উপ সম্পাদকীয়

সুস্থ পশু কোরবানি : প্রয়োজন সতর্কতা

মো. জহিরুল আলম শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৩:১১ | সংবাদটি ১৭১ বার পঠিত

কোরবানি ইসলামের অন্যতম একটি বিধান এবং একটি ফজিলতময় ইবাদত। এটি মুসলিম উম্মাহর সমুন্নত ঐতিহ্যের একটি অন্যতম নিদর্শন। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ:) এর ত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অনুপম দৃষ্টান্ত হলো কোরবানি। হিজরি বছরের জিলহজ মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ আগামী ১২ আগস্ট ২০১৯, রোজ সোমবার আমাদের ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। এই কোরবানিতে সারাদেশে আল্লাহর নামে প্রায় সোয়া কোটি গবাদি পশু জবাই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এই জবাই করা পশুর মাংস কোটি কোটি ধনী দরিদ্র মুসলিম মানুষের খাদ্য তালিকায় যুক্ত হয়। যা থেকে মানুষের প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। তাই কোরবানির পশু সুস্থ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। যেহেতু কোরবানির মাংস মানুষে খায় তাই ভেজালমুক্ত ও নিরোগ পশুর মাংস হওয়া উচিত। কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা আমাদের উদ্দেশ্য। তাই পশু কেনার সময় ইসলামের বিধি-বিধান ও শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানির উপযুক্ত কিনা তা বুঝে শুনে পশু ক্রয় করা একান্ত দরকার। ইসলামে-এ ব্যাপারে বেশ নির্দেশনা রয়েছে। হযরত বারা ইবনে আজেব (রা:) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন, চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না। (১) যে পশুর চোখের জ্যোতি ক্ষতিগ্রস্ত, (২) যে পশু অতি অসুস্থ, (৩) যে পশু বেশি খোঁড়া, (৪) যে পশু অত্যধিক শীর্ণকায় (হালকা পাতলা) (তিরমিজি-১৪৯৭)। কোরবানির পশু সুন্দর ও নিখুঁত হওয়া চাই। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন কোরবানিকৃত পশুর লোম, খুর ও শিংসহ উপস্থিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ ৩১২৬)। এ ব্যাপারে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের কোরবানির পশুগুলো শক্তিশালী ও মোটাতাজা দেখে নির্বাচন কর। কারণ এগুলো পুলসিরাতের ওপর তোমাদের বাহন হবে।’ (মুসনাদুল ফিরদাউস ১/৮৫)। সুতরাং আমাদের কোরবানির পশুগুলো সতর্কতার সাথে ক্রয় করতে হবে।
এ বছর দেশে প্রচুর দেশি গরু রয়েছে যা কোরবানির জন্য প্রস্তুত। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি পশু কোরবানির উপযোগী আছে। তার মধ্যে গরু মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩। ছাগল ভেড়ার সংখ্যা ৭২ লাখ। সরকারি ৮টি খামারে উট-দুম্বাসহ কোরবানিযোগ্য প্রাণি আছে সাত হাজার। গত বছর কোরবানিতে জবাই হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ পশু। এর মধ্যে গরু ৪৪ লাখ, ছাগল ভেড়ার সংখ্যা ৭১ লাখ। বাংলাদেশে মোট নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ৬৬ হাজার। অনিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ৭০ হাজার। এসব খামারে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দেশের পশু সম্পদ বাড়ছে। এতে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হচ্ছে। গরু মোটাতাজাকরণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে আড়াই শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করা হয় খামারিদের। এই সুযোগে বেকার তরুণরা গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। ফলে দেশে গরু ছাগলের উৎপাদন ৩ লাখে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ এখন গরু ছাগলের উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০১৮ সালে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে ঘোষণা করে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য মতে, গবাদি পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ১২তম স্থান দখল করে আছে। এককভাবে ছাগল উৎপাদনে চতুর্থ এবং ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৩৯টি উপজেলায় বর্তমানে ৩৫ হাজার ৬৬৫টি ছোট বড় গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ খামার রয়েছে। এসব খামারে পশু আছে ২ লাখ ২ হাজার ৯০২টি। তাছাড়া এর বাইরে কৃষকদের হাতে আরো প্রায় ৩ লাখ গবাদি পশু। সিলেট জেলায় খামার আছে ১০ হাজার ৮৪৩টি। পশু আছে ৮৭ হাজার ১৯০টি। মৌলভীবাজার জেলায় খামার আছে ৭ হাজার ৪৭টি। পশু আছে ২৭ হাজার ৫০৭টি। হবিগঞ্জ জেলায় খামার আছে ৮ হাজার ১৩৭টি। পশু আছে ২৯ হাজার ৯৬টি। সুনামগঞ্জ জেলায় খামার আছে ৯ হাজার ৬৩৮টি। পশু আছে ৫৯ হাজার ১০৯টি।
প্রতি বছর কোরবানি আসলে অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু খামারি ও অসাধু গরু ব্যাপারিরা নানা অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে পশুকে মোটাতাজাকরণ করে হাট বাজারে বিক্রি করছে। ফলে ক্রেতারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ ব্যাপারে অনেক খবর পত্রিকার পাতায় আমরা পড়ি। গরু মোটাতাকজাকরণ একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। যা বাংলাদেশ পানি সম্পদ অধিদপ্তর ও পশু চিকিৎসক কর্তৃক স্বীকৃত। এতে গরুকে সুষম খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে লালন পালন করে ধীরে ধীরে মোটা করা হয়। দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীরা এ বিষয়ে সরকারি প্রশিক্ষণ নিয়ে গরুর খামার স্থাপন করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছে। অতি অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় গরু ব্যবসায়ী, খামারি, গৃহস্থ কেউ কেউ অতি অল্প সময়ে গরুকে মোটাতাজা করতে দেশের প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে এবং পশু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিষিদ্ধ স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ও নানা প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে গরুকে মোটা করে তুলছে। স্টেরয়েড হিসেবে যা গরুকে খাওয়ানো হয় তা মানুষের ঔষধ। যেটি ডেক্সামিথাসন গ্রুপের। এর গ্রুপভুক্ত হলো ডাইক্লোফেনাক, ওরাডেক্সন, স্টেরন ডেক্সাসন, অ্যাডাম কোরটান, কোরটিজল, হাইড্রো কোরটিজল ইত্যাদি। তাছাড়া অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করে গরুকে দ্রুত অস্বাভাবিক মোটা করা হয়। আসলে স্টেরয়েডের সরাসরি প্রভাবে তীব্র ক্ষুধা ও পিপাসা অনুভূত হওয়ার কারণে গরুর খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে পরিপাকতন্ত্রে অসহনীয় চাপ পড়ে অতিরিক্ত খাবার হজম না হয়ে গরুর কিডনিতে আঘাত করে। তখন অতিরিক্ত পানি ও মূত্র অনিষ্কাশিত অবস্থায় শরীরে ছড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়। এতে শরীর ফোলে যায় এবং স্বাস্থ্যবান মনে হয়। আসলে এগুলো প্রকৃত স্বাস্থ্য নয়। শুধু দূষিত পানি। পর্যাপ্ত জ্ঞান, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকায় এমন অনৈতিক কাজ বেড়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির যত উন্নতি ঘটছে মানুষের তত নৈতিক অধঃপতন ঘটছে। কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ গরুর মাংস অবশ্যই দূষিত। যা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে হালাল নয়। কারণ কোরবানির মূল শর্তই হচ্ছে সুস্থ, সবল ও নিখুঁত পশু হওয়া। নানা কেমিক্যাল ও রাসায়নিক পদার্থ খাওয়ানো গরুর মাংস বিষ যুক্ত যা মানুষে খাওয়ার পর কিডনি, লিভার, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নানা ক্ষতিকর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এসব দূষিত মাংস ফ্রিজে রেখে খেলেও মারাত্মক ক্ষতিকর। রান্নার সময় আগুনের তাপেও ঔষধের কার্যকারিতা নষ্ট হয় না। ফলে মানবদেহে প্রবেশ করে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ইউরিয়া সার সেবন করে গরু মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের মস্তিষ্ক, লিভার, সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়। তাছাড়া ডায়রিয়া, মাথা ব্যথা, হাত পা অবশ হওয়া, আলসার, পেটে পানি আসা ও হাড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার যেসব গরুকে গ্রোথ হরমোন খাওয়ানো হয়, তার মাংস খেলে মানব শরীরের হরমোনের সাথে মিশতে পারে না বা ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারে না। ফলে এর মারাত্মক প্রতিক্রিয়ায় নারী পুরুষ বা পুরুষ নারীতে রূপান্তরিত হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় এ সব ঔষধ খেয়ে শরীরে জমা হয়ে টিউমার, ক্যান্সার ও কিডনি নষ্ট করার মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। নারী পুরুষের ক্রোমোজোমের সমস্যা সৃষ্টি করে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। ফলে অটিজমের সমস্যা হয়ে সন্তান জন্ম হয়। তাছাড়া মেয়েদের বাচ্চা হওয়ার ক্ষমতা নষ্ট করে ফেলে। ফলে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হয়। অল্প বয়সে মেয়েরা অতিরিক্ত মোটা হয়ে ওঠে।
সুস্থ পশু চেনার উপায় : পুরোদমে গ্রাম, শহরে সর্বত্রই কোরবানির পশু কেনার ধুম পড়েছে। সুস্থ সবল পশু কিনতে ক্রেতাগণ অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কোনো প্রকার ছলছাতুরি বা ধোকায় পড়ে পশু ক্রয় করবেন না। দেখে শুনে, জেনে পশু ক্রয় করবেন। সুস্থ পশু চিনতে নি¤œলিখিত ব্যবস্থার প্রতি খেয়াল করবেন।
(১) পশুর শরীর ভালো করে দেখুন। পশুটি ভালোভাবে জাবর কাটছে কি না অর্থাৎ মুখে খাবার চিবাচ্ছে কি না। ভালো মতে শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে কি না। জোরে জোরে শ্বাস নিলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলে মনে করবেন পশুটি অসুস্থ।
(২) পশুর রানে বা রানের পেছনের অংশে কোনো প্রকার ফুলা আছে কি না, ইনজেকশনের চিহ্ন আছে কি না, এসব চিহ্ন পশুর অসুস্থতা প্রকাশ করে। ভালো মতে খেয়াল করুন শরীরে কোনো স্থানে ফোড়া বা টিউমার আছে কি না। থাকলে এ ধরনের পশুতে ক্যান্সারের জীবাণু থাকতে পারে। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
(৩) জেনে নিতে হবে পশুর বয়স। এক বছর বয়স ও অতি অল্প বয়স্ক পশু না কেনাই ভালো। ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক গরু মহিষের সর্বনি¤œ বয়স ২ বছর। ছাগল, ভেড়া, দুম্বার বয়স এক বছর হওয়া উচিত। উটের সর্বনি¤œ বয়স ৫ বছর। মধ্যম বয়সের পশু কোরবানি করা উত্তম।
(৪) সুস্থ পশু খাবার খেতে আগ্রহী হয়।
(৫) কোনো কোনো বিক্রেতা গরুর সাধারণ খাবার ঘাস, খড়, পাতা না দিয়ে শুধু পানি বা লবণ মেশানো পানি খাওয়ান। এতে পশুর প্রচুর পিপাসা পায় এবং পশু প্রচুর পানি পান করে। এ সময় পেট শক্ত লাগে। শরীরে হাত দিলে বুঝা যায় এটি পরিপক্ক পশু নয়।
(৬) পশুর চোখ খেয়াল করুন লালছে ভাব থাকলে পশুটি রোগাক্রান্ত। সুস্থ পশুর চোখ স্বচ্ছ ও ঝলমলে।
(৭) পশু পালে থাকতে পছন্দ করে। পশুটি ছেড়ে দিলে যদি দৌড়ে পালে চলে যায় তাহলে তা সুস্থ পশু। অসুস্থ পশু চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে। নড়াচড়া কম করবে।
(৮) পশুর চামড়ার ওপরের দাগ থাকলে, ঘাঁ থাকলে, লোম না থাকলে কোনো চর্মরোগ থাকলে মনে করবেন পশুটি সুস্থ নয়। সুস্থ পশুর চামড়া থাকবে সতেজ ও নিখুঁত।
(৯) পশুটি কেনার সময় ভালো করে খেয়াল করুন পশুটি হাটতে পারছে কিনা, পায়ের খুড়ায় কোনো প্রকার ঘাঁ আছে কিনা। ঘাঁ থাকলে পশুটি রোগাক্রান্ত।
প্রতিকার : সুস্থ সবল পশু ক্রয় করার সময় জনগণকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। সরকার ও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর ঔষধ প্রয়োগ করে পশু মোটাতাজাকরণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে গণমাধ্যমে, টিভি, রেডিও, পত্র-পত্রিকায় ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। যাতে এ ব্যাপারে জনগণ সচেতন হয়ে ওঠতে পারে। দেশের হাট বাজারগুলোতে পশু চিকিৎসক সমন্বয়ে ভ্রাম্যমান দল গঠন করে গরুর বাজার তদারকি করতে হবে। অস্বাভাবিক পশু বাজারে উঠলে তা পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। মারাত্মক রাসায়নিক দ্রব্য পশুর দেহে পাওয়া গেলে তা জবাই করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। বর্তমান সময়ে মোবাইল কোর্ট, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষগুলোকে ভেজাল প্রতিরোধে মাঠে নামতে হবে। মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এবং ১০২ নং তফসিলে মৎস্য খাদ্য ও পশু খাদ্য আইন ২০১০ এ এটি অন্তর্ভুক্ত। এ আইনের ১২(১)(ক) ধারা মতে মৎস্য বা পশু খাদ্যে মানুষ, পশু, মৎস্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ থাকলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই আইনের ১৪(১) ধারা মতে মৎস্য ও পশু খাদ্য হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাছাড়া জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন ১৯২০ অনুযায়ী নিরাময় অযোগ্য রোগাক্রান্ত পশু ধ্বংস করতে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতাপ্রাপ্ত। ২০০৯ সালে বার্ড-ফ্লু যখন এদেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন লাখ লাখ মুরগি মেরে ফেলা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে ‘ম্যাড কাউ’ রোগ দেখা দিলে বিপুল পরিমাণ গরু মেরে ফেলা হয়। অননুমোদিত স্টেরয়েড ঔষধ যাতে অতি সহজে কেউ বিক্রি করতে না পারে তার কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পশু বা গরু সীমান্তে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর, মোবাইল কোর্ট ও বিজিবি কর্তৃক ‘কিট’ ব্যবহার করে রক্ত, হরমোন পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আসুন আমরা সবাই সচেতন ও সতর্ক হই। ভেজালমূলক কাজ থেকে মুক্ত হই। খাঁটি ও নিখুঁত পশুকে আল্লাহর নামে কোরবানি করি। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সহি নিয়ত করি। আল্লাহ সকল মুসলমানের কোরবানি কবুল করুক। আমিন।
লেখক : কলামিস্ট, শিক্ষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • প্রয়োজন সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন
  • চোরাকারবার বন্ধে চাই কৌশল
  • জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল
  • একটি বর্ণনাতীত ভাষ্য
  • Developed by: Sparkle IT