সম্পাদকীয় ধ্বংস এমন প্রতিটি লোকের জন্য, যে ধিক্কার দেয় ও নিন্দা করে বেড়ায়। -আল হাদিস

ছেলে ধরা আতংক

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৭-২০১৯ ইং ০১:০৩:৩৬ | সংবাদটি ১০২ বার পঠিত

‘ছেলে ধরা’ আতংক। সিলেটের সর্বত্র এখন ছেলে ধরা আতংক। সম্প্রতি এই পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সিলেট বিভাগের সর্বত্র বিরাজ করছে ‘ছেলে ধরা’ আতংক। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে এই আতংকের মাত্রা বেশি। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে কমলগঞ্জে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে ছেলে ধরা বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী চালাচ্ছে সচেতনতামূলক প্রচারণা। এই প্রচারণায় সম্পৃক্ত হয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ছুটির পর ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের অভিভাবকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ত্যাগের বিষয়টি শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই আতংকটি ছড়িয়ে পড়েছে শুধু সিলেট বিভাগ নয়, সারা দেশ জুড়ে। ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কাউকে ‘ছেলে ধরা’ সাজিয়ে গণপিটুনিতে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গত প্রায় দুই সপ্তাহে সারা দেশে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। হতাহতদের সবাই নিরীহ ও দরিদ্র শ্রেণীর বলে জানা যায়। ‘পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে’ মূলত এই ধরণের একটি অপপ্রচার থেকে শুরু হয়েছে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনির হিড়িক। বুদ্ধিজীবী মহলের ধারণা, একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে ও সেটিকে ব্যবহার করে এবং মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পূঁজি করে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। এই গুজব দেশের বৃহত্তর প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে বাধা সৃষ্টি করার জন্যই ছড়ানো হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।
‘হুজুগে বাঙ্গালী’র এই দেশে যেকোন একটা বিষয় সেটা ভালো হোক বা মন্দ হোক, তা নিয়েই মেতে ওঠে মানুষ। এটা অতীতেও ছিলো। তবে দিনে দিনে মানুষ শিক্ষাদীক্ষায়, যোগাযোগ, প্রযুক্তি সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে বলেই আমরা মনে করি। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে এর উল্টোটাই।
এই সমাজে এখনও ঘটছে মধ্যযুগীয় বর্বরতা। সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে-এই গুজবটিও ছড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাকে কেন্দ্র করে ঘটছে গণপিটুনির মতো জঘন্য ঘটনা। যদি কাউকে অপরাধী হিসেবে সন্দেহ জাগে তবে তাকে আটক করে পুলিশে না দিয়ে মানুষ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। এই বর্বরতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারসহ সর্বমহলের সর্বাত্মক সচেতনতা জরুরী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT