বিশেষ সংখ্যা

পাঠকনন্দিত সিলেটের ডাক

নওরোজ জাহান মারুফ প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০১৯ ইং ০২:৪৭:৩৫ | সংবাদটি ১১৪ বার পঠিত


প্রতিবছর আমাকে কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে যেতে হয়। এবারও যেতে হয়েছিল। প্রায় ১০ সপ্তাহ ছিলাম না দেশে। সচরাচর আমি রমজান মাসে দেশেই থাকি। শুধু এবার তার ব্যত্যয় ঘটেছে। পুরো রমজান ও ঈদ কাটাতে হয়েছে আমাকে বিদেশে।
কিছু দিনের জন্য বিদেশ গেলেও পত্রিকার জন্য আমার হাহাকার থাকে পিছুটান থাকে। পত্রিকা মানে ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’। ডাকের জন্য আমার মন কাঁদে। যে কয়দিন দেশে থাকি না-সেগুলি দেশে এসে একনজর চোখ বুলিয়ে নেই। বাড়িতে কড়া নির্দেশ আমি না থাকলেও সিলেটের ডাকগুলি সযতেœ রাখতে হবে। পুরনো হলেও কেউ ঐগুলি নষ্ট করবেনা আমি এসে না পড়া পর্যন্ত। কেন জানি না, ডাকের জন্য আমার পরান কাঁদে। ডাক খুব যে একটা কিছু তা কিন্তু নয়। তারপরও ডাক ডাকই! ডাক পত্রিকার অভাব আমাকে ভাবায়।
এবার প্রবাস যাত্রার শুরুর আগে ডাকের হকারকে বলে যাই প্রতিদিন যেন ডাকটি বারান্দায় ফেলে যায় বরাবরের মত।
সিলেটের ডাকের বয়েস এখন ছয়ত্রিশ। টগবগে যুবকের আসনে আসীন বলা যায়। প্রথম থেকে না হলেও ডাকের বালক বেলা থেকেই আমি ডাকের লেখক হলেও ডাক নিয়ে আলাপ, আলোচনা, সমালোচনা সবসময় অব্যাহত রাখি। আরো ২/৩ বারই ডাক পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমি কিছু লিখেছি। বারবার একি কথা বলতে বা শুনতে ভালো লাগে না-তাই পুরনো কাসুন্দি টানছি না মানে পুরনো কথামালার পুনরাবৃত্তি করছি না। তাছাড়া সদ্যই ফিরেছি প্রবাস শেষ করে এখনো জার্নির ধকল সইতে হচ্ছে। তারপরও ডাকের প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে দু’লাইন লেখার লোভ সামলাতে পারিনি। ডাককে নিয়ে লিখতে হলে যতই বলিনা কেন পুরনো কথা কিছু অবলিলায় চলে আসেই।
সিলেটের ডাকের সাথে সমসাময়িক আরো অনেক কাগজ থাকলেও সেগুলি আজ আর প্রকাশনায় নেই! কত কাগজ আসে যায় কিন্তু আজো ডাক আছে আলহামদুলিল্লাহ। আশাকরি থাকবেও যুগ যুগ ডাক বহাল তবিয়তে ইনশাআল্লাহ।
ইদানিং সিলেটে ডাক ছাড়াও উন্নতমানের পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে তারপরও ডাক হাতে নিলে মন ভরে যায়। তিলে তিলে তৈরি হওয়া ডাকের নিয়ম নীতির কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে।
শুধু বাইরে রমরমা বা ঝকঝকা নিউজ বা ছবি ছাপায় ডাকের অনিহা থাকলেও ভিতরটা ডাকের পাকাপোক্ত। ডাকের আবেদন আহ্বান সর্বমহলে প্রশংসার দাবি রাখে সব সময়ই।
সিলেটের ডাকের প্রতি সপ্তাহের ঘটাকরে কিছু আয়োজন ‘দৈনিক সিলেটের ডাককে তুঙ্গে তুলে দিয়েছে। যার কারণে ডাককে কারো বিট করা খুব সহজ নয় কিন্তু। আমি ডাকের ভক্ত বলে নয়-দেশের ক্রাইসিস মোভমেন্টে অন্তত ডাক পত্রিকা সবাই হাতে নিয়ে একবার হলেও দেখে নেয়। নিশ্চয় ডাকের ভিন্নতা আছে বলে সবাই মুগ্ধ হন ডাক হাতে দিয়ে।
দৈনিক সিলেটের ডাককে সাদা মাটা দেখালেও ডাক পত্রিকা সিলেটের অন্যতম মুখপত্র সকলেই মেনে নিবেন। আমার মনে হয় এক বাক্যে সবাই হ্যাঁ বলবেন। আমার বাড়ীির সামনে পিছনে আঙ্গিনাটা বেশ বড় সড় বাড়িটি বাংলো স্টাইলের। ঠিক আসামের হেরিটেইজ বাংলো প্যাটার্নের। অনেকটা আবার চাইনিজ স্টাইলও। দরজা জানালাগুলি ছোট ছোট কাঠের ফ্রেমে আটকানো আবার পুরোটায়ই কাঁচ লাগানো আদতে সিলেটে প্রাচীন বাংলো বাড়ীর সবকয়টির ধরন এমনটাই ছিল। বিশ্বায়নের যুগে এরকম বাড়ি প্রায় নেই-ই এখন। সে যাইহোক এ প্রসঙ্গেঁর অবতারণা এ কারণেই যে, এই দরজা-জানালার কাঁচ দিয়ে প্রতিদিন সিলেটের ডাক বারান্দার মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। দেখা মাত্রই ঢু-মেরেই কাগজটি হাতে নিয়েই এ পিঠ ওপিঠ আগে দেখে নেই। জানালা-দরজার পর্দাগুলি এক পাশে সাঁটানো থাকে তাই ভিতর থেকে বাইর পরিষ্কার দেখা যায়।
গত ২ বছর আগে কয়েক মাস ডাক বেরুয়নি। সিলেটের ডাকে তখন প্রকাশনায় নিষেধাজ্ঞা জারীকরা হয়েছিল। আমার তো তখন কষ্টের সীমা থাকেনি। প্রতিদিনই গেছে যেন কি নেই কি নেই করে। সব সময়ই বলি বাসায় যত কাগজই আসুন না কেন- দৈনিক সিলেটের ডাক না হলে আমার চলেই না।
অবশ্য পাঠকের ইচ্ছা, চাহিদা, কৈফিয়ত এর মর্যাদা দিয়ে আদালত আবারও সিলেটের ডাক প্রকাশনার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
আসলে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতানৈক্য থাকতেই পারে তাতে পত্রিকা প্রকাশনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা মনে করি সমীচিন বা সমাধান নয়। অপরাধী হলে জেল আছে জরিমানাও আছে। মূলত পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হলে কোটি কোটি মানুষের বা পাঠকেরই ক্ষতি হয় বেশি। পরবর্তীতে ডাক আবার প্রকাশনায় এলে দেখা যায় যে কয়েক মাস ডাক বন্ধ থাকার পরও ডাক পত্রিকার সুনামের কোন ঘাটতি নেই।
পত্রিকা সমাজের দর্পন। ছোট বেলায় বই পুস্তকে অনেকবার পড়েছি। বড় হয়ে জেনেছি পত্রিকা সমাজের কথা বলে আর জানি এবং মানি পত্রিকা মনেরও কথা বলে। হৃদয়ে লুকায়িত বর্ণ, শব্দ, ছন্দ, চিন্তা-চেতনা সবই পত্রিকায় ঠাঁই পায়। তাই শৈশবে বই-পুস্তকে পড়া পত্রিকা সমাজের দর্পন যথাথই নামকরণ। সমাজে আলো ছড়াতে সূর্যরশ্মিরমত দ্যুতি ছড়াতে এই দর্পন দৈনিক সিলেটের ডাক সামনে কাজ করে চলেছে।
সিলেটের প্রাণ দৈনিক সিলেটের ডাক, বৃহত্তর সিলেটের মাটি ও মানুষের প্রাণ সবুজ এই সিলেটের কোটি মানুষের মুখপত্র সিলেটের ডাক আজ টগবগে তরুণ। সিলেটের ডাকের নিয়মিত অনিয়মিত নবীন প্রবীণ লেখক আছেন যাদের আমি শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে দেখি। তাদের অনেকের লেখা আমার ভিষণ ভালো লাগে, মনে দাগ কাটে। ডাকের অনেক তুখোড় লিখিয়ে আছেন যাদের থেকে আমার অনেক কিছু শিকার আছে। আমি ভিষণ আগ্রহ ভরে তাদের লেখা পাঠ করি। অনেক নবীন প্রবীণ লেখক আছেন যাদের কলমের কালীতে সমৃদ্ধ হবে ডাকের আজকের এই মহতি আয়োজন। ডাক পরিবারের একনিষ্ঠ কর্মীবৃন্দের অক্লান্ত চেষ্টায় প্রতিদিন ডাক তৈরি হয় এবং পাঠকের হাতে যায়। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই এবং ‘দৈনিক সিলেটের ডাকে’র প্রচার প্রসার কামনা করি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT