স্বাস্থ্য কুশল

সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ

এস এম মোস্তফা জামান প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৭-২০১৯ ইং ০০:৫৫:৩৯ | সংবাদটি ১৬৪ বার পঠিত

স্থূলতা বা ওবেসিটি হচ্ছে বয়স, উচ্চতা, লিঙ্গ অনুসারে শরীরে চর্বি জমার আধিক্য। অর্থাৎ শরীরে খুব বেশি ফ্যাট বা চর্বি জমাকেই ওবেসিটি বলে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও স্থূলতা বা ওবেসিটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ, ফাস্ট ফুড কালচার, কম কায়িক শ্রম, বেশি মাত্রায় চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ, ফলমূল বা শাকসবজিবিমুখতা ইত্যাদি।
জটিলতা বাড়ে যখন : অতিরিক্ত ওজন মানে হলো হৃপি-ের অতিরিক্ত কাজের চাপ। কেননা তখন রক্ত সঞ্চালনের চাপ বেশি বেড়ে যায়। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ৬৫ বছরের আগেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তিন থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পায়।
অতিরিক্ত ওজন আরো যেসব জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে তা হলোÑ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি দুই থেকে ছয় গুণ বৃদ্ধি পায়। শরীরে রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ঝুঁকি বাড়ায়। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগীই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগে থাকেন।
করণীয় : ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন থেকে রক্ষা পেতে সতর্ক হয়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমনÑ
এনার্জি ব্যালান্স : দেহের অতিরিক্ত ওজনের কারণ হচ্ছে ক্যালরি ব্যয়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ খাদ্য ক্যালরি গ্রহণ করা। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন ক্যালরি ব্যয় ও ক্যালরি গ্রহণের ভারসাম্য বজায় রাখাÑ অর্থাৎ এনার্জি ব্যালান্স। এ জন্য ব্যালান্সড ডায়েট এবং নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, চর্বিযুক্ত খাদ্য এড়িয়ে চলুন এবং বেশি করে টাটকা শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন।
সুস্থ খাদ্যাভ্যাস : প্রত্যেক মানুষের বয়স, উচ্চতা ও লিঙ্গ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট দেখে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই খাওয়া উচিত। তাই প্রতিটি খাদ্যের খাদ্যশক্তি বা খাদ্যমূল্যও জানা উচিত। কেউ যদি প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় ১০০ ক্যালরি বেশি গ্রহণ করেন, তবে বছরে সাড়ে চার কেজি ওজন বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। আর সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে করণীয় হলোÑ
বেশি করে টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া। চর্বিবিহীন বা কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ। অতিরিক্ত চিনি ও লবণে সতর্ক থাকা। রান্নায় সঠিক পদ্ধতি- অর্থাৎ বয়েলিং, গ্রিলিং ও বেকিং পদ্ধতি বেছে নেওয়া। প্রতিদিন পরিমাণমতো পানি গ্রহণ।
নিয়মিত ব্যায়াম : অতিরিক্ত ওজন কমাতে ও শরীর ঠিক রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এ জন্য করণীয় হলোÑ
প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর ১৫ মিনিট হাঁটুন, যা আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে। শিশুদের প্রতিদিন এক ঘণ্টা শারীরিক কার্যক্রম করা প্রয়োজন। পরিবারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করুন, যাতে ব্যায়াম আপনার দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে বাদ না যায়। পরিবারের সবাই মিলে টেলিভিশন দেখা কমিয়ে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করুন অথবা এমন কাজ করুন, যাতে কায়িক পরিশ্রম হয়। যেমন- নিজের বাগানে কাজ করা অথবা বাসস্ট্যান্ডে হেঁটে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করা। অফিসে বা বাড়িতে লিফটের পরিবর্তে হেঁটে ওঠার অভ্যাস করা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT