সম্পাদকীয়

পাহাড়-টিলায় চাষাবাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩৬:০১ | সংবাদটি ১৮৫ বার পঠিত
Image
সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলের ভূমিতে গোল মরিচ, আদা, হলুদসহ নানা কৃষিপণ্য চাষাবাদ ও উৎপাদনের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে কৃষিপণ্য উৎপাদনে আমাদের প্রান্তিক কৃষক জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের কৃষিপণ্যের জাত আবিষ্কার করে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গবেষণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার প্রান্তিক কৃষকদের উন্নয়নে নানাভাবে সহযোগিতা করছে। সম্প্রতি সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইটাস গবেষণা সেন্টারে বারি গোলমরিচ-১ এর আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ে কৃষক প্রশিক্ষণে এই কথাগুলো বলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা। পাহাড়ি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের সম্প্রসারণ নিয়ে অতীতেও আলোচনা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদও হচ্ছে। তবে তা সীমিত পর্যায়ে। পাহাড়ি জমিতে ফসল চাষ করার বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই লেখালেখি হচ্ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। দেশে আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে যে হারে ফসলি জমি কমছে, সেটা অব্যাহত থাকলে আগামী চার পাঁচ দশক পরে দেশে কোন আবাদি জমি থাকবে না বলে আশংকা করা হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সুখবর নয়। আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে মোট খাদ্য উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ি জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব বহন করছে। বেশ কিছু পাহাড়ি জমিতে বর্তমানে আবাদ হচ্ছে ফসল। দেশে মোট আবাদি জমির এক দশমাংশ হচ্ছে পাহাড়ি জমি। আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে পাহাড়ি জমির পরিমাণ ১৩ হাজার একশ’ ৯২ বর্গ কিলোমিটার। এই জমিতে নানা ধরনের ফসল চাষ করা সম্ভব। বিশেষ করে উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল চাষ করা যায়। যেমন আনারস, পেঁয়ারা, আম, জলপাই, কলা, পেঁপে ইত্যাদি। এছাড়া, ঢালু জমিতে আদা, হলুদের মতো মসলা জাতীয় ফসলও চাষ করা যায়। সিলেট অঞ্চলে প্রচুর পাহাড়-টিলা রয়েছে। যার পুরোটাই অনাবাদি। এই প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি। সেটা হলো পাহাড়-টিলা কাটা। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিলেট অঞ্চলেও সর্বত্র অবাধে কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা। পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে বড় বড় ভবন অট্টালিকা, রাস্তাঘাট। টিলার মাটি বিক্রি হচ্ছে। সরকারি নির্মাণ কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধভাবে কাটা টিলার মাটি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটের মোট জমির ১১ ভাগ পাহাড় এবং আরও ১৭ ভাগ উঁচু ভূমি। এই পাহাড়-টিলা কর্তনের মহোৎসব বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে পাহাড়-টিলায় পরিকল্পিতভাবে ফসল চাষের কার্যক্রম শুরু করা দরকার। এতে পাহাড়-টিলাও সুরক্ষিত থাকবে।
শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT