সম্পাদকীয় ধ্বংস এমন প্রতিটি লোকের জন্য, যে ধিক্কার দেয় ও নিন্দা করে বেড়ায়। -আল কুরআন

সার কীটনাশকে ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৮-২০১৯ ইং ০৩:৩৭:৪৪ | সংবাদটি ৯২ বার পঠিত

রাসায়নিক সার আর কীটনাশকে ধ্বংস হচ্ছে আমাদের কৃষি জমি। এ নিয়ে বলাবলি হচ্ছে বিস্তর। কিন্তু এসবের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। অধিক ফলনের আশায় কৃষকেরা অবাধে ব্যবহার করছে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনসংখ্যা, বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। বাড়তি খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য একের পর এক বাজারে আসছে উন্নয়নশীল ধানের বীজ, রাসায়নিক সার, শক্তিশালী কীটনাশক। উন্নত বিশ্বের অবদান এসব সামগ্রী অতিসহজে এবং অতি দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। কিন্তু এই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক যে কী পরিমাণ ক্ষতি ডেকে আনছে আমাদের জন্য, তা অনেকেই ভাবতে পারছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে হাইব্রিড বীজ, রাসায়নিক সার, রাসায়নিক কীটনাশক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। ফসলি জমি ধ্বংস হচ্ছে, বিনষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য। জনস্বাস্থ্য হচ্ছে হুমকির সম্মুখীন।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ষাট দশকে বিশ্ব জুড়ে শুরু হয় সবুজ বিপ্লব। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সেই সবুজ বিপ্লবের ঢেউ এসে লাগে এই ভূ-খ-েও। তখন বাংলাদেশের চাষীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ। সেই সঙ্গে তাদের হাতের নাগালে পৌঁছে যায় রাসায়নিক সার ও রাসায়নিক কীটনাশক। কৃষকেরা তখন নেমে পড়ে সবুজ বিপ্লবে। তারা ব্যাপকভাবে চাষ করতে থাকে হাইব্রিড জাতের ধান। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে তাদের ফলনও বেড়ে যায় আশাতীতভাবে। এভাবে কৃষকেরা এক পর্যায়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে হাইব্রিড জাতের ফসলের ওপর। কিন্তু এই প্রবণতায় সর্বনাশ হয় পরিবেশের। জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ধুয়ে নদীর পানিতে পড়ার ফলে নদী-নালা, খাল-বিলের পানি দূষিত হচ্ছে। জলজ জীবের জন্য এগুলো বয়ে আনছে মারাত্মক হুমকি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর সারা বিশ্বে দশ থেকে ৫০ লাখ ক্ষেত মজুর কীটনাশক জনিত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। আর প্রতি বছর ২০ হাজার ক্ষেত মজুর কীটনাশক জনিত বিষক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করে। এদের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বের কৃষকই বেশি। রাসায়নিক সারও পরিবেশ দূষিত করছে। এই সার ব্যবহার করায় গত অর্ধ শতাব্দীতে বিশ্বে ৪০ ভাগের বেশি জমির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে। আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫০ লাখ হেক্টর জমির উর্বরতা কমে গেছে।
শুধু তাই নয়, হাইব্রিড জাতের ধানের দাপটে আমাদের দেশীয় বহুজাতের ধান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী অনেক ধানের বীজের পেটেন্ট এখন বিদেশী কোম্পানীর দখলে। এ পর্যন্ত ১৭টি বিদেশী কোম্পানী কমপক্ষে ছয়শ’ নয়টি পেটেন্ট দখল করেছে। ফলে ধরেই নেয়া যায় যে, অনেক ঐতিহ্যবাহী শস্য আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। মূলত উচ্চফলনশীল ফসল চাষ করার ফলেই আমাদের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে। অথচ বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে অধিক ফসল উৎপাদনের বিকল্প নেই। জমি সংকোচিত হওয়ার পরও আমাদের বার্ষিক ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে চার কোটি মেট্রিকটন স্পর্শ করছে। এই অবস্থায় পরিবেশসম্মত উপায়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানসহ সব ধরনের ফসল চাষের দিকে ঝুঁকতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT