয়েকজনকে সদস্য করে ‘সিলেট প্রেসক্লাব’ এর যাত্রা শুরু হয়।’
১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত সিলেট প্রেসক্লাব কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির বলেন, ‘আমি মনে করি সিলেট প্রেসক্লাব ১৯৬৫ সালে গঠিত সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ধারাবাহিকতার ফসল। তবে পরবর্তীতে জেলা শব্দটি বাদ দিয়ে ১৯৭৭-এ সিলেট প্রেসক্লাব গঠিত হয়। বর্তমান সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকাল আমি ১৯৬৫ সাল বলে মনে করি।’
১৯৭৭ সালে গঠিত সিলেট প্রেসক্লাব কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি [১৯৯৭-১৯৯৮] আব্দুল মালিক চৌধুরীর অভিমতÑ‘১৯৬৫ সালে সিলেটে একটি প্রেসক্লাব ছিলো, যদিও আমি সেটার সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না, তবে সেই ক্লাব প্রতিষ্ঠার রেকর্ড আছে। সেটাকে স্বীকার করে নিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সত্তর সালের দিকে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু করি। ১৯৭২-এ ইত্তেফাকে নিয়োগ লাভ করি। তখন আমি, তবারক হোসাইনসহ কয়েকজন প্রেসক্লাব পুনর্গঠন করার উদ্যোগ গ্রহন করি। এ বিষয়ে আমীনূর রশীদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করি। তখন সিলেট পৌরসভার টিনশেডের অফিসের একটি কক্ষে সভায় মিলিত হয়ে আমীনূর রশীদ চৌধুরীকে সভাপতি ও তবারক হোসাইনকে সেক্রেটারি করে একটি কমিটি গঠন করি। আমাদের বসার কোন জায়গা ছিলো না, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় বসতাম। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ খুব একটা গোছালোভাবে বা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ১৯৭৭-এর দিকে জেলা প্রশাসন থেকে ভূমি পাবার পর আমরা সিলেট প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি গঠন করি। প্রেসক্লাব হয়েছে, রেকর্ড আছেÑতা অস্বীকার করা যায় না এবং এজন্য রেকর্ড অনুযায়ী সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬৫ সালের ১৩ জুলাই। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত সিলেট প্রেসক্লাব ছিলোÑযা গোছালো বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ১৯৭৭ থেকে সিলেট প্রেসক্লাব নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’
১৯৭৭ সালে গঠিত সিলেট প্রেসক্লাব কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য (ডা.) এম. সামছুল হক চৌধুরীর অভিমতÑ‘১৯৭৭ সালে সিলেট প্রেসক্লাবের কার্যক্রম আমরা নতুনভাবে শুরু করি। কিন্তু এর আগেও সিলেট প্রেসক্লাবের কার্যক্রম চালু ছিলো। মাঝে মিটিং হতো দেখতাম, কিন্তু কার্যক্রম খুব জোরালো ছিলো না। কার্যক্রম অনেকটা কাগজপত্রে এবং দুয়েকজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমিত ছিলো। এই অবস্থায় বোরহান উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পুরাতন কাউকে ছাড়াই ১৯৭৭ সালে সিলেট প্রেসক্লাবের নবযাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৫’র ১৩ জুলাই সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা হয় বলে শুনেছি, এই ব্যাপারে কোন ডকুমেন্ট আমার দেখার সুযোগ হয়নি। এটা ঠিক সাতাত্তরের পূর্বেও একটি নাম সর্বস্ব প্রেসক্লাব ছিলো এবং টুকটাক যা কাজ হতো তাতে বোরহান সাহেবকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখেছি।’
সিলেট প্রেসক্লাবের ইতিহাস প্রণয়নের জন্যে গঠিত প্রথম কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমানের অভিমতÑ‘১৯৬৫ সালে সিলেট জেলা শহরে সাংবাদিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট আমাদের স্বল্প সংখ্যক পূর্বসূরী সাংবাদিকদের একটি প্লাটফর্মের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু তাদের গঠিত কমিটির সক্রিয় ভূমিকা না থাকায় সেই প্লাটফর্মটি কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৭ সালে পুনরায় অপেক্ষাকৃত তরুণ সংবাদকর্মীদের ঐকান্তিক উদ্যোগ ও বলিষ্ট প্রচেষ্ঠায় আজকের সক্রিয় সিলেট প্রেসক্লাব আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমান সিলেট প্রেসক্লাবকে ১৯৬৫’র সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ধারাবাহিকতায় সংযোগ নেই মনে করার কোন কারন নেই।’
বিশিষ্ট গবেষক আবদুল হামিদ মানিকের অভিমতÑ‘সিলেটের সাংবাদিকতার ঐতিহ্য শতাধিক বর্ষে সমৃদ্ধ। সাংবাদিকতার শতবর্ষের ঐতিহ্য নির্মাণে যারা ভূমিকা রেখেছেন বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। এই মতভিন্নতার কারনে আমাদের সাংবাদিকতার প্রাচীন ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা, খাটো করা সমীচীন নয়। এই প্রেক্ষাপটে সিলেট প্রেসক্লাবের সূচনালগ্নে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অবদান অনস্বীকার্য। বিধায় সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকাল ১৩ জুলাই ১৯৬৫ গণ্য করা উচিত।’
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি [২০০৩-২০০৪, ২০১৪-১৫, ২০১৬-১৭] ইকবাল সিদ্দিকীর অভিমতÑ‘আমি মনে করি সিলেট প্রেসক্লাব ১৯৬৫ সালে ১৩ জুলাই প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সঠিক। বর্তমান সিলেট প্রেসক্লাব সেই ধারাবাহিকতায় দাঁড়িয়ে। ১৯৭৭ সনকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক অনভিপ্রেত। ১৯৬৫-তে সিলেটে সাংবাদিকতা যে জায়গায় ছিলো আজকে সেই জায়গায় নেই, এটাই বাস্তবতা। তবে সময়ের প্রয়োজনে নানা পরিবর্তন এসেছে এটাই স্বাভাবিক। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত এই সময়টায় প্রচুর ইতিবাচক কর্মকান্ড যেমন আছে, পাশাপাশি ছন্দ পতনও আছে, সত্যিকারের ধারাবাহিকতা নেই, এরপরও বাস্তবতা হচ্ছে নানা ক্রটি বিচ্যুতির পরও সিলেট প্রেসক্লাব আজো বহাল আছে। ১৯৬৫-তে সীমিত পরিসরে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো। বলতে গেলে পুরোপুরি ঘরোয়া। পরবর্তীতে সময়ের দাবী মেটাতেই ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সাংবাদিকরা নিজস্ব ভূমি সংগ্রহ ও ভবন নির্মাণের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক ভিত্তি দৃঢ় হয় এবং কার্যক্রম আরো বিস্তৃতি লাভ করে, যা এখনো চলমান।’
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি [২০১০-১১, ২০১২-১৩] আহমেদ নূরের অভিমতÑ‘সিলেটের এই শতাধিক বছরের সাংবাদিকতার গৌরবময় ঐতিহ্যের এক স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাব। সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালের ১৩ জুলাই। সিলেট প্রেসক্লাবের প্রথম কমিটির সভাপতি ছিলেন যুগভেরী ও ইস্টার্ন হেরাল্ড পত্রিকার সম্পাদক আমীনূর রশীদ চৌধুরী।... ১৯৭৭ সাল ছিল সিলেট প্রেসক্লাবের অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য বছর। এসময় অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়। প্রেসক্লাবের উন্নয়ন ও বিকাশে নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকরা এগিয়ে আসেন।... সেই থেকে শুরু সিলেট প্রেসক্লাবের যুগান্তকারী পথচলা।’
রফিকুর রহমান লজু, তবারক হোসাইন, ইকবাল কবির, এম. সামছুল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, আবদুল হামিদ মানিক, ইকবাল সিদ্দিকী, আহমেদ নূরের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি [১৯৯৩-১৯৯৪, ১৯৯৫-১৯৯৬, ১৯৯৯-২০০০, ২০০১-২০০২, ২০০৫-২০০৬, ২০০৭-২০১০] মুকতাবিস-উন-নূর। তাঁর অভিমতÑ‘১৯৬৫ সালের ১৩ জুলাই সিলেট প্রেসক্লাব নামে একটি কমিটি গঠিত হয়, বিষয়টি শুধু সেই সময়ের একটি পত্রিকার সংবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পরবর্তীতে সেই কমিটির আর কোন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিলো কি না, তাও আমরা জানতে পারি না। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট প্রেসক্লাব আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়, সেই গঠনতন্ত্রে পূর্বতন কোন ব্যক্তি বা পূর্বতন কোন প্রেসক্লাবের উল্লেখ ছিলো না। সেই গঠনতন্ত্রে ১২ জনকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কাজেই ১৯৭৭-এর প্রেসক্লাবকে পূর্বতন কোন কমিটির অংশ ভাবা যুক্তিসঙ্গত হবে না, তবে এটা ঠিক ১৯৭৭-এর সিলেট প্রেসক্লাব পূর্বসূরী সাংবাদিকদের পেশাগতভাবে সংগঠিত হবার প্রয়াসের উত্তরাধিকার বহন করে। প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র বহাল থাকা পর্যন্ত ১৯৭৭-এ গঠিত প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬৫’র ১৩ জুলাই ভাবা যুক্তিসঙ্গত হবে না বলে আমি মনে করি।’ (সিলেট প্রেসক্লাব ফেলোশিপ ২০১৮ প্রবন্ধ)

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাঙালির ইতিহাসে দুঃখের দিন
  • ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা
  • সাংবাদিকদের কল্যাণে সিলেট প্রেসক্লাব
  • প্রাকৃতিক মমিতে নির্মমতার ইতিহাস
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় ও সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যের তাঁত শিল্প
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান
  • ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস
  • বর্ষাযাপন : শহর বনাম গ্রামগঞ্জ
  • বর্ষা এলো বর্ষা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • নবীদের স্মৃতিচিহ্নে ধন্য যে জাদুঘর
  • দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র
  • ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়
  • বিলুপ্তির পথে গরীবের ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ মাটির ঘর
  • হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ
  • তালের পাখা প্রাণের সখা
  • Developed by: Sparkle IT