বিশেষ সংখ্যা

এই জনপদে ঐতিহ্যের ধারক সিলেটের ডাক

আব্দুল হাই প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০১৯ ইং ০৩:০৪:০১ | সংবাদটি ৮৫ বার পঠিত

পুণ্যভূমি সিলেট। হজরত শাহজালাল (র.), শাহপরান (র.) এবং তিনশ’ ৬০ আউলিয়ার স্মৃতিধন্য এই জনপদ শিক্ষাদীক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বরাবরই স্বতন্ত্র ভূমিকায় অবস্থান করছে। সেই ঐতিহ্যেরই একটি অংশ হচ্ছে পত্র-পত্রিকা। সুদূর অতীতে এই জনপদে বেশ কিছু পত্রিকা বের হয়েছে, যা এদেশেরই প্রাচীনতম পত্রিকাগুলোর অন্যতম। সেই ধারাবাহিকতায় এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক সিলেটের ডাক। সিলেটের কোটি মানুষের মুখপত্র। সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা-ভালোবাসা নিয়ে আজ ৩৬ বছরে পদার্পণ করেছে এই সংবাদপত্রটি। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা উত্থান পতন শেষে মানুষের মনে দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা দখল করতে সক্ষম হয়েছে সিলেটের ডাক। পাঠক মহল যখন নানা কারণে বিভ্রান্ত-অস্থির, ঠিক তখনই তারা সঠিক তথ্যানুসন্ধানে আশ্রয় খুঁজে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর পাতায়। এই অর্জন দীর্ঘদিনের। এই সবকিছুরই অংশীদার আমাদের সম্মানিত পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভাকাক্সক্ষীরা।
আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, রাজনীতি যে পথ পরিক্রমায় এগিয়ে চলেছে কিংবা সমৃদ্ধ হচ্ছে গত অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে, তার পেছনে রয়েছে আমাদের কবি সাহিত্যিক সাংবাদিকদের অসামান্য অবদান। সেই পথ পরিক্রমায় কোন সংগ্রামমুখর বাঁকে তাঁদের রক্তও ঝরেছে। দৈনিক সিলেটের ডাক এই অনন্য ও রক্তমাখা ইতিহাসের দায়কে শ্রদ্ধা জানায়। সংবাদপত্রের প্রধান উপজীব্য বিষয় ‘সংবাদ’ হলেও আজকাল এই ধারণা পাল্টে গেছে। সংবাদের পাশাপাশি সাহিত্য, বিনোদন, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা খুঁটিনাটি বিষয় স্থান পাচ্ছে আজকাল দৈনিক পত্রিকাগুলোতে। দৈনিক সিলেটের ডাকও এর বাইরে নয়। আমরা পাঠকদের রুচি পছন্দ অপছন্দের কথা চিন্তা করে দেশ বিদেশের নানা বিষয় তুলে ধরছি। সপ্তাহ জুড়ে রয়েছে আমাদের নানা বিষয়ে নানামুখী বৈচিত্র্যপূর্ণ উপস্থাপনা।
যে কোন সংবাদমাধ্যমের ৩৫ বছর পেরিয়ে ৩৬ বছরে পদার্পণ করা সত্যি আনন্দের। সেই আনন্দের অংশীদার পাঠক মহল এবং শুভানুধ্যায়ীরাও। আজ নতুন বছরে যাত্রা শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণে খুব মনে পড়ছে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর দীর্ঘদিনের সম্পাদক, বাংলার মহিয়সী নারী, আমার প্রাণপ্রিয় মা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও দক্ষতায় আজ আমরা সিলেটের ডাককে এই জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছি। মহিয়সী রাবেয়া খাতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের সঙ্গেই মিশতেন অকৃত্রিম মমতায়। সকলের ব্যক্তিগত-পারিবারিক খোঁজ খবর নিতেন। পত্রিকার দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা, মুদ্রণ ও বিপণন নিয়ে ভাবতেন। পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সকলের পরামর্শ শুনতেন। এভাবেই সিলেটের ডাক পরিবারের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন মাতৃসম।
দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি হলেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমার শ্রদ্ধেয় পিতা বরেণ্য দানবীর ডক্টর রাগীব আলী। সর্বক্ষণ তাঁরই দিক নির্দেশনায় আমাদের এগিয়ে চলা। শত ব্যস্ততার মধ্যেই তিনি দৈনিক সিলেটের ডাক-কে নিজের সন্তানের মতো দেখভাল করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিক লেখকদের মেধা ও অবদানে দৈনিক সিলেটের ডাক জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠে এসেছে। এই মুহূর্তে আমাদের এই অগ্রযাত্রায় যারা বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা-সহমর্মিতা অব্যাহত থাকলে আমরা এগিয়ে যাবো আরও বহুদূর।
লেখক : সম্পাদক, দৈনিক, সিলেটের ডাক।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT