সম্পাদকীয়

বজ্রপাতের ব্যাপারে সচেতনতা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৭-২০১৯ ইং ০০:২১:০৩ | সংবাদটি ১৭২ বার পঠিত

প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ঘটনা। মারা যাচ্ছে মানুষ। সেটা হচ্ছে বজ্রপাত। গত ১৪ জুলাই একদিনেই দেশের বিভিন্নস্থানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নিহত হয়েছে দু’জন। মাছ ধরতে হাওরে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতে মারা যায় পিতাপুত্র। এটা অবশ্য মাত্র একদিনের হিসাব। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে দেশের কোথাও না কোথাও। আর এই বজ্রপাতের ঘটনা প্রতিবছরই বেড়ে চলেছে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাত অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে ইদানিং সামান্য বৃষ্টিপাত বা ঝড়ো বাতাস হলেই ঘটছে বজ্রপাত। এতে মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। আকাশে মেঘের গর্জনের সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকালেই জনমনে সৃষ্টি হয় বজ্রপাতের আতংক। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, স্বাভাবিক ইলেকট্রিসিটির চেয়ে বজ্রপাতের ক্ষমতা কয়েক হাজার গুণ বেশি। ফলে বজ্রপাতে আহত হলে মারা যাওয়ার আশংকাই বেশি থাকে। বজ্রপাতে মৃত্যুর হার সারা বিশ্বে বাংলাদেশেই বেশি। তবে দেশে বজ্রপাতে বছরে কতোজনের মৃত্যু হচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
আমাদের দেশে বজ্রপাতের আতংক বিরাজ করে পুরো গ্রীষ্ম ও বর্ষা মওসুম জুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মওসুমে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৪০টি বজ্রপাত আঘাত হানে। সাধারণত আবহাওয়া পরিবর্তনে জলীয় বাস্পে কালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য আকাশে কালো মেঘ দেখলে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাছাড়া, গ্রামাঞ্চলে ফাঁকা জায়গায় বজ্রপাত বেশি হয়। তাই বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে এসব জায়গায় উঁচু বাঁশের সঙ্গে বিদ্যুৎবাহী তার স্থাপন করা যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দশ মাইল উচ্চতায় কালো মেঘের ওপর বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়। আর এই কালো মেঘ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে বিদ্যুৎ ও বজ্রপাত। বর্ষা মওসুমের শুরু ও শেষ দিকে এই কালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। অর্থাৎ এপ্রিল-মে এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের মাত্রা বেড়ে যায়। তবে প্রতি বছরই বজ্রপাতের নির্দিষ্ট সময়ের ব্যত্যয় ঘটছে। গবেষণার তথ্য হচ্ছে, আকাশে যেখানে মেঘ সৃষ্টি হয় তার ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ফুট এর মধ্যে বজ্রপাত ঘটে বেশি। আর প্রতি সেকেন্ডে ৬০ হাজার মিটার গতিতে বজ্রবিদ্যুৎ নীচে নেমে যায়। প্রতিটি বজ্রপাতে ৫০ হাজার এম্পিয়ার বিদ্যুৎ শক্তি থাকে। যেখানে একটি বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ চলে গড়ে মাত্র ১৫ এম্পিয়ার-এ। আর একটি বজ্র অনেক সময় ৩০ মিলিয়ন ভোল্ট নিয়ে আকাশে জ্বলে ওঠে। এই বিপুল পরিমাণ তাপসহ বজ্র মানুষের দেহে আঘাত লাগার সাথে সাথেই তার মৃত্যু হয়।
সাধারণত উষ্ণ, আর্দ্র ও শীতল জলীয় বাস্পের পারস্পরিক সংঘর্ষে জন্ম হয় বিদ্যুৎ শক্তির। আর তখন আকাশে দেখা দেয় আলোর ঝলকানী। এই বিদ্যুৎ মেঘে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ হিসেবেই বিদ্যমান থাকে। আর এই বিপরীতমুখী বিদ্যুৎ থেকেই সৃষ্টি হয় বজ্র। বজ্রপাত যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগ; তাই একে ঠেকানো যাবেনা এটা ঠিক। তবে বিজ্ঞানীরা কিছু কারণ উদঘাটন করেছেন। তাদের মতে বায়ু দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক টাওয়ার-এর কারণে বাড়ছে বজ্রপাত। ধাতব পিলার চুরিও বজ্রপাতের অন্যতম কারণ। এই সব পিলার বজ্রপাতকে মাটিতে টেনে নেয়। বৃটিশ আমলে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এইসব পিলার এখন আর নেই। বজ্রপাত ‘নিরোধক’ তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনার সুফলও পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। তাই এই মুহূর্তে সতর্কতাই বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT