সম্পাদকীয়

ফিটনেসবিহীন যানবাহন

প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০৭-২০১৯ ইং ০০:৪৮:৫২ | সংবাদটি ৭২ বার পঠিত


দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। এগুলোকে আগামী দুই মাসের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করতে হবে, না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্প্রতি হাইকোর্ট এই নির্দেশনা দিয়েছেন। বিআরটিএ’র দাখিল করা এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আগামী অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। আদালতের আদেশের বিষয়ে গাড়ির মালিকদের সচেতন করতে পত্রিকায় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিতেও বিআরটিএ কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিআরটিএ’র প্রতিবেদনে বলা হয় সারা দেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা চার লাখ ৭৯ হাজার তিনশ’ ২০টি। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে রয়েছে ৪৪ হাজার আটশ’ পাঁচটি ফিটনেস নবায়নবিহীন যানবাহন।
ফিটনেস ও নিবন্ধনবিহীন যানবাহন চলাচল করছে রাস্তায় অবাধে। সেইসঙ্গে লাখ লাখ চালক রয়েছে, যাদের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে এই ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকেরা। এই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সম্প্রতি গাড়ির নিবন্ধন আছে কিন্তু ফিটনেস নেই, এমন গাড়ির মালিকের নাম ঠিকানাসহ তালিকা চেয়ে বিআরটিএ’র কাছে প্রতিবেদন চায়। পরে বিআরটিএ উল্লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করে। আর এর প্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট ফিটনেসবিহীন যানবাহনের লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা বেধে দেন। একই সঙ্গে ফিটনেস, নিবন্ধনহীন যান চলাচল ও লাইসেন্স ছাড়া যান চলাচল বন্ধে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তির বাঁচার অধিকার রক্ষায় মোটর যান অধ্যাদেশ ১৯৮০ এর বিধান বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।
দেশব্যাপী বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা রোধে নানা ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যানবাহনে ভ্রমণ করে। সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অদক্ষ চালক এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন। বিআরটিএ’র উদাসীনতা অনিয়ম, দুর্নীতি এর জন্য। বিআরটিএ’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেক সময় ঘুষের বিনিময়ে লক্কর ঝক্কর মার্কা যানবাহনকেও ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। ঠিক সেভাবেই অদক্ষ আনকোরা চালকও ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। আর এই অদক্ষ চালক ও ভাঙ্গা-চুরা যানবাহন যখন রাস্তায় নামে তখন যাত্রীদের নিরাপত্তা তো হুমকির মধ্যেই থাকে। এবার অন্তত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ ফিটনেস সনদ নিয়েই শতভাগ যানবাহন রাস্তায় চলাচল করবে বলেই আমরা আশাবাদী।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT