ধর্ম ও জীবন

মধুর ডাক

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৭-২০১৯ ইং ০১:১২:১৮ | সংবাদটি ৮১ বার পঠিত

এই পৃথিবী স্রষ্টার এক সাজানো বাগান। প্রত্যেকটি সৃষ্টি বাগানের এক একটি ফুল। মানুষ এ্ই বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুল। কোন বাগানে যদি একটি মাত্র ফুল থাকে আর ফুলটি যতই নামকরা ফুল হোকনা কেন। তার মূল্যায়ন করা দুরূহ। আর অনেক ফুলের মধ্যে একটি সুন্দর ফুল যেমন খুব বেশী মূল্যায়িত হয়। তেমনি বাগানের অন্য ফুলের দামও বাড়িয়ে দেয়। তেমনি বাগানের সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি করে। কিন্তু ঐ দামী ফুলটি যদি নষ্ট হয়ে যায়। তার পাপড়িগুলো ঝরে যায়। তার সুবাস বিলীন হয়ে যায়। তার মধু শুকিয়ে যায়। তখন মালির কাছে যেমন তার কোন কদর থাকেনা। তেমনি কোন ভ্রমরও তার কাছে উড়ে আসে না। বাগনের মালি তখন তাকে আগাছা হিসাবে ফেলে দেয়। বাগান পরিস্কার করার জন্য কাজের লোক নিয়োগ করে। মালি আগাছা পরিস্কার করে বাগান ঠিক রাখে। বাগানকে কখনো আগাছার হাতে ছেড়ে দেয় না।
মহান প্রভুর এই বিশাল বাগানে হাজারো লক্ষ ফুল বিদ্যমান। তিনি এক সুনিপুণ কারিকুলামে একে সাজিয়েছেন। তার দয়া আর মায়ার ছোঁয়া সবখানে ছড়িয়ে আছে। মানুষ নামের শ্রেষ্ঠ ফুলগুলো যেন সবসময় তরতাজা থাকে এর জন্য তার কি সুন্দর ব্যবস্থাপনা। কোন অবস্থাতে যেন ফুলের পাপড়ি ঝরে না পড়ে, শুকিয়ে না যায়, তার মোহনীয় সুবাস যেন সব সময় অটুট থাকে। গাছটিও যেন তরতাজা থাকে। কোন পাতা মরে যেতে দেরী কিন্তু ঝরে পরে পরিস্কার হয়ে যেতে যেন দেরী না হয়। বরং এ থেকে যেন আরোও পত্র পল্লবে ভরা গাছ জন্মায়। এর জন্য কী এক অমুঘ ব্যবস্থাপনা তৈরী করেছেন, তা ভাবতে অবাক লাগে।
শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এই মানুষের মধ্যে বেশীর ভাগ লোকই আল্লাহর এই বিশাল বাগানকে ধ্বংস করে দিতে চায়। শয়তানও তাকে এ কাজে ইন্দন দেয়। তাকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলিয়ে দেয়। সে আত্মহারা হয়ে যায়। সে নিজেকে ভুলে যায়। ভুলে যায় নিজের পরিচয়। পৃথিবী নামক এই বাগানের জন্য তার কোন মায়া দয়া নেই। সে শুধু নিজের আরাম আয়েশ, খামখেয়ালীপনা আর পাগলামীতে ব্যস্ত। সে বুঝতে চায় না এই বাগানের মালির কোন চাওয়া আছে কি নেই। সে অন্ধের মত শুধু নিজের কামনা বাসনা চরিতার্থ করার জন্য সর্বদা ব্যস্ত। সে এই বাগানের ধ্বংসের উপর দাঁড়িয়ে নিজের আরাম খুঁজতে চায়।
এই পৃথিবীর ইতিহাস যত পুরনো মানুষের ইতিহাস তত পুরনো নয়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তার বাগানের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফুল করে পাঠিয়েছেন। আর বলে দিয়েছেন, তোমার দ্বারা আমার বাগানের সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণ করলাম। যুগে যুগে এই বাগানের ফুলগুলোতে অনেক পচন ধরেছে। এই পচন এরূপ হয়েছে যেন, হাতে বা পায়ের বিষফোড়া। যে তাকে কেটে না ফেললে পুরো শরীরে পচন ধরতে পারে, ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে। মানুষটি মরে যেতে পারে। এহেন অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা বারবার নবী রাসুল পাঠিয়েছেন। মানুষের চিকিৎসা করানোর জন্য। এই ব্যধি দূর করার জন্য। তাকে সুস্থ করার জন্য। কখনোবা অপারেশনের মাধ্যমে ঐ বাগানের কিছু গাছ কেটে ফেলে অন্যের সুস্থতা লাভের জন্য। এই ধারাবাহিকতায় রাসুলুল্লাহ সাঃ কে একেবারে শেষ বারে, শেষ যমানায় দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। মানবতার সবচেয়ে যুগসন্ধিক্ষণে। রক্তের হুলি খেলায় যখন পুরো জাতি মেতে উঠেছিল। পৃথিবী যখন, জুলুম অন্ধকারে ভরে গিয়েছিল। সকল ফুলের পাপড়িগুলো যখন ধুলায় ধুসরিত হয়ে যাচ্ছিল। সব দিক থেকে যখন পচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। এই বাগানে যখন বিশ্বাসী একজন রাহবারও অবশিষ্ট ছিলনা। তখনই হেরার আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে তিনি এলেন। হাজার হাজার বছরের সাধনা যেখানে ব্যর্থ। যেখানে চারিদিকে শুধু মানবতার আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। যেখানে কুকুরের দাম ছিল, মানুষের দাম ছিলনা। সামান্য কারণে অস্ত্রের ঝনঝনানী শুরু হয়ে যেত, রক্তের বন্যা প্রবাহিত হত। যেখানে নারীদেরকে মানুষই মনে করা হত না। সেখানে মাত্র তেইশ বছরের হেরার আলোর ঝলকানিতে কায়সার ও কিছরার প্রাসাদ আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আযানের ধ্বনিতে তাদের বিশাল প্রাসাদ ধুলায় মিশে গেল। সেখানে ধ্বনিত হতে থাকল আল্লাহ মহান আল্লাহ মহান। এই ধ্বনিতে চারিদিক কেঁপে উঠল। এই আযান যা দিয়ে কোন মানুষকে পাঁচ বার বাগানে পানি সিঞ্চন করতে ডাকে। পাঁচ বার বাগানের সবগুলো গাছের অবস্থা দেখতে আহবান করে। পাঁচ বার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য নিবেদন করে। পাঁচ বার নিজেকে সমর্পন করার জন্য তাগাদা দেয়। বারবার ডেকে বলে আর অলস থেকোনা। জেগে উঠ, তোমাকেতো পৃথিবী নামক খোদার বাগানের শ্রেষ্ঠ ফুল হয়ে ফুটতে হবে।
শেষ রাতে সারা পৃথিবী একেবারে ঘুমন্ত থাকে। চারিদিক নিরব নিস্তব্ধতা বিরাজ করে, কোথাও একটি ঝিঝি পোকার শব্দও শোনা যায় না। আরামের ঘুমও চেপে বসে। কি যে এক শান্তি বিরাজ করে। শয্যা ত্যাগ করতে তখন কার মন চায়। সে সময় ফুলের কলিগুলো ফোটার জন্য প্রস্ততি নিতে থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুল মানুষগুলোকে সে সময়ে আল্লাহ তায়ালা ডাকতে থাকেন। তোমরা উঠ। একটু পরেইতো তোমাদের ফুটতে হবে। পুরো পৃথিবীকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সূর্য আলো ছড়াবে ঠিকই কিন্তু পৃথিবীকে কোলাহল পূর্ণ করতে, কর্মোম্মাদনায় ভরপুর করে দিতে সত্যিকার অর্থে পৃথিবীকে জাগিয়ে তুলতে একমাত্র তোমাকেই প্রয়োজন। তাইতো আল্লাহু আকবার ধ্বনির মাধ্যমে মুয়াজ্জিন ডাকতে থাকে। আর ঘুমিও না ঘুমের চেয়ে নামাজ ভাল। তোমাকেতো নামাজের মাধ্যমে পৃথিবীকে আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।্ আর অলসভাবে ঘুমিওনা এবার উঠ। তুমিতো অনেক সময় ঘুমিয়েছ। একটু পরেইতো সূর্য উঠবে। তুমি যদি সূর্য উঠার আগে না জাগ তাহলে তুমিতো ভালভাবে ফুটতে পারবেনা। সুবাস ছড়াতে পারবেনা। অন্যরা তোমাকে দেখে আনন্দ পাবে না। সূর্যওতো তোমাকে দেখে ভেংচি কাটবে। এই বিশাল বাগানের মালিতো তোমাকে খুবই পছন্দ করেন। তোমার সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্যইতো এত কিছু দিয়ে পৃথিবীকে সাজিয়েছেন। তুমিতো তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
এভাবে তরতাজা গাছগুলো ফুল ফুটানোর জন্য রাত থাকতেই জেগে উঠে। সকাল হয়। মানুষজন চারিদিক বিভিন্ন প্রয়োজনে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী নামক গ্রহটি জেগে উঠে। মানুষ তার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কত যে কাজ সামনে, কত স্বপ্ন, কত আশা, কত সাধ, সবকিছু নিয়েই মানুষ ছুটতে থাকে। এমন সময় দীর্ঘ বিরতীর পর আবার মিনার থেকে ভেসে আসে আল্লাহু আকবার ধ্বনি। মানুষ কান পেতে শুনতে থাকে প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব, তার নিজের ঘোষণা, তার বিশ্বাসের স্বীকৃতি। তাকে আহবান করে নামাজের দিকে এসো, কল্যাণের দিকে এসো। দীর্ঘ সময়ের ব্যস্ততায় তোমার ফুলের পাপড়িগুলোতে ধুলোবালি পড়েছে, একটু অসুন্দর হয়ে গেছে। একটু বিরতী দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে নাও। তোমাকেতো সেই ফজর থেকে ৭-৯ ঘন্টা সময় দিয়েছি, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার জন্য। তোমার ব্যস্ততার ফাঁকে আমাকে একটু সময় দাও। আমাকে সামান্য সময়ের জন্য স্মরণ কর। তুমি এখন একটু ক্লান্ত। তুমি একটু আত্মীক ও দৈহিক বিশ্রাম নিয়ে নাও। একটু আত্মীক ও দৈহিক সঞ্জীবনী সুধা পান করে নাও। আবার তুমি পূর্ণোদ্দমে জেগে উঠ। তোমার সব মলিনতা দূর করে দাও। তোমার সব জড়তা ঝেরে ফেলে দাও। তোমাকে যে এ পৃথিবীর খুব প্রয়োজন।
তারপরও মানুষের মধ্যে অবসন্যতা, ক্লান্তি চলে আসে। কেউ আরাম করতে থাকে। কেউ আবার আমোদ প্রমোদে লিপ্ত হয়। বিভিন্ন খেল তামাশায় মেতে উঠে। কেউ আবারো কাজে লেগে যায়। এই সময়টা সবচেয়ে বেশী কালিমা মলিন হওয়ার সময় তাইতো অল্প ব্যবধানে চার চারবার মিনার থেকে আযানের ধ্বনি কানে আসতে থাকে। যোহর থেকে এশা পর্যন্ত একটু পর পর। এই সময়টাইতো বেশী পাপ পংকিলতায় আটকানোর সময়। এসময় মানুষ সকাল থেকে দুপুরের সময়ের চেয়ে একটু বেশীই অবসর থাকে। বিশেষত আছর, মাগরিব, এশা এই তিন নামাজে খুব কাছাকাছি। কারণতো একটাই। বাগানের মালি এই সময় বার বার ডাকতে থাকে। এই সময়ে গাছের গোড়ায় বেশী করে পানি দাও সূর্যের তাপে সব শুকিয়ে যাচ্ছে। আর গাছের গোড়ায় মাটি তেমন উর্বব নয়। তুমি যদি পরিচর্যায় অলসতা কর, তোমার ফুলগুলো সৌরভ ছড়াবে না। ভালভাবে ফুটবেনা। আস্তে আস্তে শুকিয়ে ঝরে যাবে।
দেখুননা মালিকের কী সুন্দর ব্যবস্থা। ফজর থেকে জোহর দীর্ঘ সময়। মানুষ জীবন ধারণের জন্য এ সময় কাজ করবে। এ সময় বারবার তাকে ডাকলে তার কাজে অসুবিধা হবে। দুনিয়ার কাজে তার মনোযোগ নষ্ট হবে। সে ভালভাবে কাজে আঞ্জাম দিতে পারবেনা। অন্যদিকে রাতে এশা থেকে ফজর দীর্ঘ সময়। এ সময় আরামের সময়। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করার সময়। তিনি রাতকে আঁধারের চাদর দিয়ে ঢেকে দেন, নিরব নিস্তব্ধ করে দেন। সব কোলাহল থামিয়ে দেন। এই সুন্দর রাতটি পরের দিন সুন্দরভাবে কাজে লাগানোর প্রস্তুতির সময়। এখানেও যদি বারবার ডাকা হত তবে কি অবস্থাইনা হত। ভেবে দেখুন ফুলের প্রতি মালির কত মায়া। ভাবতে অবাক লাগে। কি সুন্দর এক নিয়ম। কতইনা তার ভালবাসা, ভাললাগা।
যে সময়ে ফুলগুলো নষ্ট হওয়ার বেশী সম্ভাবনা থাকে। যে সময়ে ফুলের পাপড়িগুলো ধুলো মলিন হয়ে যেতে পারে। যে সময় সুবাস হারিয়ে ফেলতে পারে। সে সময় বারবার মনিবের নিকট ডাকা হয়। যেন কোল আলসেমী না আসে। কোন গাফলতি না আসে। মন থেকে যেন তার ভালবাসা ও ভয় হারিয়ে না যায়। বারবার মিনারের চুড়া থেকে ঘোষণা আসতে থাকে। তাকে ভুলে যেওনা। তুমি কাজে থাকলে একটু কাজ বন্ধ রেখে মসজিদে হাজিরা দাও। আমোদ প্রমোদে থাকলে তা এখনি বন্ধ কর। অলস ঘুমে থাকলে এক্ষণি শরীর ঝারা দিয়ে উঠে পড়ো। ঘুম কাতরে থাকলে দ্রুত অযু করে নাও। দেখবে অযুর সাথে সাথে তোমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করবে, নামাজতো তোমার মহান বন্ধুর সাথে তোমার মিরাজ। তুমি মন খুলে তার সাথে ভাব বিনিময় করবে। তিনি তোমার সব কথা, মনের আবেগ অনুভুৃতি সব শুনবেন। তুমি ছাড়া সব সৃষ্টি তার তাসবিহ পাঠে সব সময় ব্যস্ত থাকে। তুমিতো সারাক্ষণ তোমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাক। তোমার কাজের ফাকে ফাকে তার দরবারে হাজিরা দাও। এতেই তিনি খুব খুশি। তুমি যাতে তাকে ভুলে না যাও। ভুলে না যেতে পার তার জন্য তিনিই তোমাকে স্মরণ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তোমাকে স্মরণ করে দেওয়ার জন্য দিনে তোমাকে পাঁচ পাঁচটি বার কত সুন্দর করে ডাকা হয়। তোমাকে স্মরণ করে দেওয়া হয় তিনিতো মহান মালিক। তুমিতো তাকে এক বলে স্বীকার করে নিয়েছ। আর শুধু তাই নয় তার প্রিয় রাসুল সাঃ কেওতো তুমি রাসুল হিসাবে মেনে নিয়েছ। তবে কেন অলস বসে আছ এবার উঠ নামাজের দিকে তোমার পরম প্রভুর সাক্ষাতে চল। কল্যাণ আর সফলতার দিকে চল।
তুমি থেমে যেওনা। তুমি থেমে গেলে তোমার সব হারিয়ে যাবে। মালির নিকট তোমার সামান্য কদরও অবশিষ্ট থাকবেনা। তুমি হয়ে পড়বে ফুলের বদলে আগাছা। তোমার মধ্যে পচন ধরবে। কীট জন্মাবে। তোমার দুর্গন্ধে অন্যরা নাক চেপে হাঁটবে। সবাই তোমাকে ঘৃণা করবে। কেউ তোমাকে দেখতে চাইবে না। সবাই তোমাকে এড়িয়ে যাবে। তোমার বিদায়ে কেউ কাঁদবেনা। পরপারে তোমাকে কেউ সাদর সম্ভাষণ জানাবেনা। তোমার দুর্গন্ধ সব দিকে ছড়িয়ে পড়বে। তুমি ঘৃণার পাত্র হবে। সবাই তোমাকে ভুলে যাবে। তোমাকে মায়া করেইতো বারবার ডাকা হয়। তুমিকি কখনো ভেবে দেখেছ পুরো পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে থাকে, যেসময় দূরের মসজিদের উঁচু মিনার থেকে আযানের মধুর সুর যখন ভেসে আসে তখন কত মধুর লাগে। কত তৃপ্তি দেয়। কত আনন্দের শিহরণ জাগে। দেখতো এই বাগানের মালিক, মালির কত মায়া। আরো একটু এগিয়ে ভাবতো এই মালিক আরো আগ থেকেই তোমাকে ডাকতে থাকে। বান্দা আর ঘুমিওনা। আমি পৃথিবীর আকাশে এসেছি। তুমি উঠে পড়ো। তোমাদের মধ্যে কে আছে এমন যে কষ্ট যাতনা ভোগ করছ, দুঃখ দুর্দশায় বন্দি, আমার নিকট চাও। আমিতো তোমার সব চাওয়া পূরণ করব। কে আছ অবহেলায় ফুলের পাপড়িগুলো নষ্ট করে ফেলেছ, ভয় পেয়োনা, হতাশ হয়োনা, তুমি জেগে উঠো, সবাইতো এখন ঘুমে। সবার অজান্তে আমি তোমার পাপড়িগুলো পরিস্কার করে দেব। তুমি আমার কাছে এসো। আমিতো তোমাকে খুব ভালবাসি। তোমার নষ্ট হয়ে যাওয়াতে আমিতো খুব কষ্ট পাচ্ছি। তুমি আমার কাছে ফিরে এলে আমি খুব খুশি হব। তোমার গায়ে কোন ময়লাই থাকবেনা। আমি নিজে তোমাকে গোছল করিয়ে দেব। আমি নিজে সব পরিস্কার করে দেব। তোমার যত ময়লাই থাকুক আমি তোমাকে ঘৃণা করি না। তুমি একবার এসেই দেখনা। আমি তোমাকে কত ভালবাসি। তারপরও যখন আমরা জাগিনা তখন মধুর সুরে মিনারে মিনারে ডাকাডাকি শুরু হয়। এসো কল্যাণের দিকে, এসো মুক্তির মোহনায়। আর অলস থেকোনা। আবার দিন শেষে ইশার সময় মধুর সুরে মিনতি করে ডাকতে থাকে বান্দা সারা দিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলে একটু পরেই আরামের নিদ্রায় যাবে। ঘুমতো মৃত্যুর জমজ ভাই। সারাদিন অনেক কলুসতা অনেক মলিনতা তোমার গায়ে লেগেছে। তোমার মনে অনেক ময়লা জমেছে। তুমি যদি এই মলিনতা নিয়ে ঘুমিয়ে পড় তাহলেতো হবেনা। সারা দিন শেষে যেভাবে হাত মুখ ধুয়ে নিজেকে পরিস্কার করে নাও তেমনি তোমাকে মসজিদের মিনার থেকে আহবান করা হচ্ছে নামাজের মাধ্যমে তোমার সব ধরনের কালিমা দূর করে পুত পবিত্র হয়ে তুমি নিদ্রায় যাও আর এই নিদ্রা হবে সুখের, শান্তির, আরামের। তুমি নিদ্রা যাবে আর আমার ফেরেস্তারা তোমাকে সারারাত পাহারা দিবে যেন আগামী ভোরের আগেই তুমি সুবাসিত একটি সুন্দর ফুল হয়ে ফুটতে পার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT