স্বাস্থ্য কুশল

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ

সৈয়দ আছলাম হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৮-২০১৯ ইং ০৩:৪৩:৫৭ | সংবাদটি ২১২ বার পঠিত

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে পীড়াদায়ক রোগের মধ্যে ডেঙ্গু একটি। এই জ্বরে আক্রান্ত একদিকে যেমন দুর্বল হয়ে পড়ে অন্যদিকে এর রেশ শরীরে থেকে যায় দীর্ঘ দিন। তবে ডেঙ্গু প্রাণঘাতি কোনো রোগ নয়। বিশ্রাম ও নিময়মতো চলাফেরা করলে এ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমাদের দেশে মানুষ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় প্রতি বছর মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস (গ্রীষ্ম ও বর্ষার সময়) পর্যন্ত বেশি আক্রান্ত হয়। সার্বিক চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। উল্লেখ্য যে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২১ জুলাই ২০১৯ইং মারা যান হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদত হোসেন হাজরা (৫৩)। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে শুধু সচেতন থাকলে হবে না এর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর দু’টি রোগের লক্ষণে নানা মিল ও অমিল রয়েছে। যদিও এডিস মশার কারণেই এই দু’টি রোগ হয়। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড় দিলে ঐ ব্যক্তি চার থকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। যার ডেঙ্গু জ্বর হয়ে গেছে তাকে যদি জীবাণুবিহীন কোনো মশা কামড় দেয় তবে যে জীবাণুবাহী মশা হয়ে যাবে, তখন মশাটি যাকে কামড় দিবে তিনিই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবেন। এভাবেই একজন থেকে অন্য জনের কাছে ডেঙ্গু ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কারো জ্বর হলে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না তা চিনার কয়টি উপায় আছে। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিটসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথা ব্যাথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। জ্বর হওয়ার চার পাঁচ দিনের সময় সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করে এবং রুচি কমে যায়। অন্য সমস্যার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে মাড়ি ও দাঁত থেকে এবং চোখের বাইরে রক্ত পড়তে দেখা যেতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসা যথেষ্ট। তবে যাদের আগে ডেঙ্গু হয়েছিলো তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে। তাই নিকটস্থ সরকারি উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। যাতে ডেঙ্গু জনিত কোনো গুরুত্বর জটিলতা না হয়।
ডেঙ্গু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করার চেয়ে আমাদের আগ থেকেই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। যেহেতু এটি একটি মশাবাহিত রোগ। মশার বংশ বৃদ্ধিরোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এই মশা সাধারণত পরিস্কার পানিতে বংশ বৃদ্ধি করে। তাই ঘরবাড়ি ও এর চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের মালা ও এ জাতীয় পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে। যেন পানি জমতে না পারে। গোসলখানায় বালতি, ড্রাম, প্লাস্টিক ও সিমেন্টের ট্যাঙ্ক কিংবা মাটির গর্তে চার পাঁচ দিনের বেশি কোনো অবস্থাতেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। পরিস্কার ও স্থবির পানিতে ডেঙ্গুর জীবাণু বেশি জন্মায়। ঘরের আঙিনা, ফুলের টব, বারান্দা, বাথরুম, ফ্রিজের নিচে ও এসির নিচে জমানো পানি নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে যাতে মশা বংশ বৃদ্ধি করতে না পারে। মশা মারার ঔষধ দিয়ে মশা নিধন করতে হবে। দিনের বেলা মশার উপদ্রব দেখলে দিনের বেলায়ও মশারির নিচে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চাদের হাফপ্যান্টের বদলে ফুলপ্যান্ট পরানো উচিত। আক্রান্ত রোগীকে পৃথক বিছানায় মশারির ভেতর রাখতে হবে। ঘরের দরজা, জানালা ও ভেন্টিলেটার মশা নিরোধ জাল ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গু থেকে নিজেকে ও অন্যকে নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিরোধের ব্যাপারে সর্বচ্চ নজর রাখতে হবে। আসুন ডেঙ্গু থেকে নিজে বাঁচি ও অন্যকে বাঁচাই।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT