শিশু মেলা

বাঘের শিকার ডাকাত

চন্দ্র শেখর দেব প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৮-২০১৯ ইং ০০:৪৭:৩১ | সংবাদটি ১৭৪ বার পঠিত

‘বাঘের উৎপল হওয়া চাই’ বললেন, সব্যসাচী। বিদ্যুৎ তা শুনে বললেন, হওয়াতো চাই, কিন্তু বাঘের চোখের কতো উৎপল, চোখ রাখে না বাঘ। সিকান্দর বলল, চোখ ঢাকে, আর রক্ত জবা ফুটিয়ে দেখে অন্ধকারে। সব্যসাচী বললেন, যারা দেখে, তারা দেখে। বিদ্যুৎ বললেন, ‘রক্তের রংয়ে লাল কমল ফুটিয়ে রাতে লাল অগাধ সুন্দর দেখে, আর তাতেই লোকায়, হারে না বলেই ফুটে জলে। পাহাড় চূড়ায়, আকাশে আকাশে।
সব্যসাচী বললেন, চোখ জালে ছেয়ে উঠবে? বিদ্যুৎ বললেন, কিভাবে আলো খেলে জাল ছিড়ে, রূপ ফুটে তা দেখাতে পারবে কিছু? সাচী বললো, ঐ দেখো জাল, তুলে আনো। ওখানের বট গাছে বাঁশি বাজে। গাছের নীচে ঝোপ, ছোট কাটা ওতে। সিকান্দর গর্জে উঠে, দৃঢ় পায়ে বাঘ এগুচ্ছে, ওখানের জালে পড়বে ওরাও।
পরদিন সকালে, একটি বাঘকে জালে বন্দী হয়েছে দেখতে পেলো বিদ্যুতে উৎসের নামই নেই সেই সকালে, সে ষাড়ের শিং, সাজাচ্ছে ভালভাবে। বিদ্যুৎ দৌড়ে সব্যসাচীর কাছে পৌঁছে মেঘ ডম্বুর খানার খবর দিলো। হাল্কা ঝাড়ে তখন কেউ মিটা।
সব্যসাচী ভাবলো, বাঘের গন্ধেই মন্দ মধুর বায়, ছন্দে ও বাঘ দোলানোর কাজে, কাজেই ভুল না হোক ফুল ফুটাতে। সব্যসাচী বিদ্যুৎকে বললেন, খাবার সাজা, গাজা নয় খালি, খাসির মাংস, বড় মাছ, তাজা তাজা বড়া তরকারী, দই সন্দেশ, ফল ইত্যাদি বহু। বিদ্যুৎ বলেছে, এসব দিয়ে কি করবে ওখানে। সব্যসাচী তার সহপাঠীকে জানালো, খাবার দিতে চাই ডাকাতকে আর ডাকাতকে দিতে চাই বাঘে। বিদ্যুৎ চমকে উচ্চারণ করলো, তবে উৎপল ফুটছে, এখন কি রকম সহায়তা চাই। সব্যসাচী আদেশ করলো। খাবার প্রস্তুত করে বাসন কোষনে সাজাবে, তারপর তার পর খাবার বাসন একটা বস্তায় ঢোকাবে। তারপর বাঘ শাসনে ঐ বট তলায়। বিদ্যুৎ শুধালো, আর ডাকাতের চোখ কোথায় যাবে? সব্যসাচী কঠোর কন্ঠে কন্ঠ শুনা গেলো, ‘ডাকাতের’ চোখ সম্ভবত গাছ তলায় যাবে।
বাংলার সুন্দরবনের কাছে বাঘ উপদ্রুত অঞ্চল রয়েছে বনের কাছের জনবসতিতে। বিবিড় নিকুঞ্জ থেকে বাঘ বেরিয়ে এসে হামলা চালায়। বাঘ হারায়। বস্তায় খাবার সস্তা কয়েকটি ইদুর, প্রায় দুই শত দীর্ঘ কয়েক গাছি সুতা, কয়েক টুকরো ইট নিয়ে ওরা গাছের তলায় বন্দী বাঘের কাছ থেকে যতটা সম্ভব নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়ালো।
বিদুৎ সিকান্দরকে বললেন, ঐ কাছের দুর্ধর্ষ ডাকাত, ‘কলু’ এখন বাড়িতে, সে একটি খুনের দায়ে সাজা প্রাপ্ত পলাতক। সাচী ভাই ডাকাত নিধনের বুদ্ধি করেছেন একটি। তিনি তোমাকে তা বুঝিয়ে বলবেন। সব্যসাচী বললেন, সিকান্দর, ডাকাতটি আজ বাড়িতে আছে, তুমি তাকে গিয়ে বলবে, মাটের কাছের ঐ বটতলায় হিন্দুরা দেবতা পূজো করে নৈবিদ্য সাজিয়ে রেখে গেছে।
ডাকাতটি যদি তার পতনশীলতা রোধ না করে তবে দেখি তাকে নিধনের একটি ব্যবস্থা করতে পারি কি না। সিকান্দর সব্যসাচীর কথামত ডাকাতটির বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো। বিদ্যুৎ ইঁদুরগুলোর পায়ে সুতো বেধে বটতলায় ছেড়ে দিলো, তিন দুরন্ত বাঘ সংরক্ষক দলের নেতা সব্যসাচীর কথামতো। প্রতি গাছি সুতোর এক প্রান্ত ইটে বেধে রেখেছে। পা বাধা ইঁদুরগুলোর খোলা জায়গায় ছুটাছুটি করার সুযোগ পেলো। কিছু খাবার ছড়িয়ে দিলো। ইদুরগুলোর জন্যে খোলা জায়গায়। রুটির টুকরো শুকনো বিস্কুট চিনি। একটা বড় থালায় ভাত, মাংস, মাছ, কয়েকটি বাটীতে দই মিষ্টি, কয়েক রকমের ফল সাজিয়ে ঢেকে রাখলো যাতে ইঁদুরগুলো বাসনের ভেতরের খাবারে মুখ দিতে না পারে। খাবার ঢাকা বাটী থালা কাছ থেকে ইঁদুরের জন্যে খাবার ছড়িয়ে দিলে বাঘের উপর পর্যন্ত। দশ মিনিটের মাথায় ইঁদুরগুলো শান্ত হয়ে যখন খাবার খেতে শুরু করলো সব্যসাচী তখন বললেন বিদ্যুৎ, চল নদী কুলে গিয়ে লুকিয়ে পড়ি। নদী পারে পৌঁছে একটি গাছে উঠে ওরা লোকালো।
গাছে উঠার দশমিনিট পর ওরা দেখতে পেলো ডাকাতটি তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছে। বিদ্যুৎ বলে ডেকে ওস্তাদটি সিকান্দরকে দেখালো, ঐ দেখো নদী কূলে সিকান্দর বাঁশি বাজিয়ে ভাবে ঘোরে মরতে মরতে উঠছে। ওরা দেখছে, ডাকাতটি খাবারে পড়ছে। ডাকাতটি খাবার খাচ্ছে আর আমরা ডাল কামড়িয়ে দিচ্ছি, এতো সাচী স্যার। এই বলে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সাচী গুরুভাবে বললেন, ডাল থেকে জলে পড়লেও আছি বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ সবচেয়ে উঠলো জে সে দেখতেই পেলো সে যেন আকাশের বিদ্যুৎ ঃ ইঁদুরগুলো বাঘের উপর দৌড়া দৌড়ি করছে। ইঁদুরের আহারও হচ্ছে বাঘও জাল মুক্ত হয়েছে। ইঁদুরের বাঘের চোখের উপর তার জাল কেটে দিয়েছে। জাল মুক্ত বাঘ উঠে দাঁড়ালো। ডাকাতটি খাবারে ঢুকে যাচ্ছে যেন। কোন দিকে খেয়াল করছে না, খাবারও খাচ্চে। বিড়ালের মতো নিস্তব্ধ পায়ে বাঘটি ডাকাতটি ডাকাতটির এগুচ্ছে। খাবারের উপর ঝুকে থাকা ডাকাতটির ঘাড়ে ঝাপ দিতে পারবে এমন অবস্থানে গিয়ে বাঘটি তার আপন খবর জানান দিলো। গর্জে উঠে পশুরাজ। ডাকাতটি ভয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বনের পশু, লোকালয়ে, ডাকাত শিকারের উপর ঝাপ দেয়। ডাকাতটি ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত হয়ে বাঘের মুখে মারা যায়।
সাচী বললেন, এখন কাজ ন্যাংটি ইঁদুরগুলোকে সুতোর বাধন থেকে মুক্তো করে দেয়া আর এ বিজয় উপলক্ষে আগামীকাল সিকান্দরের বাড়িতে ছাগল (খাসি) কেটে ভোজ উৎসব।
ওরা মেঘে মেঘে বাড়ি ফিরে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT