বিশেষ সংখ্যা

আমার লেখকস্বত্তার অংশীদার

এম. আশরাফ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০১৯ ইং ০৩:০৫:১৩ | সংবাদটি ১৩৮ বার পঠিত

আমার লেখালেখির অভ্যাস স্কুল জীবন থেকেই। দশম শ্রেণির পাঠ শেষ পর্যায়ে। আমি দেয়ালে ইট দিয়ে তিনটি কবিতার লাইন লিখলাম। আমার এক ক্লাসমেইটকে বললাম-
দেখতো এখানে কী লেখা?
ও সুন্দর করে পড়ল।
আমি বললাম, এটা কার লেখা?
ও বলল, রবীন্দ্রনাথ। আমি হাসতে হাসতে বললাম,
দুর গাধা, এটা তো আমার লেখা। ও বিস্মিত হয়ে বলল সত্যি? আমি হ্যাঁবোধক মাথা নাড়লে ও বলল --সত্যিই তুই জিনিস একখান! আমি ওর গলা চেপে ধরলে ও বলল, দোস্ত এটা ঠিক না, গলা ছাড় - আমি বলছি। আমি তার গলা মুক্ত করলে ও বলল,
দোস্ত, তুই সত্যিই জিনিয়াস। তুই লিখতে থাক; ভালো লেখক হতে পারবে।
লিখতাম ঠিকই, কিন্তু কাউকে দেখাতে লজ্জা করত।
লুকিয়ে লুকিয়ে লিখে তিনটা ডায়েরি কমপ্লিট করলাম।
মাঝে মাঝে জালালাবাদী, সিলেটের ডাকে চিঠিপত্র / কবিতা দিতাম। দু’একটা ছাপা হতো। সে কী আনন্দ। বলে বুঝাতে পারবো না। স্কুলে শিক্ষকতা করাকালীন মজার মজার ছড়া লিখে কমন রুম মাতিয়ে রাখতাম।
আমার এক কলিগ প্রায়ই বলতেন -আরে ভাই দেড় টাকার মাস্টারি করে কী ভালো থাকা যায়? এ নিয়ে আমি একটি ছড়া লিখে ফেলি ‘দেড় টাকার মাস্টারি/ যাইতে পারিনা ছাড়ি/ দাঁড়ি পাকে চুল পাকে/ জীবনটা দেই পাড়ি।
কমন রুমে সে কী হাসাহাসি। আজ আমার সেই কলিগ বেঁচে নেই। মাস্টারি করতে করতে জীবনটা পাড়ি দিয়েছেন। (তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি)
জীবনের অনেকটা বছর নানা ঘাত প্রতিঘাতে কাটিয়ে অবশেষে বন্ধুদের অনুরোধে লেখা সিলেটের ডাকে পাঠাতে শুরু করলাম। কিন্তু ছাপা হয় না। রোজ রোজ পত্রিকা কিনি আর চেক করি। বার বার হতাশ হতে হয়।
একদিন বেশ রাগ করে একটা কবিতা লিখলাম-
সিলেটের ডাক তুমি দ্বার কর ফাঁক /আমার কবিতাখানি জনতায় যাক/
খামগুলো হলো শেষ/চেয়ে থাকি অনিমেষ
কাল কি তুলিবে পাল এই কবিতা? /আগ্রহ নিয়ে কাঁদে দগ্ধ চিতা--
হ্যা। দ্বার খুলল বেশ ভালই। একদিন কবিতা প্রকাশিত হেেলা। এরপর কলাম, গল্প, শিশুতোষ গল্প, ছড়া, পাঁচমিশালি ইত্যাদি প্রতিটি বিভাগেই লেখা ছাপা হলো। আজ আমি এক ক্ষুদ্র লেখক হিসেবে যতটুকু অর্জন তার সবটুকুই সিলেটের ডাককে দেই আর স্মরণ করি প্রোথিতযশা সাংবাদিক, গবেষক জনাব আবদুল হামিদ মানিক ভাই, যার উৎসাহ ও উদ্দীপনায় আমার লেখিয়ে জীবনের পথ চলা।
আমার মতো এই সিলেট অঞ্চলে শত শত সাংবাদিক, সাহিত্যিক তৈরি হয়েছেন এই সিলেটের ডাক পত্রিকার হাত ধরে। বঞ্চিত সিলেটবাসির ন্যায্য দাবী দাওয়ার কথা তুলে ধরে সর্বাগ্রে দৈনিক সিলেটের ডাক। তাই তো সিলেটবাসী আপন করে নিয়েছেন এই পত্রিকাকে। কাকডাকা ভোরে নাস্তার টেবিলে আজ সিলেটের ডাক নিত্য সঙ্গী। হাজার হাজার গ্রাহকদের প্রিয় দৈনিকে পরিণত হয়েছে এই পত্রিকাটি। এটি আজ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে তার কর্ম দ্বারা, স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দ্বারা।
তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পত্রিকাটি। আজ অনেকের মুখে শুনি--সিলেটের ডাক পড়ে ফেললে আর জাতীয় পত্রিকা পড়া লাগেনা। কারণ একটাই। বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশনা। হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করতে পারা একটা বিশাল ব্যাপার। নিরপেক্ষতা ও তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনা সিলেটের ডাক পত্রিকার বৈশিষ্ট্য। মহিলা সমাজের উন্নয়ন কল্পে নারীদের একটি পাতা বরাদ্ধ করা আছে। এছাড়া দেশ বরণ্যে বিখ্যাত কলামিস্ট, লেখকদের লেখা ও অত্র পত্রিকায় ছাপা হয়। এ ছাড়া শিশুদের জন্য শিশু মেলা, সাহিত্যিকদের জন্য সাহিত্য পাতা, ইতিহাস ঐতিহ্য জানার জন্য ইতিহাস ঐতিহ্য পাতা রয়েছে।
সব দিক বিবেচনায় সিলেটের ডাক আমার কাছে এক অনন্য পত্রিকা। আমি এর নিয়মিত পাঠক। এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদও শুভেচ্ছা। এর প্রতিষ্ঠাতা ও কলাকুশলীদের সবাইকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাক সিলেটের ডাক।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT