ধর্ম ও জীবন

ত্যাগ বড় ইবাদত

মোহাম্মদ আব্দুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৭-২০১৯ ইং ০০:৫৮:৪৮ | সংবাদটি ১৯৮ বার পঠিত

সকল মুসলমান বেহেস্তে যেতে চাই। কিন্তু বেহেস্তের পথ কি সহজে পাওয়া যায়? বেহেস্তের পথ সরাসরি পাওয়া যায় না। ত্যাগ চাই। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। মানুষের কল্যাণে ত্যাগ। ত্যাগ অনেক বড় এক ইবাদত। অহংকার ও লোভ-লালসা ত্যাগ। আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী। পশু কুরবানী দিবার বিধানও ইসলাম ধর্মে আছে। এ কাজ আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানদের জন্যে। এ কাজে পুণ্য হয়। তবে কুরবানীর পশু হতে হবে ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী হালাল। এদিকে আমরা প্রায় সকল মুসলমান সচেতন; পশু হতে হবে হালাল তা-না হলে আল্লাহ তা কবুল করবেন না এবং জান্নাত পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমাদের স্বচ্ছলতা বা সামর্থ্য কি হালাল? অর্থাৎ যে টাকা দিয়ে কুরবানীর পশু কিনে আনা হলো তা কি সুদ, ঘুষ, জবরদখল ও প্রতারণা মুক্ত?
এসব নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। সবার আাগে ভাবতে হবে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদত করে যে শারীরকে বেহেস্তে নিতে চাই সেই শরীর কি হালাল উপার্জন দ্বারা গঠিত? হ্যাঁ, বেহেস্ত পেতে চাইলে ভাবতে হবে। হাদিস আছে, ‘হারাম উপার্জন দ্বারা গঠিত শরীর কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ এ কোনো সাধারণ কথা নয়। এটি আমাদের প্রিয়নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কথা। ঠিক এখানে চিন্তা করে দেখেন পশু কুরবানী, কুরআন তেলাওয়াত, নামাজ, যাকাত, হজ্ব ইত্যাদি যাবতীয় ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে হালাল আয় ও হালাল শরীর গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে অনেকে আছেন সারাজীবন বেতনের টাকা জমিয়ে বা জায়গা বিক্রি করে পশু কুরবানী করেন, মক্কা যায় হজ্ব পেতে; আর পেছনে সারাজীবন নানানভাবে চুরি করে ও ঘুষের টাকায় খায় ও অন্যায়ভাবে উপার্জন করে, অন্যকে ঠকিয়ে, কাঁদিয়ে, হাহাকারে ফেলে নিজের ও পরিবারের শরীরের পুষ্টি যুগিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। অথচ ইসলামে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ দূষণীয়। হালাল ও হারাম মিশে সবকিছুই হারাম হয়, বুঝতে হবে। এসবই হলো ঈমান এনে ধর্মের পথে নেমে অধর্মের কাজ। ধর্মের পথে এতো ফাঁকি আছে নাকি? মানুষ ঠকানো ও ¯্রষ্টাকে ঠকানো ধর্মের মূল কথার বিরোদ্ধাচরণ।
ইসলাম ধর্ম হলো মানবতার ধর্ম। এখানে ছলনা করার সুযোগ নেই। আল্লাহর জন্য বান্দাকে ছলে বলে কুটকৌশলে চাপে রেখে এবং দুনিয়াতে অশান্তি সৃষ্টি করে ইবাদত করলে সরাসরি বেহেস্তের পথ পাওয়া যায় না। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এসেছে, ‘তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না।’ এটি আল্লাহর কথা। এটি বুঝতে হলে পড়তে হবে। ইসলাম ধর্মে পড়ার গুরুত্ব এবং জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অধিক। এজন্যেই বলা হয়েছে, ‘ইকরা বিছমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক্ব’। আবার এক হাদিস অনুসারে পাই, আল্লাহ প্রথম যে জিনিসটি সৃষ্টি করেছেন তা হলো জ্ঞান। এসব কিছুই এসেছে জেনে মানার জন্যেই। আর ধর্মের এসব নির্দেশনা ঠিকভাবে মেনেই আমরা পরকালে বেহেস্ত পেতে পারি। অন্যথায় শুধু ঈমান এনেছি এবং আমার মনের মতো চলেছি হলে, সরাসরি বেহেস্তের রাস্তা পাওয়া যাবে না। এখানে শাস্তি অনিবার্য। তা হবে কঠিন আজাব। অতএব, যেখানে মানুষের কাছে ঋণী ও দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ আছে, সেখানে তার কাছ থেকে মুক্ত হতে হবে, আর যেখানে সৃষ্টিকর্তার কাছে দায় আছে সেখানে ইবাদতে মশগুল হয়ে কান্নাকাটি করতে হবে। অবশ্যই মনে থাকে যেনো, আপনি বা আমি যখন আল্লাহর কাছে কান্না করবো তখন যেনো আল্লাহর অন্য কোনো বান্দা আপনার বা আমার দ্বারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন থেকে না কাঁদে অথবা কেউ যেনো এগিয়ে যাবার পথে আমাদের বাধায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে না পড়ে। এমনকি আমরা যখন ইবাদতের পথে আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার আশায় থাকবো তখন যেনো এ ওর বিরুদ্ধে তাল-লাগানোসহ নানান হিংসাত্মক কৌশলে কেউ আমাদের দ্বারা ক্ষতির স্বীকার হয়ে দীর্ঘশ্বাস না ফেলে। এভাবে চলা ধর্মের মূলপথের নয়।
আমরা নিজেরা ধর্মপথে থাকার পাশাপাশি ছোটদেরকেও ন্যায়-নীতি শেখাতে হবে। এখানে অনেক সময় বড়রা নিজেদের স্বার্থে ছোটোদেরকে সত্যটা জানতে দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে বড়রা নিজেদের দোষ আড়াল করার জন্যে সামান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ছোটোদেরকে অন্যের সম্পর্কে ভুল ধারণা দিয়ে নিজের পক্ষে ব্যবহার করে। এভাবে এক সময় ছোটোরা বিভ্রান্তির জালে আটকা পড়ে এবং ধর্ম-কর্মের মূল¯্রােতের বিপরীতে ছুটে। এও প্রতারণা। আমরা এদেশে মসজিদে ও ঘরে এতো ইবাদত করি, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করি, তবু ধনী-গরিব কারো সংসারে প্রকৃত সুখ আসে না। এক শ্রেণির মানুষ অসদাচরণ দ্বারা সরল মানুষকে চাপে ফেলে নিজে বড়লোক হয়; কিন্তু বড় মানুষ হয় না। এই ধনী লোকেরা সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আরো সম্পদ গড়ে, গড়ে তোলে উঁচু দালান। ওরা নেশাগ্রস্তের ন্যায় ছুটে নিজের সমাজ নামক ভিত্তিকে ঠকিয়ে দুর্বল করতে করতে। এক সময় ওদের অবহেলায় সমাজ দেহে পচন ধরে এবং শত শত ছিদ্র সৃষ্টি হয়। ওই সব ছিদ্র পথেই এক সময় নানান ঝামেলা বিদ্রোহ করে বের হয়ে এসে সমাজের সকল স্তরে আঘাত করে। তখন ওই ক্ষত সৃষ্টিকারী অসাধু লোকেরাও আর তাদের পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারে না। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়, নৌকায় শত ছিদ্র রেখে মাস্তল যতো উপরেই উঠাও না কেন, যখন ডুববে তখন সকলকে নিয়েই ডুববে। শেষ করছি শুরুর কথা বলেই, ইহকাল ও পরকাল উভয়কালেই সুফল পেতে হলে ধর্মের মূলপথে চলতে হবে এবং মানুষের কল্যাণের জন্যেই ত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান দান করুন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT