বিশেষ সংখ্যা

সিলেটের ডাকের তিন যুগ

রুহুল ইসলাম মিঠু প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০১৯ ইং ০২:৪৫:৪৯ | সংবাদটি ১১৮ বার পঠিত

দৈনিক সিলেটের ডাক ৩৬ বছরে পদার্পণ করছে। অর্থাৎ তিন যুগ পূর্তি পুরণ হচ্ছে। বিপুল পাঠকপ্রিয় বৃহত্তর সিলেটের কোটি মানুষের কন্ঠস্বর সিলেটের ডাক। এ পত্রিকায় একটি সংবাদ পরিবেশন হয়ে গেলে পাঠক মনে করেন তা বহুকিছু। জনপ্রিয়তার কমতি নেই এ পত্রিকার। চাহিদা আছে জনসমাজে বিপুল। সঠিক চাহিদার আলোকে সিলেটের ডাক এগিয়ে যাচ্ছে। পাঠক পুঁজির পাশাপাশি সিলেটের ডাক নিজস্ব বলয়ে প্রযুক্তির চিন্তা-ধারণায় সচেতন মহলের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে চলে। জাতির সংকটকালে একমাত্র গণমাধ্যমই জনগণের সুখ-দুঃখের সাথি হয়ে কাজ করে থাকে।
যখন একটি রাষ্ট্রের কোথাও কেউ ভরসা করতে পারেন না, তখন সংবাদপত্রকে ভরসাস্থল হিসেবে সুখ-দুঃখ বলে দিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছিতে হয়। রাষ্ট্রের চতুর্থতম স্তম্ভ হচ্ছে সংবাদপত্র। আর জাতিসংঘ স্বীকৃত বিশ্বের মধ্যে মহান ও চ্যালেঞ্জিং পেশা সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা একটি কঠিন কাজ। যে কেউ সঠিক অনুসন্ধান এবং ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন না। সাংবাদিকতা পেশায় অনেকে যুক্ত হয়ে কেউ কেউ ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান। প্রকৃত সাংবাদিকগণ প্রতিদিন মাঠে যে পরিমাণ পরিশ্রম দেন তা দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয়। নেগেটিভ সাংবাদিকতা জাতিকে কিছুই দিতে পারে না। পজেটিভ সাংবাদিকতা একটি জাতির কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। অর্থাৎ সৎ সাংবাদিকতা জাতির দুর্দিনের পরম বন্ধু হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।
সিলেটের ডাক ৩৬ বছরের মধ্যে বৃহত্তর সিলেটবাসীর সুখ-দুঃখের ঠিকানার স্মৃতি বহন করে চলছে। সিলেটবাসীর ক্লান্তিলগ্নে এ পত্রিকাটি ওঁতোপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত হয়ে আছে। সে জন্য সিলেটের ডাক এর এক ঝাক তরুণ সাংবাদিক অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের সমস্যা নিয়ে লেখালেখি, প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ পাওয়ায় জনগণ উপকৃত হয়েছে। পত্রিকাটির উপ-সম্পাদকীয় বিভাগ, শিল্প ও সাহিত্য বিভাগে অনেকেই মূল্যবান প্রবন্ধ-নিবন্ধ ছাড়াও কবিতা-ছড়া লিখেন। এগুলোতে পাঠক মহলের নজর কাড়ে বেশী। সিলেটের ডাক ভালো সাংবাদিক, লেখক, কবি, ছড়াকার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এ পত্রিকায় যেসব সম্মানিত ব্যক্তি লিখেন তারা প্রত্যেকেই দক্ষতার পরিচয় বহন করে চলছেন।
সিলেটের ডাকে আগামীতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখতে চান সচেতন মহল। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হতে হবে সরকারী এবং বেসরকারী সমস্যাগুলোকে কেন্দ্র করে। সাম্প্রতিক সময়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সংকট চলছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। ভালোকে কেবল ভালো আর কালোকে কালো বলতে হবে। বিশ্বে দু’টি ধারা প্রবাহমান। এর মধ্যে এক পক্ষ কালো আর আরেক পক্ষ সাদা। সে জন্য সিলেটের ডাক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সকল সময় এগিয়ে যেতে এবং সিলেটবাসীর পাহাড়সম সমস্যার কথা বলতে পত্রিকাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। এটিই সচেতন মহলের বিশ্বাস।
সিলেট একটি বিভাগীয় শহর। আগের চেয়ে এ শহরে যেমনি ব্যস্ততা বেড়েছে, তেমনি কাছের এবং দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এ নগরে এসে বসবাস করছে। সে জন্য সামাজিক সমস্যাও বেড়েছে। সমস্যা ও সম্ভাবনার সিলেট বিভাগীয় নগর থেকে একে একে ১৫টি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা বের হয়েছিল। এর মধ্যে নিয়মিত ১১টি পত্রিকা বের হচ্ছে। তার মধ্যে সিলেটের ডাকের জনপ্রিয়তার অবস্থান সবার শীর্ষে। এটি পাঠক মহল মনে করেন। সিলেটের ডাক সিলেটবাসীর প্রাণের একটি আয়না। শুধু পাঠক জনপ্রিয়তা দেখে পুঁজি করে চললে হবে না, পাঠক হচ্ছে জনগণের অংশ। জনগণের মধ্য থেকে পাঠক তৈরী হয়। পাঠক এবং জনগণ কি চায়? সিলেটবাসীর সুখ-দুঃখ কোন অন্ধকারে লুকিয়ে আছে, সে দিকে দৃষ্টি দিয়ে সিলেটের ডাক কর্তৃপক্ষ সঠিক সাংবাদিকতার পথ ধরে হেঁটে যাবে। একই সাথে সিলেটবাসীর জনপ্রত্যাশা পূরণে সিলেটের ডাক কর্তৃপক্ষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি। সিলেটের ডাক দীর্ঘজীবি হোক। পত্রিকার সম্মানিত সম্পাদক, সাংবাদিকবৃন্দ সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রইল আন্তরিক অভিবাদন ও শুভেচ্ছা।
লেখক : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম, সিলেট।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT