উপ সম্পাদকীয়

বিশ্বব্যবস্থায় ভূমধ্যসাগর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:০২:৪২ | সংবাদটি ২৫৬ বার পঠিত

ভূমধ্যসাগরের অবস্থান, এর বিশালতা এবং তিন মহাদেশের সাথে সংযোগকারী সেতু হিসেবে গণ্য ও বিবেচিত হওয়ায় বিশ্বব্যবস্থায় এ সাগরের ভূরাজনীতি ও ভূকৌশলগত গুরুত্ব সর্বাধিক।
পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ জলরাশিপূর্ণ ভূমধ্যসাগর বিশ্বের তিন মহাদেশ ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার মধ্যেকার যোগাযোগ ও যাতায়াতের ক্রসরোড হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে সুদূর প্রাচীনকাল থেকে। লেখক, গবেষকগণ এ সাগরকে তিন মহাদেশের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী ‘ডি-ফ্যাক্টো ব্রিজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভূমধ্যসাগর আবার ভারত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকেও সংযুক্ত করেছে জিব্রালটার প্রণালীর মাধ্যমে।
উত্তরে ইউরোপ, দক্ষিণে উত্তর আফ্রিকা, পূর্বে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং পশ্চিম প্রান্তে জিব্রালটার প্রণালী, এর চার সীমার মধ্যে প্রবাহিত ভূমধ্যসাগরকূলে তিন মহাদেশের ২১টি রাষ্ট্রের অবস্থান। এর মধ্যে ইউরোপের ১২, আফ্রিকার ৫ এবং এশিয়ার ৪টি রাষ্ট্র অবস্থিত। বিশাল এ সাগরের মোট আয়তন ৯৭০,০০০ বর্গমাইল।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলকে পাঁচটি সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবশালী গ্রুপে বিভাজন করা যেতে পারে। যেমন : ১. ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দ্য কাউন্সিলর অব ইউরোপ এবং দ্য ন্যাটো। ২. দ্য রাশিয়ান ফেডারেশন, ৩. দ্য লীগ অব আরব স্টেটস, ৪. নন-এলাইড রাষ্ট্রসমূহ; যেমন : ইসরাইল, সার্বিয়া, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং মেসোডোনিয়া এবং ৫. গণপ্রজাতন্ত্রী চীন।
গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট, ভূমি বা স্থলপথ ও আকাশপথে যাতায়াতের সুবিধার্থে, আরব পেনিনসুরা ও আরব রাষ্ট্রগুলোর তেল সরবরাহ পাইপ লাইন প্রবাহিত হওয়ার কারণে এ পাইপ লাইন উন্নত বিশ্বের শিল্পোৎপাদন ও শিল্পের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে থাকে, অন্যদিকে, সামরিক ক্ষেত্রে আধিপত্য স্থাপনের জন্য এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ও যাতায়াতের ট্রেড রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে বিধায় ভূমধ্যসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এবং বর্তমান সময়কালে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান রয়েছে। বিশ্বব্যবস্থায় প্রভাব ও আধিপত্য স্থাপন ও সেটি বহাল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে ভূমধ্যসাগরের অবস্থান থাকায় বিশ্বের সুপার পাওয়ারগুলোর জন্য এ সাগর অতিব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
ভূমধ্যসাগরের গুরুত্বের বিষয় বিবেচনায় রেখে এর কৌশলগত অপরিহার্যতাকে, ভৌগোলিক গুরুত্ব, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব এ কয়েকটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
পূর্ব হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরের বিস্তৃতির দূরত্ব হলো ৩৮৬০ কিলোমিটার। এটির উত্তর উপকূল হতে দক্ষিণ উপকূলের মধ্যে প্রস্থগত দূরত্ব প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার। এর বিশাল প্রশস্ততার কারণে বড় বড় যুদ্ধ জাহাজ, অন্যান্য ফ্লিটস সমূহ চলাচলের জন্য সুবিধাজনক; তেমনি আকাশ ও ভূমন্ডলের ওপর প্রাধান্যতা স্থাপনের সুযোগ থাকে। আর এ সাগরের ওপর আধিপত্য স্থাপন করতে চাইলে এর উপকূল ও দ্বীপসমূহের ওপর আধিপত্য স্থাপন করা অপরিহার্য্য।
ভৌগোলিকভাবে এ সাগর দু’টি ভাগে বিভক্ত। যেমন : পূর্বাঞ্চলীয় বেসিন এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বেসিন। এ সাগরের প্রধান নৌরুট, যার প্রশস্ততার দূরত্ব (এক তীর থেকে অপর তীর) প্রায় ৮০ মাইল সেটি সিসিলি ও ক্যাপবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ নৌরুট দিয়ে পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরবর্তীর দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে। ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো এ নৌরুট দিয়ে আটলান্টিক সাগরে পৌঁছুতে পারে। অর্থাৎ নৌপথে আটলান্টিকে পৌঁছার জন্য এ রুট একমাত্র মাধ্যম। তাই কোনো কারণে নৌরুটটি বন্ধ হয়ে গেলে বা অন্য কোনো কারণে অবরুদ্ধ হলে গোটা পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নৌবাণিজ্য এবং নৌযোগাযোগ ও যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করা হয়।
ভূমধ্যসাগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো হলো সাইপ্রাস, ক্রয়েট ও দার্দানেলিশ দ্বীপ এবং এগুলোর অবস্থান পূর্বাঞ্চলীয় বেসিনে। আর পশ্চিমাঞ্চল বেসিনের দ্বীপগুলো হলো, কর্সিকা ও সার্দিনিয়া এবং মধ্যাঞ্চলের দ্বীপগুলো হলো; সিসিলি ও মাল্টা।
ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের তিনটি প্রধান প্রবেশ পথ হলো অতিরিক্ত দুটি প্যাসেজওয়ে সহ সাইপ্রাস। আর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হলো পশ্চিমে জিব্রালটার প্রণালী, যার প্রস্থ হলো ৮.৫ মাইল। পূর্বে হলো টার্কিস প্রণালী (বসফরাস ও দার্দানেলিশ) এবং সুয়েজ খাল।
প্রাচীনকাল থেকে মানব সভ্যতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই মেরিটাইম ওয়াটারওয়ে বা জলপথ দখলে রাখার জন্য নানা উপায়ে সংগ্রাম করে আসছে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় ও ভূমধ্যসাগরের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ সাগরের উপকূলে তিন মহাদেশের ২১টি রাষ্ট্র রয়েছে এবং প্রতিটির নিজস্ব স্বার্থ, নীতি-আদর্শ ও অর্থনৈতিক-সামরিক লক্ষ্য রয়েছে। এ সকল রাষ্ট্রগুলোর কয়েকটি শিল্পোন্নত দেশ আবার কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ। এই অঞ্চলকে বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল, সংকট প্রবণ ও যুদ্ধ প্রবণ অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। সুদুর অতীতকাল থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে অনেক যুদ্ধ-সংঘাত সংঘটিত হয়েছে।
এই অঞ্চলের মধ্যপ্রাচ্য সবচেয়ে যুদ্ধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। এখানকার আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, তুরস্ক গ্রীসের মধ্যে সাইপ্রাস নিয়ে যুদ্ধ, লেবাননের জাতীয় যুদ্ধ, মরোক্ক-আলজেরিয়া, মৌরিতারিয়ান সংকট, হাল আমলের লিবিয়ার সংকট, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও এই অঞ্চলে সন্ত্রাসের ব্যাপকতা বিশ্বের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে, ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
ভূমধ্যসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এটি যে, এ সাগরের নৌরুটের মাধ্যমে বিশ্বের পূর্ব হতে পশ্চিম এবং উত্তর হতে দক্ষিণ প্রান্তের পৃথিবীর মধ্যে নৌযোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে, যা সারা বিশ্বের নৌবাণিজ্যকে সহজতর করেছে। সংক্ষিপ্ত পথে উন্নত বিশ্ব যেমন তেল সহ কাঁচামাল আমদানী করতে পারছে, তেমনি অপরাপর দেশগুলো উন্নত দেশ থেকে সহজে তার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আমদানী করতে পারছে। অর্থাৎ আমদানী-রপ্তানীর ক্ষেত্রে এই নৌরুট দিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রব্যাদি আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে ভূমধ্যসাগর। নিজেদের অর্থনৈতিক কারণেই উন্নত-অনুন্নত রাষ্ট্রগুলো পরস্পর-পরস্পরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য সচেষ্ট থাকে।
ভূমধ্যসাগর কমার্শিয়াল নেভিগেশনের ট্রেডরুট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন তিন হাজার কমার্শিয়াল জাহাজ, বোট, কন্টেইনার, ফিশিং বোট, তেলবাহী জাহাজ ইত্যাদি বিশ্বের নানা অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকে-যার দ্বারা প্রায় এক মিলিয়ন দ্রব্যাদি আদান-প্রদান হয়ে থাকে প্রতিদিন।
পশ্চিম এশিয়ার উন্নত রাষ্ট্রগুলোর অর্থনীতিতে ৪০% শতাংশ পেট্রোলিয়াম সুয়েজখাল দিয়ে অতিক্রম করে। বার্ষিক প্রায় একুশ হাজারের অধিক ভেসেলস সুয়েজখাল দিয়ে চলাচল করে। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৭-১৯৭৫ সময়কালে এই খাল বন্ধ থাকার কারণে ১৬ বিলিয়ন আমেরিকান ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলো বিশ্ববাসী। এর থেকেই সুয়েজ খালের কৌশলগত গুরুত্বে বিষয়টি বোঝা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের চেয়েও ভূমধ্যসাগরের সামরিক গুরুত্ব অত্যধিক। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের ভূমধ্যসাগরের যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় যুদ্ধেরই সিদ্ধান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলো ঐ সাগরের যুদ্ধ। ফলে সেই সময় থেকে বিশ্ব পরিমন্ডলে, বিশেষ করে সুপার পাওয়ারগুলোর নিকট ভূমধ্যসাগরের গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধ এবং শান্তি উভয় দিক বিবেচনায় রেখেই এ সাগরের গুরুত্বের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।
সৈন্য সমাবেশ, যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং নৌযুদ্ধের সুবিধার বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই ভূমধ্যসাগরের গুরুত্বের ব্যাপারে সামরিক বিশেষজ্ঞরা এ সাগরের ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। এ সাগরের দীর্ঘ বিস্তৃতি তীর-উপকূল, ছোট ছোট প্রচুর হৃদ, গালফ ইত্যাদি থাকার কারণে যুদ্ধের সরঞ্জাম সরবরাহ লাইন ও স্টেশন স্থাপন করা যেমন সম্ভব হবে; তেমনি সৈন্যের সমাবেশ ঘটানোর সুবিধা আছে। আর যুদ্ধ জাহাজগুলো প্রয়োজনের সময় লুকিয়ে থাকারও সুযোগ রয়েছে এ সাগরের বিভিন্ন স্থানে। এ সাগরের অসংখ্য বেসিন ও কৌশলগত চৌক পয়েন্টগুলোর সাথে কানেকটিং সুবিধা, যেমন জিব্রালটার, সিসিলি, মাল্টা, ক্যাপবন, ক্রয়েট এবং সুয়েজখাল এর সাথে সংযোগ থাকায় নৌযুদ্ধের জন্য এ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ভূমধ্যসাগরের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। প্রাচীন যুগেও এটি ঐতিহাসিক ট্রেড রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বর্তমানকালেও এটি ব্যস্ততম একটি ট্রেড রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাথর যুগে এ সাগরের উপকূল আবিষ্কৃত হয়েছিলো এবং ৩০০০ বিসিই সময়কালে মিসরীয়রা প্রথম এ সাগরে দখলদারিত্ব স্থাপন করেছিলো বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন। তখন থেকেই মিসরীয় বণিকরা নৌবাণিজ্য শুরু করেছিলেন ভূমধ্যসাগর পথ দিয়ে এবং একই সাথে পৃথিবীর নানা প্রান্তে উপনিবেশ স্থাপনের জন্য এই নৌরুট ব্যবহার করেছিলো সাম্রাজ্যগুলো। এসব কারণে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন যুগের সা¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এ সাগর দখলের জন্য সংঘাত-যুদ্ধ ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়েছিলো এবং এ কারণে বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে এ সাগরের নিয়ন্ত্রণ ও দখলদারিত্বের হাত বদল হতে দেখা গেছে। যেমন মিসরীয়দের থেকে মিনওআন, পেনিসিয়ান, গ্রীক এবং পরবর্তীকে রোমান সভ্যতার নিয়ন্ত্রণে ছিলো ভূমধ্যসাগর।
আর সুয়েজ খাল উন্মুক্ত হওয়ার পরে ইউরোপীয়ানদের নিকট ভূমধ্যসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। বিশেষ করে বৃটেন এবং ফ্রান্স বিশ্বের নানা অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপনের জন্য এই নৌরুট ব্যবহার করেছিলো। আর কৃষ্ণসাগর ভূমধ্যসাগারে প্রবেশ করে উষ্ণ পানির স্বাদ পেয়েছিলো।
বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায়ও ভূমধ্যসাগরের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। আমেরিকানদের জন্য যেমন তেমনি রাশিয়া, চীন প্রভৃতি বৃহৎ শক্তিগুলোর বর্হি:বাণিজ্য সম্পন্ন করা, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা, সামরিক সরঞ্জাম আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে এ সাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। আর চীনের জন্য এর গুরুত্ব আরো বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আফ্রিকায় চীনের সামরিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন স্বার্থ রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যেও রয়েছে তার সামরিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ-যেমনটা আমেরিকার ও রাশিয়ার রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলোর তেল তিন বৃহৎ শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যও এর গুরুত্ব প্রশ্নাতীত। অর্থাৎ ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সামরিক ও কৌশলগত কারণে ভূমধ্যসাগরের গুরুত্ব চীন, রাশিয়া ও আমেরিকার জন্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর জন্যও এর গুরুত্ব অনেক বেশি হওয়ায় ভূমধ্যসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা থেকে এখান থেকেই পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • প্রয়োজন সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন
  • চোরাকারবার বন্ধে চাই কৌশল
  • জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল
  • একটি বর্ণনাতীত ভাষ্য
  • Developed by: Sparkle IT