বিশেষ সংখ্যা

দৈনিক সিলেটের ডাক : যে কারণে পাঠকপ্রিয়

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০১৯ ইং ০২:৩৫:৫৪ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

সংবাদপত্রকে বলা হয় চতুর্থ রাষ্ট্র। ১৮৪১ সালে প্রকাশিত রাষ্ট্র বিজ্ঞানী টমাস কার্লাইলের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অন হিরোজ এন্ড হিরো ওয়ারশীপ’ সূত্রে জানা যায় যে, সংবাদপত্রকে চতুর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম বারের মতো আখ্যায়িত করেছিলেন বৃটিশ পার্লামেন্টের সদস্য প্রখ্যাত রাষ্ট্র দার্শনিক এডমন্ড বার্ক। পরবর্তীকালে সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য হতে থাকে। এখন অবধি সংবাদপত্রের গুরুত্ব বিবেচনায় এর ভূমিকা রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের জন্য অপরিহার্য বলেই মনে করেন রাষ্ট্র দার্শনিক ও রাজনীতি বিজ্ঞানীরা।
টমাস কার্লাইলের অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ফ্রেন্স রেভ্যুলেশন’-এ বইয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, গণতন্ত্রের জন্ম ও পরবর্তী বিকাশের ক্ষেত্রে সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং স্বৈরতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সর্বদাই সংবাদপত্র জনগণকে সচেতন করে তুলতে কাজ করেছে।
একটা শক্তিশালী কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা এবং রাষ্ট্রের অন্তর্গত জনগণের স্বার্থের রক্ষক ও অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে সংবাদপত্র অতীত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। রেডিও, টিভি, ফেসবুক, ইন্টারনেট, অন্যান্য ধরনের সামাজিক মাধ্যম তথা সর্বপ্রকার ই-মিডিয়ার ব্যাপক উদ্ভব এবং জনগণের নিকট এসব মিডিয়ার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মিডিয়া গবেষক, বিশ্লেষক, চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞজনদের অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন-সংবাদপত্রের দিন হয়তো ফুরিয়ে এসেছে, একবিংশ শতকে হয়তো এর অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। সংবাদপত্রকে অতীতের বিষয় হিসেবে মনে করা হবে। তবে সব হিসেব-নিকেশই ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে, নানাধর্মী সামাজিক সংবাদ ও গণমাধ্যম, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার উদ্ভব ও জনগণের নিকট এর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি প্রিন্ট মিডিয়া বা সংবাদপত্রের গুরুত্ব এই একবিংশ শতকে বৃদ্ধি পেয়েছে আরো অধিকতর পরিমাণে।
সংবাদপত্রের এই গ্রহণযোগ্যতার অকাট্য একটা প্রমাণ হিসেবে ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ নামক পত্রিকাটাকে উদাহরণ হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে পারি। একটা আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা। পঁয়ত্রিশ বছর পেরিয়ে এই জুলাইয়ের ১৮ তারিখে ছয়ত্রিশ বছরে পা রাখবে দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকা। দেশে এতো সব মিডিয়া থাকা সত্ত্বেও ডাক পত্রিকার অস্তিত্ব টিকে থাকাটা বিস্ময়কর। পত্রিকার টিকে থাকা নির্ভর করে ব্যাপক সংখ্যক পাঠকের আগ্রহের ওপর। যদি পাঠক গ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে পত্রিকার অপমৃত্যু ঘটতে বাধ্য।
কিন্তু ডাক পত্রিকার অপমৃত্যু ঘটেনি, দিনে দিনে এ পত্রিকা শক্তিশালী হচ্ছে, সকল ই-মিডিয়াকে চ্যালেঞ্জ দিয়েই দৈনিক সিলেটের ডাক বর্ধিষ্ণু হচ্ছে, পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। সিলেট শহরের সীমানা ছাড়িয়ে সিলেট বিভাগের পাঠক জনগণের কাছে ডাক অতি গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ পত্রিকা হিসেবে আদৃত হয়েছে। অর্থাৎ ডাক পাঠকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, ডাক পাঠক আকৃষ্ট করতে পেরেছে, পাঠক একটা পত্রিকায় যা পেতে চায়, যা পড়তে চায় তার সবই প্রতিদিনের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে বলেই আদরণীয় এবং গ্রহণীয় হয়ে ওঠেছে পত্রিকাটা। যে কারণে, প্রতিদিনের ভোরে পাঠকসাধারণ অপেক্ষায় থাকে কখন হাতে পাবে তার প্রিয় পত্রিকা দৈনিক সিলেটের ডাক।
৩৬ বর্ষকালের যাত্রার শুরুতে তাই অতীতের ফেলে আসা বছরগুলোর দিকে পেছন ফিরে তাকালে ডাক পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট মালিক, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা বলতেই পারেন যে, নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্বেও ফেলে আসা দিনগুলোতে মানুষের সুখ-দুঃখ, বেদনা আর আনন্দের সাথী হয়ে মানুষের তথ্য জানার ও পাওয়ার অধিকারটা সমুন্নত রেখে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে প্রয়োজনীয়, অথচ না জানা যত দৈনন্দিন সংবাদ এবং সংবাদের পেছনের সংবাদ, যা পত্রিকাটাকে এনে দিয়েছে পাঠকপ্রিয়তা। ডাক এখন পাঠক নন্দিত দৈনিক পত্রিকা-যেটা ক্ষেত্র বিশেষে অনেক জাতীয় দৈনিকের চেয়েও অধিকতর পাঠকপ্রিয় হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে পাঠক মহলে।
পাঠকদেরকে অধিকতর তথ্য দিয়ে সচেতন করা, সরকারি কাজের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, শাসন পদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রের বিকাশে সহযোগিতা করা, রাষ্ট্র ও সমাজের নানা সংকট, সমস্যা এবং এর প্রতিকারের সম্ভাব্য উপায় বলে দিয়ে প্রকাশিত প্রতিদিনের সম্পাদকীয় এবং উপ-সম্পাদকীয়-ডাক পত্রিকার মানকে জাতীয় পত্রিকার সমকক্ষতা এনে দিয়েছে।
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে একটা পত্রিকার যেমন ভূমিকা পালন করা দরকার সিলেটের ডাক পত্রিকা সে ধরনের ভূমিকা পালনে সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে। যেমন-সংবাদপত্র রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারকে সহযোগিতামূলক দিক নির্দেশনা দেবার পাশাপাশি সরকারের গণবিরোধী এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে এবং বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক লেখনী, সংবাদ প্রকাশ, সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয়, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে কলামগুলো প্রকাশ ও প্রচার করে জনগণকে সচেতন করে তোলে, জনমত গঠনে সহযোগীর ভূমিকা পালন করে। এভাবেই সরকারি ভালো কাজের জন্য প্রশংসা, মন্দ কাজের জন্য নিন্দা, সমালোচনা করা সহ গণতন্ত্রের সুরক্ষা, মৌলিক মানবাধিকার সমূহের রক্ষাকল্পে এবং গণতান্ত্রিক শাসনের বিকাশ ও উন্নয়নে পত্রিকা পালন করে অতুলনীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মোট কথা হলো, সংবাদপত্র ওয়েল-ইনফরমড সচেতন জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে কাজ করে এবং অন্যদিকে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরে সরকার ও শাসকবর্গকে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তার কার্য পরিচালনায় সহযোগিতা দিয়ে থাকে। সংবাদপত্র সরকারের ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে যেমন সতর্ক করে দেয়, তেমনি সচেতন জনগোষ্ঠী তৈরি করে জনগণের অধিকারের সীমা সম্পর্কেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এভাবেই সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কের সেতু তৈরি করে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সংবাদপত্র এবং আমাদের আলোচ্য দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকা বিগত ৩৫ বছর ধরে উপরে বর্ণিত সকল ভূমিকা অত্যন্ত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সাথে পালন করে চলেছে।
সাধারণ অর্থে, পত্রিকার কাজ হচ্ছে সরকার ও জনগণের নিকট সঠিক তথ্য সরবরাহ করা এবং মানুষের প্রকৃত তথ্য জানার অধিকারকে অবারিত করে দেওয়া। প্রতিদিনের, প্রতি মুহূর্তের সব সংবাদ পত্রিকার পাতায় তুলে ধরে মানুষকে প্রকৃত সত্য জানতে সাহায্য করা, গণমানুষকে ওয়েল-ইনফরমড করে তোলা, যাতে মানুষ সচেতন হতে পারে। মানুষকে তার মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা যাতে মানুষ তার অধিকার রক্ষায় তৎপর থাকতে পারে। রাষ্ট্রীয় কার্যাদিতে মানুষের অংশ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং অংশ গ্রহণকে উৎসাহিত করা সংবাদপত্রের অন্যতম দায়িত্ব। অর্থাৎ মূলত একটা প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করে থাকে একটা পত্রিকা।
সংক্ষেপে এটা বলা যায় যে, গণতান্ত্রিক সরকার শক্তিশালীকরণ, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিপদ ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে জাগ্রত করা, মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, জনমত গঠন করা, দুর্নীতি রোধ করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার বিস্তার করা এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় সংবাদপত্রের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। আর এসব কারণেই একবিংশ শতকে সংবাদপত্রের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে যে সংশয় দেখা দিয়েছিলো, তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে ইতোমধ্যেই। বরং এ সময়কালে সংবাদপত্রের ভূমিকা আরো বেশি বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশেও সংবাদপত্রের গুরুত্ব যে ব্যাপক সেটাও ইতোমধ্যে স্বীকৃত হয়েছে। কেননা, প্রতিদিন দেশে কয়েকশ পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এর মধ্যে একটা অন্যতম গৌরবের পত্রিকা হিসেবে পাঠকনন্দিত পত্রিকা দৈনিক সিলেটের ডাক অন্যতম। একটা আঞ্চলিক পত্রিকা হলেও জাতীয় পত্রিকার চাহিদা পূরণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদাদি ডাক পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছে তার পাঠকদের নিকটে। সিলেটের ডাক, এখন প্রতিদিন ভোরে সিলেট বিভাগের হাজার হাজার পাঠকের হাতে পৌঁছে যায় জাতীয় আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বার্তা ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে। এর সেটআপ-গেটআপ, ঝকঝকে স্পষ্ট ছাপা, মানসম্মত কাগজ, রঙিন মুদ্রণ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সুলিখিত, সুচিন্তিত মতামতের আলোকে সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয় প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে ডাক পত্রিকা নিঃসন্দেহে তার পাঠকদের চাহিদা পূরণ করে চলেছে।
একটা জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ন্যায় ডাক পত্রিকাও গণতন্ত্রের সুরক্ষা দিয়ে সুশাসন ও ন্যায় বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে ও বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এর সম্পাদকীয় এবং উপ-সম্পাদকীয় কলামে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করে একটা দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করছে। উপসম্পাদকীয় কলামে সমকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতির সংকট ও সমস্যাবলি নিয়ে আলোকপাত করা হচ্ছে-যার ফলে মানুষ আন্তর্জাতিক বিষয়ে অবগত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী চলমান সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম ও এর কুফল সম্পর্কে বেশ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও ফিচার প্রকাশ করে জনগণকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতন করে তুলতে অবদান রাখছে ডাক।
সিলেটের ডাকের আরো একটা দিক হলো-ডাক বরাবরই তার নিরপেক্ষতা ও সর্বজনীনতা বজায় রেখে সব শ্রেণী পেশার ও মতাদর্শের পাঠকদের নিকট নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য পাঠকদের মধ্যে ডাক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। পাঠকপ্রিয়তার কারণেই সাড়ে তিন দশক ধরে সগৌরবে টিকে আছে ডাক পত্রিকা এবং বেড়ে চলেছে তার পাঠক সংখ্যা। এর সঙ্গে পত্রিকার মানও বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় ইন্টারনেট, ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টুইটার, টিভি চ্যানেল ইত্যাদির ব্যাপক ছড়াছড়ির মধ্যেও মানুষ সংবাদপত্রের মধ্যে তার প্রত্যাশার সব সংবাদ জানতে চায়, যে কারণে পত্রিকা টিকে আছে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও টিকে আছে, সে সাথে টিকে আছে শুধু নয় বরং বৃহত্তর কলবরে টিকে আছে দৈনিক সিলেটের ডাক। প্রতিদিন এর গ্রহণযোগ্যতা ও আবেদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক জামানায় সংবাদপত্রের নিকট পাঠকবর্গ যা প্রত্যাশা করে, আমার বিবেচনায় সিলেটের ডাক তার সব কিছুই প্রতিদিন প্রকাশিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, পড়াশুনা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা, যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির স্বপক্ষে কথা বলা সহ জনগণের চাহিদার সকল ক্ষেত্রে সিলেটের ডাকের অবাধ প্রবেশের মধ্য দিয়ে মানুষকে আধুনিক তথ্য প্রবাহের ভান্ডারের সাথে সংযুক্ত করে দিতে পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
পরিশেষে এটা বলবো, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটা দেশে বহুবিধ ধরনের সংবাদ মাধ্যমের ভীড়ে সংবাদপত্র প্রকাশ করা এবং তার প্রচার-প্রকাশনা টিকিয়ে রাখা, পাঠকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা বিরাট ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। কারণ পত্রিকা প্রকাশের ব্যয় অত্যধিক, অথচ পাঠক সংখ্যা তুলনায় অনেক কম। পাঠক সংখ্যার হার কম থাকায় পত্রিকা ব্যয় সম্পাদনে পত্রিকা মালিকগোষ্ঠীকে প্রায়শই ঘাটতির মধ্যে পড়তে হয়। এ অবস্থায় সিলেটের মতো একটা বিভাগীয় শহর থেকে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করা ও এর প্রকাশনা নিয়মিত অব্যাহত রাখা আরো বেশি কঠিন। তা সত্ত্বেও দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকা টিকে আছে এবং সগৌরবে প্রতিদিন প্রকাশিত হয়ে আসছে, আর এভাবেই গত সাড়ে তিন দশক ধরে মানুষের সুখের-দুঃখের-বেদনার অংশীদার হিসেবে মানুষের সাথেই মিতালী গড়ে তুলেছে দৈনিক সিলেটের ডাক।
জনগণের সাথে ডাকের আত্মীয়তাবোধ ও যোগাযোগ যেমন গভীর হচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশের জনগণের সাথে বিশ্বসম্প্রদায়ের জনগণের একটা সেতুবন্ধন ও যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ডাক পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কেননা, উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, বিশ্বের ঘটনাগুলো ডাকে প্রকাশিত হওয়ার ফলে এদেশের জনগণ সেসব ঘটে যাওয়া বিষয় সম্পর্কে অবহিত হচ্ছে, তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, রাজনীতি সম্পর্কে অবগত হচ্ছে, তার থেকে দেশের মানুষ অনেক কিছু জানছে, বুঝার চেষ্টা করছে। এভাবেই এক সভ্যতা অপর সভ্যতার সাথে সম্পর্কিত হচ্ছে।
অবশেষে, সামনের অনাগত দিনগুলোতেও দৈনিক সিলেটের ডাক একটা সুস্থ ধারার রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের কাজে এবং মানুষজনকে সচেতন করে তুলতে আরো বেশি অবদান রাখবে এমন প্রত্যাশা ডাকের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিক, কর্মকর্তাবৃন্দ, পাঠকবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, কর্মচারীবৃন্দসহ সকলের প্রতি শুভেচ্ছা সহকারে ডাকের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করছি। এক সময় সিলেটের ডাক জাতির মুখপাত্রের ভূমিকা পালনের মতো উপযোগী হয়ে উঠতে পারবে বলে প্রত্যাশা রইলো ৩৬তম বর্ষপূর্তিতে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT