সম্পাদকীয়

হিরোশিমা দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৮-২০১৯ ইং ০১:৩৫:১৪ | সংবাদটি ৪৬ বার পঠিত

বিশ্ব ব্যাপী ভয়ংকর পারমানবিক বোমার ‘আত্মপ্রকাশে’র ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। জাপানের হিরোশিমা নগরীতে ১৯৪৫ সালের আজকের এই দিনে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তখন চলছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধেরই শেষ পর্যায়ে মূলত জাপানীদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে এই দানবীয় বোমা হামলা ঘটায়। এতে মারা যায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নারী, পুরুষ, শিশু। ‘লিটল বয়’ নামের এই পারমাণবিক বোমা হামলায় কমপক্ষে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়। হিরোশিমায় হামলার তিন দিন পর ৯ই আগস্ট জাপানের আরেকটি শহর নাগাসাকিতে আরেকটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ৭৪ হাজার। কিন্তু পরবর্তীতে বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে দুই শহরে আরও অনেক মানুষ মারা যায়। সব মিলিয়ে বোমা হামলা ঘটনায় দুই শহরে চার লাখের মতো মানুষের মৃত্যু হয়। তাই এই বোমা হামলার ঘটনাকে মানব সভ্যতার একটি কলংক বলেই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট। জাপানের হিরোশিমা শহরে সময় তখন সকাল আটটা দশ মিনিট। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারিট্রুম্যান-এর নির্দেশে মার্কিন বি-টুয়েন্টি নাইন বোমারু বিমান এলোনা বো থেকে হিরোশিমায় ফেলা হয় আনবিক বোমা। যার নাম লিটল বয়। বোমাটি প্রায় পাঁচশ’ মিটার উঁচুতে বিস্ফোরিত হয়। এই বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরতে শুরু করে। এর দু’দিন পর নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিমান আরেকটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। আর মূলত এই হামলার মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হলে কী হবে, যুদ্ধ পরবর্তী নানান বিরূপ প্রতিক্রিয়া চলতে থাকে দীর্ঘদিন। বোমা হামলার এই সিকি শতাব্দী পরও শহর দু’টিতে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু; ক্যান্সারসহ নানা দূরারোগ্য রোগে এখনও ভুগছে বহু মানুষ। সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে এখনও জাপানের মানুষ।
আজ থেকে ৭৪ বছর আগে প্রতিপক্ষকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ক্ষমতাধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবজাতি বিধ্বংসী যে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছিলো, তার রেশ শেষ হয়নি এখনও। অর্থাৎ সেই পারমাণবিক বোমা যে শুধু জাপানকেই আক্রান্ত করেছে তা নয়, বরং সেই বোমা পক্ষান্তরে গোটা বিশ্বের মানব সভ্যতার পেছনে কুঠারাঘাত করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই বোমা হামলার ঘটনার পর থেকেই বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়। যার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই আজকের এই হিরোশিমা দিবসে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষদের মতো আমাদেরও প্রত্যাশা ধ্বংস নয়, সন্ত্রাস নয়, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত হোক গোটা বিশ্ব।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT