সম্পাদকীয় তোমরা যদি প্রকৃত মোমেন হও, তবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। -আল হাদিস।

পানিতে ডুবে মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৮-২০১৯ ইং ০১:৪৩:৪৬ | সংবাদটি ৫২ বার পঠিত

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। বর্ষা মওসুমে এই দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়ে যায়। প্রতিদিন ৪০টির বেশি শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। প্রতি ৩০ মিনিটে মৃত্যু হচ্ছে এক শিশুর। পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ৮০ ভাগই ঘটে বাড়ি থেকে ২০ মিটারের মধ্যের পুকুরে পড়ে। পানিতে ডুবে মারা যায় বছরে ১৫ হাজার শিশু। সবচেয়ে বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় বরিশাল বিভাগে। মূলত সচেতনতাই হচ্ছে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমানোর একমাত্র উপায়। একটি বেসরকারী সংস্থার জরিপে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতো মৃত্যুর পরও নানাকারণে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে খুব বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় না।
নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওর, পুকুর-ডোবা, জলাশয়ের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ।
গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি বাড়ির আশেপাশেই রয়েছে পুকুর, ডোবা, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি। আর বর্ষা মওসুমে এই জলাধারগুলো থাকে পানিতে টই টম্বুর। এই সময়টিতেই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়েই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। তবে সবচেয়ে বিপদজনক হচ্ছে পুকুর। শতকরা ৮০ ভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে থাকে পুকুরে; যা বাড়ির সীমানার ২০ মিটারের মধ্যেই থাকে।
এছাড়া, শিশুকে দেখা শোনার অভাবে শতকরা ৬০ ভাগ শিশু সকাল নয়টা থেকে একটার মধ্যে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। দেখা গেছে দরিদ্র পরিবারেরই শিশুরা পানিতে ডুবে মৃত্যুর শিকার হয় বেশি। আর পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের বেশির ভাগেরই বয়স দশ বছরের নীচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে ডুবে বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটে দক্ষিণ এশিয়াতে। ইউনিসেফ বলেছে, বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু একটি গোপন মহামারী।
দেশে বিভিন্ন রোগে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তবে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু সেই সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে। তবে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার কমাতে হবে। অথচ প্রতিনিয়ত এই হার বেড়ে চলেছে। ১৯৮০ সালে যেখানে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার ছিলো মাত্র নয় শতাংশ, এখন তা ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় প্রতিটি বাড়ির আশে-পাশের পুকুর-ডোবায় যাতে শিশুরা যেতে না পারে তার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার পাশাপাশি সকলের মধ্যে সর্বাত্মক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। আর শিশুদের সাঁতার শেখানোর ওপর জোর দিতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT