উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

প্রসঙ্গ : ‘আইনজীবী সহকারী আইন’

শাকিল আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩৮:০৯ | সংবাদটি ৩৬ বার পঠিত
বাংলাদেশে আইনজীবী সহকারীদের কাজের পরিধি ও তাদের আইনানুগ পেশা বা বৃত্তিগ্রহণের স্বীকৃতি এবং সংগঠন রূপরেখা বর্ণনা করে আইনী কাঠামো তৈরী করে কোন স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন এখনো হয়নি। অথচ ১৯৮৬ সাল থেকে আইনটি প্রণয়নের দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছে। ভারতে এই আইনটি পাশ হয় ১৯৯৭ সালে। সেদেশের আইনজীবী সহকারীরা আজ পেশাটির স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাংলাদেশের আইনজীবী সহকারীরা কয়েক গত দশক ধরে আইনটি পাশের দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে আইন প্রণেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা নিরন্তর নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। সভা-সমাবেশ সেমিনার করেছেন। এসব সভা সমাবেশে প্রায় সবসময়ই আইন প্রণেতারা অতিথি হয়ে আসেন। আশার বাণী শোনান। কিন্তু এ পর্যন্তই। আজও মহান সংসদে আইনটি উত্থাপন হয়নি। আইনজীবী সহকারীদের হতাশাও কাটেনি। স্বাধীনতার ৪৮ বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আইনজীবী সহকারীরা তাদের পেশার স্বীকৃতি পাননি। যাদেরকে আমরা মুহুরী কিংবা আইনজীবী সহকারী বা এডভোকেট ক্লার্ক, যাই বলিনা কেন, এই আইনজীবী সহকারী পদবীটাই যথাযথ। আইনজীবী সহকারীগণ আদালত প্রাঙ্গনে যেমন কর্মব্যস্ত, তেমনি বিভিন্ন সেরেস্তায় দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত বিচারালয়ে অভ্যন্তরেও। কখনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলন, দৈনিক কার্যতালিকা (কজলিস্ট), হাজিরা, দরখাস্ত, আবেদনপত্র, প্রমাণপত্র বা সমজাতিয় বিষয়বস্তু এগিয়ে দিচ্ছেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনরত আইনজীবীদের, অন্যদিকে একজন আইনজীবী সহকারী নিরন্তর ব্যস্ত থাকছেন কখন, কোথায় ও কোন তারিখে নির্দিষ্ট মামলাটি কোন আদালতে ও কোন সময় উপস্থাপিত হবে, সে বিষয়টি জানাতে। তারা মোয়াক্কেলদের কাছে যেমন সমাদৃত, নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজনে, তেমনি সমাদৃত আইনজীবীদের কাছে, সহায়তা প্রদানকারী হিসেবে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শহর ও বিভাগীয় শহরে দুই থেকে আড়াই লক্ষাধিক আইনজীবী সহকারী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তারা কোর্টে দৈনন্দিন কর্মযজ্ঞ চালিয়ে নগণ্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। আইনজীবী সহকারীগণ যে অপরিহার্য কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, সেটিও বাস্তব। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল অতি প্রাচীন শহর আমার জন্মভূমি হওয়ার সুবাদে শিশুকাল থেকে ছিলাম সিলেটে। সিলেটে আছে নানা অফিস-আদালত, সেই সাথে বিভিন্ন ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মানুষের আগমণ ঘটছে অহরহ। হু হু করে বাড়ছে নানা সমস্যা। নগরকেন্দ্রিক নানা পরিবর্তন, নানামুখী জীবনধারা দ্রুত জীবন পাল্টে দিচ্ছে। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সিলেটে জুডিশিয়ারীতে কর্মরত এক হৃদয়বান ব্যক্তি সিলেটের মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. গোলাম মর্তুজা মজুমদার। তিনি সুবিধাবঞ্চিত আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায়দেরকে সামাজিক সুরক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা ও কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি আদালত প্রাঙ্গনকে সৌন্দর্যবর্ধিত করার লক্ষ্যে ৩ শতক জায়গা বরাদ্দ দিয়ে জরাজীর্ণ পরিবেশ থেকে আইনজীবী সহকারীদেরকে একটা স্থান দিয়ে মর্যাদা দিয়েছেন। আইনজীবী সহকারীরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে সদস্যগণের নিকট থেকে চাঁদা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনের ৪ তলা ভবনের কাজ সম্পন্ন করে ছাদের নিচে বসে দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. গোলাম মতুর্জা মজুমদার মহোদয়ের মত ব্যক্তিগণ মানুষের কল্যাণে এগিয়ে না আসলে সিলেটের প্রান্তিক সহকারীরা কখনো পরিপূর্ণ হত না। আইনজীবী সহকারীদের আইনী কাঠামোর মধ্যে এনে তাদের কাজের পরিধি নির্ণয় করে বা সংগঠনের স্বীকৃতি প্রদান করলে মহান জাতীয় সংসদে একটি আইন প্রণয়ন করলে কার কী ক্ষতি হবে, জানিনা। অনেক আইনজীবী সহকারী বা তাদের সাথে যুক্ত শিক্ষানবীস আইনজীবী সহকারীরাও তাদের প্রজন্ম, পরবর্তী প্রজন্ম এবং পরিবার সকলেই আশা নিরাশার দোলাচলে বুক বেঁধে পেশার স্বীকৃতির আশায় দিনাতিপাত করছেন। তাই সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ মাদার অব হিউম্যানিটি খেতাবে ভূষিত। প্রধানমন্ত্রীর এ অর্জনে আমরা আইনজীবী সহকারীরা যারপর নাই আনন্দিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের সকল বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি ১৯৯৭-৯৮ সালে দেশে বয়স্কভাতা চালু করেন, ১৯৯৮-৯৯ সালে বিধবাভাতা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, সম্মানী ভাতাসহ প্রধানমন্ত্রীর নিজ উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গ, হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে, চা শ্রমিকসহ প্রতিবন্ধি মানুষের জন্য প্রতিবন্ধি আইন-২০১১, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল, ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তিদের জন্য পুনর্বাসন আইন ২০১১, শিশু আইন ২০১৩, পিতামাতা ভরণপোষণ আইন ২০১৩, প্রতিবন্ধি ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, প্রতিবন্ধি সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ প্রণয়নসহ বিভিন্ন আইনের সংস্কার করে বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। আইনজীবী সহকারী সম্প্রদায়ের জন্য প্রণীত স্বতন্ত্র আইনটি (আইন ও বিচার সংসদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে সংরক্ষিত) মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে বিলটি অন্যান্য আইনের ন্যায় সংসদে পাস করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। লেখক : সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আইনজীবী সহকারী সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটি।
শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • Developed by: Sparkle IT