সম্পাদকীয়

খাদ্যশস্যের অপচয়

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৭-২০১৯ ইং ০২:০১:৫৫ | সংবাদটি ৪৭ বার পঠিত

বছরে নষ্ট হচ্ছে ৩৭ লাখ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য। সচেতনতার অভাবে এবং ফসল কাটার সময় শ্রমিক না পাওয়াসহ নানা কারণে দেশে বছরে ক্ষতি হচ্ছে ৩৭ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিকটন খাদ্যশস্য। দশটি ফসলের ক্ষেত্রে এই ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ফসল কর্তন থেকে শুরু করে বিক্রয় পর্যন্ত ছয়টি ধাপে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করেছে সম্প্রতি পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএস। তাদের দেয়া তথ্য মতে আউশ, আমন, বোরো, ভুট্টা, গম, আলু, মসুর, সরিষা, হলুদ, মরিচ মাঠে সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপে অপচয় বা বিনষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণে। বিবিএস এবার প্রথমবারের মতো ফসলের এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে। জরিপে মূলত উৎপাদন পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। বছরে উল্লিখিত দশটি শস্য উৎপন্ন হয় পাঁচ কোটি সাত লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন। আর এর থেকে কমপক্ষে ৩৭ লাখ টনই বিনষ্ট হচ্ছে।
অতি অপরিহার্য্য দশটি খাদ্যশস্য মানুষের অসচেতনতার জন্য বিনষ্ট হচ্ছে। দেখা গেছে উৎপাদনের পর কর্তন পর্যায়ে সঠিক আর্দ্রতার আগে বা পরে কাটার কারণে শস্যের ক্ষতি হয়। এছাড়া, কর্তনের সময় যথেষ্ট শ্রমিক না পাওয়া, ধুতে গিয়ে বা আগাছা পরিস্কার ইত্যাদি কারণে শস্য নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া, সংরক্ষণ মোড়কজাতকরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিক্রয়ের সময়ও বিনষ্ট হয় শস্য। সমস্যাটি যে শুধু আমাদের দেশেই, তা নয় এটি সারা বিশ্বের সমস্যা। প্রতি বছর বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশই অপচয় বা বিনষ্ট হয়। ক্ষেত-খামার থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছুতে এই খাদ্যশস্য অপচয় হয়। পরিবহন ব্যবস্থা এবং ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্যদ্রব্যের এই ধরনের অপচয় হয়। প্রতি বছর খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ কম পক্ষে একশ’ ৩০ কোটি মেট্রিক টন। এছাড়া ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যম এবং উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রতি বছর খাবারযোগ্য ২২ কোটি ২০ লাখ টন খাদ্যদ্রব্য ফেলে দেয়া হয়। অথচ আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে মোট উৎপাদিত খাদ্য দ্রব্যের পরিমাণই ২৩ কোটি মেট্রিক টন। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় প্রতিটি নাগরিক প্রতি বছর সর্বোচ্চ তিনশ’ কিলোগ্রাম খাবার অপচয় করে। আর শুধুমাত্র আহারের সময় প্রতি আমেরিকান ও ইউরোপিয় ৯৫ থেকে একশ ১৫ কিলোগ্রাম খাবার নষ্ট করে।
সারা বিশ্বে প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট হয়, তা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান লোকসংখ্যার অথবা প্রায় একশ’ কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের খাবার সংস্থান করা সম্ভব। আর সচেতন হলে প্রতি বছর এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। আসলে বীজ বপন থেকেই শুরু হয় অপচয়। বপনের পর পরিচর্যা, কর্তন, পরিবহন, মাড়াই কিংবা ধান ভাঙ্গিয়ে চালে রূপান্তর ইত্যাদি পর্যায়ে অপচয় রোধ করতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় খাদ্যশস্য অপচয় রোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় কৃষি যন্ত্রের উদ্ভাবন ও উৎকর্ষ সাধন জরুরি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT